ভোটের আগে সিপিএম ছেড়েছেন প্রতীক-উর-রহমানভোটের আগে সিপিএম ছেড়েছেন প্রতীক-উর-রহমান। যা নিয়ে আলোচনার অন্ত নেই। একধাপ এগিয়ে এখন আবার জল্পনা ছড়িয়েছে হয়ত তিনি তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন। যদিও নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি প্রতীক উর রহমান৷ আবার তাঁর তৃণমূলে যাওয়ার জল্পনাকেও তিনি প্রকাশ্যে খারিজ করেননি৷ আর এই আবহেই প্রতীক উর তৃণমূলে আসছেন কি না, তা নিয়ে এবার মুখ খুললেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ৷
কুণাল ঘোষ বলেন, ‘যদির কথা নদীর পাড়ে। এখনই এই নিয়ে কথা বলব না। ও একটা বামেদের প্রতিষ্ঠিত নেতা। নতুন প্রজন্মের নেতাদের দমবন্ধ হচ্ছে সিপিএমে। এটাই আসল কথা। বাকি কথা পরে হবে।’কুণাল ঘোষ বলছেন, 'তৃণমূল কংগ্রেসে আসবে কিনা জানি না। আর বাকিটা দল সিদ্ধান্ত নেবে। তবে প্রতীক উরের মত ছেলেরা কিছু বায়োলজিক্যাল ফেরেববাজের জন্য ওই দলে কাজ করতে পারছিল না। প্রতীক উর এমন একটি ছেলে যে সংগঠনের কাজ করতো। প্রকৃত মার্কসবাদী। তাকে যদি কেউ ২২ লক্ষ টাকার গাড়ি ফ্রিতে দিত, তাও সে চড়ত না।' তবে প্রতীক উর ইস্যুতে সিপিএমকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি কুণাল ঘোষ৷ সিপিএমের অন্দরে গোষ্ঠীকোন্দল শুরু হয়েছে বলে দাবি করে তৃণমূল মুখপাত্র বলেন, ‘এটা সিপিএমের ভিতরের বিষয়। আমাদের বিষয় নয়। সিপিএম দল পচে গিয়েছে, গলে গিয়েছে। ওই সব আদর্শ চলে না। তার মধ্যেও কিছু ডেডিকেটেড লোক কাজ করেন। ওখানে এখন আড়াআড়ি বিভাজন চলছে। কাউকে বেশ প্রজেক্ট করা হবে। শ্রেণিজনিত সমস্যা। প্রতীক উরকে কেউ ২২ লক্ষ টাকার গাড়ি দিলেও তিনি চড়বেন না। কারণ ওঁর সেই বিশ্বাস আছে।’ কুণাল ঘোষের আরও দাবি, ‘সিপিএম দলটা আপাতত মহম্মদ সেলিম বনাম সুজন চক্রবর্তীর লড়াইয়ের জায়গা হয়েছে। সেলিম ঘনিষ্ঠরা কাঠিবাজি করছে। সিপিএমের নতুনরা এটা গ্রহণ করছেন না। ওদের ভাবনা সরে গিয়েছে।’
প্রসঙ্গত, ভোটের মুখে আচমকাই চিঠি দিয়ে রাজ্য কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন প্রতীক উর রহমান। সেইসঙ্গে সিপিএম ছাড়ার ঘোষণাও করেন। প্রতীক উরের লেখা সেই চিঠি ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। চিঠিতে লেখা রয়েছে, ‘সাম্প্রতিক সময়ে পার্টির ভাবনা ও কর্মপদ্ধতির সঙ্গে আমি নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছি না। এমতাবস্থায় আমি পার্টির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।' সাম্প্রতিক সময়ে পার্টির জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের বেশ কিছু ভাবনা এবং কর্মপদ্ধতির সঙ্গে তিনি নিজেকে খাপ খাইয়ে না নিতে পারার কারণে তাঁকে মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে, আর সেই কারণেই তিনি পার্টির জেলা ও রাজ্য কমিটির দায়িত্ব-সহ পার্টির প্রাথমিক সহস্য পদ থেকেও অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে চিঠিতে স্পষ্ট উল্লেখ করেন প্রতীক উর।