যুব সাথীভোটের আগেই ঘোষণা হয়েছে যুবসাথী প্রকল্প। রাজ্যের বেকার যুবক যুবতীদের মাসিক ১৫০০ টাকা দিতে শুরু করেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। আর সেই প্রকল্প ঘোষণার পর থেকেই এর বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করেন বিজেপি নেতারা। তাঁদের মূল দাবি ছিল, বেকার যুবক-যুবতীদের চাকরি দিতে না পেরে ভাতা দিয়ে ক্ষোভ প্রশমন করছে সরকার।
যদিও এমনিতে নিন্দা করলেও এই সরকারি প্রকল্প নেওয়ার পক্ষে সরাসরি সওয়াল করেছেন অনেক বিজেপি নেতা। এমনকী একাধিক বিজেপি কর্মী সেই টাকা পাওয়ার পরই প্রধানমন্ত্রী মোদীর ব্রিগেডে এসেছেন বলে খবর। আর এমনই একজনের দাবি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
এমতাবস্থায় প্রশ্ন হল, এভাবে বারবার নিজেরাই যুবসাথীর প্রসঙ্গ তুলে কি আদতে তৃণমূলকেই অ্যাডভান্টেজ দিচ্ছে বিজেপি? যদিও এই দাবি মেনে নিতে রাজি নন বিজেপি নেতা সৌমিত্র খাঁ। তিনি বলেন, 'রাজ্যে কর্মসংস্থান নেই। বেকার যুবক-যুবতীদের সংখ্যা বাড়ছে। আর সেই পরিস্থিতিই আরও বেশি করে প্রকট হয়েছে যুবসাথী দেওয়ার পর।'
পাশাপাশি তাঁর দাবি, 'আমরা ভাতার বিরুদ্ধে নই। কিন্তু কর্মসংস্থান না দিয়ে যেভাবে ভাতা নির্ভর যুব সমাজ গড়ে তুলতে চাইছে তৃণমূল, আমরা তার বিরুদ্ধে।'
সেই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন, বেকার যুবক যুবতীরা এই বিষয়ে ক্ষুদ্ধ। তারা যুবসাথী চায় না। তারা চাকরি চায়। তাই এবারের ভোটে বিপুল ভোটে জয় পাবে বিজেপি। যুব সমাজ চাকরির পক্ষে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে রায় দেবে।
এভাবে ন্যারেটিভ তৈরি হয় না
এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে যোগাযোগ করা হয়েছিল বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ শুভময় মৈত্রের সঙ্গে। তিনি বলেন, 'কেউ হয়তো বলেছেন যে যুবসাথীর টাকা পেয়ে এই মিছিল বা মিটিংয়ে এসেছেন। আর রাজনৈতিক ভাষ্য তো এক একটি কথা ধরে ঠিক হয়। স্বভাবতই এই কথাটি, কীভাবে তার ব্যাখ্যা হবে, সেই আলোচনা চলতেই পারে। তবে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের আগে এই ধরনের কোনও একজনের মন্তব্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। যদি কোনও গুরুত্বপূর্ণ মানুষ এই কথাটা বলতেন, তাহলে অন্যভাবে আলোচনা হতে পারত। কিন্তু কোনও একজন সাধারণ মানুষ, যিনি রাজনৈতিকভাবে পরিচিত মুখ নন, তাঁর বক্তব্য নিয়ে কাঁটাছেড়া করা যেতে পারে। কিন্তু নির্বাচনে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা খুব কম।'
তৃণমূলের কী মত?
এই বিষয়টি নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন তৃণমূল নেতা প্রতীক উর রহমান। তিনি মনে করেন, যুবসাথীর মতো একাধিক প্রকল্প চালায় রাজ্য সরকার। সব দলের মানুষই এর সুবিধা পান। তাই এর সুবিধা তৃণমূল ভোটে পাবে। পাশাপাশি তাঁর বক্তব্যে, 'কোন বিজেপি নেতা কী বলল, তাতে সত্যিই কিছু যায় আসে না।'
এছাড়া প্রতীক উরের দাবি, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী তালিকায় যত যুব মুখ রয়েছে, সেটা বিজেপিতে নেই। এটাই বিজেপির দৈন্যতা বুঝিয়ে দেয়।'