রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব হবেন এবার ভিনরাজ্যের অবজারভার, প্রশিক্ষণের নির্দেশ EC-রবিধানসভা নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। তার আগেই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিবকে ভিনরাজ্যে অবজার্ভার হিসেবে কাজ করার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের কাজে অবজার্ভার হিসেবে ভিনরাজ্যে পাঠানো হতে পারে তাঁকে।
জানা যাচ্ছে, রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিবকে এবার নির্বাচনের জন্য অবজার্ভারের দায়িত্ব দিতে চলেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। অসম, কেরল, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ, পুদুচেরি এই রাজ্যগুলিতে বিধানসভা নির্বাচনের জন্য অবজার্ভারদের প্রশিক্ষণের তালিকা দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সেই তালিকাতেই রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব জগদীশপ্রসাদ মিনার নাম। জানা যাচ্ছে বাংলার স্বরাষ্ট্র সচিবের পাশাপাশি হাওড়ার পুলিশ কমিশনারকেও অন্যান্য রাজ্যের জন্য পর্যবেক্ষক প্রশিক্ষণ নিতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি তাঁদের ট্রেনিং নেওয়ার সময় ধার্য করা হয়েছে।
হাওড়ার পুলিশ কমিশনার প্রবীণ ত্রিপাঠীকে অন্যান্য রাজ্যের জন্য নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে প্রশিক্ষণ নিতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জানা যাচ্ছে, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে এই রাজ্যের একাধিক আইএএস ও আইপিএস অফিসারদের অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ করার তালিকা পাঠানো হয়েছে। এই তালিকায় নাম রয়েছে কয়েকটি পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনারদেরও, যা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে। প্রসঙ্গত, এই বছর পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, তামিলনাড়ু, অসম এবং পুদুচেরিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। 'SIR' ইস্যু নিয়ে কমিশন এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই পদক্ষেপটি জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে।
এদিকে, এক রাজ্যের অফিসারদের অন্য রাজ্যে অবজার্ভার করা হয় ঠিকই, তবে স্বরাষ্ট্রসচিবকে এভাবে ডাকা যায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের যুক্তি হল, নিয়ম মেনে অবজার্ভারের তালিকা চেয়ে রাজ্য সরকারকে পাঁচ বার রিমাইন্ডার দিয়েছিল কমিশন। তারপরও কোনও তালিকা দেয়নি রাজ্য। তারপরই স্বরাষ্ট্রসচিব ও সিপিকে অবজারভার হিসেবে নিয়োগ করার কথা জানানো হয়েছে। তবে ট্রেনিং নিলেই যে তাঁদের অবজারভার হিসেবে নিয়োগ করা হবে, তেমনটা নয়।
এদিকে চলতি সপ্তাহেই এসআইআর (SIR) পরিস্থিতির মধ্যেই রাজ্যের ২৩টি জেলায় ২৩ জন সিনিয়র অফিসার নিয়োগ করেছে নবান্ন। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে জেলাভিত্তিক এই নিয়োগ করা হয়েছে। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাক্তন জেলাশাসক ও একাধিক দফতরের সচিব পর্যায়ের আধিকারিকদের এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।