
বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে জোরদার হয়েছে প্রচার। প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পাশাপাশি শুরু হয়েছে অন্তর্দলীয় সমীক্ষা ও রাজনৈতিক হিসাবনিকাশ। এই আবহেই উত্তর ২৪ পরগনায় ‘বিচারাধীন ভোটার তালিকা’ ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।
অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস, যেসব বিধানসভায় গত নির্বাচনে বিজেপির ফল তুলনামূলকভাবে খারাপ হয়েছিল, সেখানেই নাকি বেশি সংখ্যায় মহিলা ভোটারদের ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রাখা হয়েছে। জোড়াফুল শিবিরের দাবি, পরিকল্পিতভাবেই মহিলা ভোটব্যাঙ্কে আঘাত হানার চেষ্টা চলছে। তাদের কথায়, বাংলার ‘লক্ষ্মী’দের লক্ষ্য করেই এই পদক্ষেপ।
পরিসংখ্যানও তুলে ধরছে তৃণমূল। যেমন, সীমান্তবর্তী স্বরূপনগরে মোট বিচারাধীন ভোটার ১৪,৩৭৭, এর মধ্যে মহিলা ৮,৫৩৬। বাদুড়িয়ায় ১৯,০৪১ জনের মধ্যে মহিলা ৯,৮০৮। মিনাখাঁয় মোট ৩২,৬১৪ জনের মধ্যে ১৭,২৫৬ জন মহিলা। অশোকনগরে ১৮,২৮৪ জন বিচারাধীন ভোটারের মধ্যে ৯,২৫১ জন মহিলা। সন্দেশখালিতেও ১২,৭৪৭ জন মহিলা ভোটার এই তালিকায় রয়েছেন। এই তথ্য তুলে ধরে তৃণমূলের প্রশ্ন, এভাবে কি মহিলা ভোট কেটে দিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে?
উল্লেখযোগ্যভাবে, জেলায় তৃতীয় লিঙ্গের ২৬ জন ভোটারকেও বিচারাধীন তালিকায় রাখা হয়েছে, যার মধ্যে বনগাঁ উত্তরেই রয়েছে সর্বাধিক, ৪ জন।
এরই মধ্যে মাইক্রো অবজার্ভার ও রোল অবজার্ভার নিয়োগ নিয়েও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তৃণমূল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচারাধীন ভোটারদের আবেদন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে এই নতুন অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়বে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে এই ‘বিচারাধীন তালিকা’ বিতর্ক উত্তর ২৪ পরগনার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, বিশেষ করে মহিলা ভোটারদের ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন ও জল্পনা।