Adhir Ranjan Chowdhuryগত লোকসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের ইউসূফ পাঠানের কাছে পরাজিত হয়ে এখন প্রাক্তন সাংসদ হয়েছেন অধীর চৌধুরী। মুর্শিদাবাদে সাংগঠনিক কাজই দেখাশোনা করছেন তিনি। সেই অধীর কি আসন্ন বিধানসভা ভোটে প্রার্থী হবেন? উত্তর দিলেন নিজেই।
আজ বৃহস্পতিবার অধীর চৌধুরীকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি হাসিমুখে বলেন, 'ভোটে লড়ব কি না আমি এখনও সেই সিদ্ধান্ত নিইনি। আমরা কংগ্রেস দল, সবাই একসঙ্গে লড়ব। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিইনি যে, লড়ব কি না।'
প্রসঙ্গত, আজই এআইসিসি জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস এবারের ভোটে ২৯৪ আসনে একাই লড়বে। অন্য কোনও দলের সঙ্গে জোট করবে না। দিল্লিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের নেতাদের বৈঠকের পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে ছিলেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী, সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল, পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা গুলাম আহমেদ মির, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী এবং সাংসদ ইশা খান চৌধুরী। সূত্রের খবর, বেশিরভাগ নেতা পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের একা লড়ার পক্ষে সওয়াল করেন।
সেই বৈঠক প্রসঙ্গে অধীর চৌধুরী জানান, হাইকমান্ড একা লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই তিনিও সেই নির্দেশ পালন করবেন। প্রদেশ কংগ্রেসের জরিপের ভিত্তিতেই যাবতীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে এআইসিসি। তবে জোটে লড়ে ২০১৬ সালে কংগ্রেস দল যে রাজ্যের প্রধান বিরোধী হয়েছিল তাও মনে করিয়ে দেন তিনি। বলেন, 'আমি সাধারণত জেলার প্রতিনিধি হিসেবে বৈঠকে যাই। পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি থাকাকালীন আমি কী করেছি তা সবাই জানেন। ২০১৬ সালে আমরা বামেদের সঙ্গে জোট করেছিলাম। প্রদীপ ভট্টাচার্য এবং আব্দুল মান্নানকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে রেখেছিলাম। সেবার প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা অর্জন করেছিলাম। তবে এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। অনেক উত্থান-পতন এসেছে। জরিপের ভিত্তিতে হাইকমান্ড মনে করেছে দল একা লড়ার জন্য উপযুক্ত। আমিও সেই সিদ্ধান্ত মেনেছি। এটা আমার কর্তব্যও।'
মুর্শিদাবাদ এক সময় কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ছিল। অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বে সেখানে বরাবর লড়াই করে এসেছে কংগ্রেস। ভালো ফলও পেয়েছে। সেই জেলায় ছাব্বিশের ভোটে দলের সম্ভাবনা নিয়ে লোকসভার প্রাক্তন কংগ্রেসের দলনেতা বলেন, 'মুর্শিদাবাদ নিয়ে আলাদাভাবে কিছু বলা যাবে না। আমি সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে পারি। এই জেলায় কংগ্রেস একার শক্তিতে লড়তে পারে। তার মানে এই নয় যে আমি কারও সঙ্গে বোঝাপড়ার বিরুদ্ধে কথা বলছি। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কংগ্রেস একা লড়তে পারে। আমরা এই জেলায় অনেক দিন ধরে একা লড়াই করে এসেছি।'