Central Force নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবার কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। নতুন নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের বাইরে সংলগ্ন এলাকা, অর্থাৎ ‘ক্যাচমেন্ট এরিয়া’-তে যদি হিংসা বা ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ ওঠে, তা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট বুথে পুনর্নির্বাচন হতে পারে। এমনকি বুথের ভেতরে ভোটগ্রহণ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ হলেও এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
এতদিন পর্যন্ত পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত মূলত নির্ভর করত বুথের ভেতরের পরিস্থিতির ওপর, যেমন হিংসা বা জাল ভোটের অভিযোগ। কিন্তু এবার সেই সীমা বাড়িয়ে বুথের বাইরের পরিবেশকেও গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন। এক পুলিশ আধিকারিকের কথায়, 'এধরনের নির্দেশ আগে কখনও দেওয়া হয়নি। এবার সংলগ্ন এলাকার পরিস্থিতিও সমানভাবে বিবেচিত হবে।'
যদিও ‘ক্যাচমেন্ট এরিয়া’-র নির্দিষ্ট কোনও সংজ্ঞা নেই, তবে সাধারণভাবে ভোটকেন্দ্রের আশপাশের এলাকাকেই এই পরিসরের মধ্যে ধরা হচ্ছে। বুধবার কলকাতায় রাজ্য ও শহর পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে কমিশন এই নির্দেশ স্পষ্ট করে দেয়।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায়ও এসেছে বড় পরিবর্তন। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে এবার শুধু ভোটের আগে ‘এরিয়া ডমিনেশন’ বা বুথের নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ রাখা হবে না; প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও তাদের ব্যবহার করা যাবে। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তারা।
এছাড়াও, ভোটকেন্দ্রে বসানো ওয়েবকাস্টিং ক্যামেরার ফুটেজ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবে নির্বাচন কমিশন। এতে ভোট প্রক্রিয়ার উপর আরও কড়া নজরদারি নিশ্চিত করা যাবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি শহরে একটি হিংসার ঘটনার প্রেক্ষিতেই এই কড়া অবস্থান নিয়েছে কমিশন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। এর পাশাপাশি আসন্ন উৎসব, ইদ, রামনবমী ও হনুমান জয়ন্তী ঘিরেও সতর্ক রয়েছে প্রশাসন। পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেকোনও মূল্যে আইনশৃঙ্খলা বজায় রেখে উৎসব ও নির্বাচন, দু’টিই শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে হবে।