
হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে মহম্ম সেলিমের বৈঠক ও বামেদের জোট জল্পনা২০২১ সালে ISF (ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট) তৈরি হল। CPIM তথা বামফ্রন্ট জোট গড়ে ফেলল। ২০২৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের নতুন গড়লেন। নাম জনতা উন্নয়ন পার্টি। সেই দলের সঙ্গেও এখন জোট জল্পনা চলছে সিপিএম-এর। মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে হুমায়ুন কবীরের বৈঠক ঘিরে যখন জোট চর্চা চলছে, তখন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের কুণাল ঘোষ, একযোগে কটাক্ষ শুরু করেছেন।
একুশ থেকে CPIM-এর নয়া ট্রেন্ড
বস্তুত, গত বিধানসভা নির্বাচন থেকেই CPIM-এর একটি ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি হলেই সিপিএম জোটের পথে হাঁটছে। যদিও হুমায়ুনের দলের সঙ্গে জোট চূড়ান্ত হবে কিনা, তা এখনও প্রশ্নের আবহেই রয়েছে, তবু নিউটাউনের বিলাসবহুল হোটেলে সেলিম ও হুমায়ুনের মিটিংয়ের যা নির্যাস, তা মূলত জোট। হুমায়ুনের দাবি, তিনি সেলিমকে ডেডলাইন দিয়েছেন, ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জোটের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে। এবং এখনও পর্যন্ত খবর, বামেদের সঙ্গে জোটের আলোচনায় সিনে নেই কংগ্রেস।
একমাত্র আইএসএফ সেই জোটের মুখরক্ষা করেছিল
গত বিধানসভা ভোটে ISF, কংগ্রেসের সঙ্গে জোট হয়েছিল বামেদের। একমাত্র আইএসএফ সেই জোটের মুখরক্ষা করেছিল। একটি আসন পেয়েছিলেন নওশাদ সিদ্দিকি। বাকিরা শূন্য। কংগ্রেস সেই খরা কাটাতে এবারের নির্বাচনে একা লড়ার পথেই হাঁটছে। এহেন পরিস্থিতিতে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে জোটের আলোচনা করছেন সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক।

সেই ব্রিগেডে ধরা পড়েছিল জোটের ফাটল
২০২১ সালে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ছিলেন অধীর চৌধুরী। ISF-এর সঙ্গে জোটে তাঁর ঘোর আপত্তি ছিল, তা তিনি ব্রিগেডের সভায় ক্ষোভ দেখিয়ে বুঝিয়েও দিয়েছিলেন। সে বার ব্রিগেডে ‘সংযুক্ত মোর্চা’র প্রথম সভাতেই প্রকট হয়ে গিয়েছিল কংগ্রেস এবং আব্বাস সিদ্দিকির ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) মধ্যের ফাটল। আব্বাসকে ঘিরে উচ্ছ্বাস দেখে বক্তৃতা থামিয়ে চলে যেতে উদ্যত হন অধীর চৌধুরী। আবার বক্তৃতা জুড়ে বারংবার বামেদের ‘বন্ধু’ বলে উল্লেখ করলেও, কংগ্রেসের প্রতি সেই সৌজন্য দেখাননি আব্বাস।
'সেলিম, হালিম, ডালিম'
এবার হুমায়ুনের সঙ্গে জোটের আলোচনা চালাচ্ছে সেই সিপিএম। এই ঘটনায় অধীর তো একেবারে বলেই দিলেন, 'কে কার সঙ্গে জোট করবে, আমি কী করব! সেলিম হালিম ডালিম করবে, কী করব? সেলিম ভাই ওই দলের সেক্রেটারি। জানি না, জোটের বিষয়ে কী হয়েছে।'
তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ তো রীতিমতো ঠুংরি শুনিয়ে তীব্র কটাক্ষ করলেন। হুমায়ুন-সেলিম মিটিং নিয়ে কুণালের মন্তব্য, 'মহম্মদ সেলিম, সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক, তিনি নাকি কোন হোটেলে গিয়ে, যেখানে আবার বিজেপির নেতারা সব ওঠেন, বৈঠক করেন, খাওয়াদাওয়া করেন, সেখানে গিয়ে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। রাজনৈতিক দেউলিয়া, ভিক্ষাপাত্র হাতে হোটেলে হোটেলে ঘুরে বেড়াবার সংস্কৃতি হয়ে গিয়েছে সিপিএম-এর। ৩৪ বছর নাকি ক্ষমতায় ছিল! বামফ্রন্টের মুরোদ নেই সেলিমের নেতৃত্বে ২৯৪টি আসনে ভোটে লড়ার। কখনও কংগ্রেসের পায়ে ধরতে যায়, কখনও নওশাদ সিদ্দিকির পায়ে ধরে, শুনলাম নাকি বলছে, মন বুঝতে গিয়েছিলেন, এই সব প্রথম প্রথম প্রেমে পড়লে হয়।'