শুভেন্দুর অভিযোগে কী বললেন হুমায়ুন?বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে তত বাংলায় পরস্পরের বিরুদ্ধে আক্রমণ বাড়াচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলি। মঙ্গলবারই রাজ্যের বিরোধী দলেনেতা শুভেন্দু অধিকারী সুর চড়িয়েছিলেন জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে। বুধবার তার পাল্টা দিলেন ভরতপুরের বিধায়ক।
শুভেন্দু অধিকারী গতকাল অভিযোগ করেছিলেন, মুর্শিদাবাদে যে বাবরি মসজিদ হচ্ছে তার ৫০ শতাংশ টাকা বাংলাদেশ থেকে পাচ্ছেন হুমায়ুন। নন্দীগ্রামের বিধায়ক দাবি করেছিলেন, বেলডাঙায় নির্মীয়মাণ বাবরি মসজিদের জন্য টাকা জোগাড় করতে হুমায়ুন গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে গিয়েছিলেন। সেখানে এক সপ্তাহ ছিলেন। সেখান থেকে নাকি তিনি জামাত ঘনিষ্ঠ শক্তির সহায়তায় কবির মসজিদের ৫০ শতাংশ অর্থ সংগ্রহও করেছিলেন।
বিজেপি নেতার এই দাবি ঘিরে বঙ্গ রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। আর এরপর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেই আক্রমণের পাল্টা দিলেন হুমায়ুন কবীর। ভরতপুরের বিধায়ক চ্যালেঞ্জ করে বলেন, " ১ টাকাও বাংলাদেশ থেকে আনা হয়েছে, এমন প্রমাণ যদি শুভেন্দু অধিকারী দিতে পারেন, তাহলে উনি যা বলবেন আমি সেটাই শুনব।" এর পাশাপাশি হুমায়ুনের দাবি, "শুধু বাংলাদেশ কেন, সৌদি আরব বা অন্য কোনও দেশ থেকে যদি টাকা আনার প্রমাণ দেখাতে পারেন তাহলে শুভেন্দু অধিকারীদের হাতে তো কেন্দ্রীয় এজেন্সি রয়েছে, কেন তাঁদের তদন্ত করতে পাঠাচ্ছে না?"
পাশাপাশি রাজ্য সভার বিরোধী দলনেতাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে হুমায়ুন বলেন, "ওনার একটা সুন্দর মেয়ে দেখে জীবনসাথী দরকার। ওনাকে সঙ্গ দেবে। যাতে ওনার মাথার ঠিক থাকে, ভাল পরামর্শ দেয়। মাথাটা ঠান্ডা রাখে। তা নাহলে, ইলেকশন আসতে আসতে ওনার মাথার চিকিৎসা করানোর দরকার হবে।"
এছাড়াও হুমায়ুন বলেছেন, বাংলাদেশ যাওয়ার লক্ষ্য ছিল বন্ধু ও আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করা। বাংলাদেশ সফরের কথা স্বীকার করে তাঁর দাবি, 'আমার সফরের সূচি খোলামেলা। ১০ অক্টোবর বিকেল ৫টায় মালদা দিয়ে ভারতে ফিরেছি। চাইলে পুরো ভ্রমণতালিকা পাঠাতে পারি। বাংলাদেশ সফরের সঙ্গে বাবরি মসজিদের অর্থ জোগানের যোগসূত্র টানা অত্যন্ত নীচ মানসিকতার পরিচয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ স্বচ্ছভাবে অনুদান দিয়েছেন।'