কংগ্রেস CPIM জোট বাংলায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেই লড়বে CPIM। কেরলে তিরুবনন্তপুরমে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে এমনটাই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে কংগ্রেস এই প্রস্তাবে একমত হয় কি না, তা অবশ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
CPIM তাদের কেন্দ্রীয় কমিটির ৩ দিনের বৈঠক শেষে জানিয়েছে, অসম এবং পুদুচেরিতে BJP বিরোধী দলগুলির সঙ্গে বোঝাপড়া করে লড়তে চায়। সেক্ষেত্রে তারা যে কংগ্রেসকেই বোঝাতে চাইছে, তা কার্যত স্পষ্ট। তামিলনাড়ুতে শাসকদল DMK-র সঙ্গে হাত মেলাতে চায় বামেরা। CPIM DMK জোট গড়ে ভোটের লড়াইয়ে সামিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হল সে রাজ্যে।
জানা গিয়েছে, তিরুবনন্তপুরমে CPIM তাদের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে বাংলার বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছে। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় কমিটি এবং বাংলার একাংশ কংগ্রেসকে ছাড়া একলা লড়াই করার পক্ষে ছিলেন। তাদের ধারণা, ২০২১-এ কংগ্রেসের সঙ্গে ভোট করে তেমন কোনও লাভ হয়নি CPIM-এর। লাভ হয়নি ২০২৪ সালেও।
তিরুবনন্তপুরমের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে CPIM সমর্থন পুনরুদ্ধারে বেশি জোর দেবে। শূন্য গেরো কাটানোর মূল লক্ষ্য। একইসঙ্গে ভোটের হার বাড়ানোও টার্গেট তাদের। সব আসনে জোরদার লড়াই করেও ভোট বেহাত যাতে না হয় সেদিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে। ফলত CPIM কেন্দ্রীয় কমিটির মিটিং শেষে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে BJP এবং তৃণমূলের উভয়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাকি সম মনোভাবাপন্ন দলের সঙ্গে একজোট হবে। বৈঠকের পর প্রকাশিত ইস্তেহারে বলা হয়েছে, 'পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল এবং BJP, উভয়কে পরাজিত করতে আমরা লড়ব। কারণ তারা সমাজে মেরুকরণের চেষ্টা করছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে সমস্ত শক্তিকে একত্রিত করার চেষ্টা করব।'
অন্যদিকে, কেরলে অবশ্য LDF লড়বে চিরাচরিত প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের বিরুদ্ধেই।
প্রসঙ্গত ২০১৬-তে বাম কংগ্রেস বোঝাপড়া করে বিধানসভায় নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছিল। যদিও বামেদের তুলনায় কংগ্রেসের প্রাপ্ত আসন ছিল দ্বিগুণের বেশি। ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে বামেরা একটি আসনও পায়নি। শরিক কংগ্রেস দু'টি আসনে জয় পায়। ২০২১ সালে বছরের মাথায় বিধানসভা ভোটে বাম এবং কংগ্রেস একটি আসনও দখল করতে পারেনি। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে বামেদের ঝুলি শূন্যই থেকে যায়।
এদিকে, বর্তমান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বামেদের সঙ্গে জোট নিয়ে আগে থেকেই অনীহা প্রকাশ করে রেখেছেন। বামেদের সঙ্গে জোট করে কংগ্রেসের ভোট ফেরানো সম্ভব নয় বলেই মনোভাব তাঁর। যেহেতু তৃণমূলের একাংশ দলের প্রতি বিতশ্রদ্ধ হয়ে শিবির বদলে আগ্রহী। ফলে কংগ্রেস বামেদের সঙ্গে থাকলে তারা হাত শিবিরকে সমর্থন করতে নারাজ। আর তাই কংগ্রেসের একাংশ মনে করছে দলের ভোট ব্যাঙ্কের বেশিরভাগটাই যেহেতু রয়েছে তৃণমূলের ঝুলিতে, সেহেতু ভোট ফেরাতে হলে বামেদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করতে হবে। তবে CPIM মনে করছে, BJP ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে বাম কংগ্রেসের বোঝাপড়া করা ছাড়া কোনও বিকল্প খোলা নেই।