মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অজুহাতে সাধারণ মানুষের উপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে।Mamata Banerjee LPG price: 'গ্যাসের দামটা কমান,' মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রান্নার গ্যাস ও পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বলেন, 'বলছে আমি বাধ্য হয়েছি যুদ্ধের জন্য। তাই? আমি যতদূর জানি, মনমোহন সিং যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, শেষ গ্যাসের দাম ছিল ৪০০ টাকা। কতবার বেড়েছে? আজ ছোট গ্যাস ১,১০০ টাকা। বড় গ্যাস ২,১০০ টাকা।'
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অজুহাতে সাধারণ মানুষের উপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, 'রাশিয়া থেকে তেল আনবে... তেলের উপর তেলকড়ি মাখাতে হবে না? তা তেলকড়িটা মাখবে কে? জনগণ! মিথ্যার ফুলঝুরি।'
রান্নার গ্যাস বুকিং সংক্রান্ত নিয়ম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। মমতার দাবি, কেন্দ্র সরকার এখন বলছে ২৫ দিনের আগে গ্যাস বুকিং করা যাবে না। এতে সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়তে পারেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'যদি কারও বাড়িতে রান্নার গ্যাস ফুরিয়ে যায় সে কী করবে? খাবে না?' আরও বলেন, 'যে টাকায় পাবলিসিটি করছেন, সেই টাকায় সাবসিডি দিন। তাহলে ৫-১০ টাকা হলেও গ্যাসের দাম কমত।' তাঁর মতে, সাধারণ মানুষের সামনে বিকল্পও নেই। তিনি বলেন, 'লোক কোথায় যাবে? মাটির উনুনে যে করবে, কাঠ কোথায় পাবে?'
মমতা আরও দাবি করেন, দেশের আর্থিক পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই বিপুল অঙ্কের ঋণের বোঝা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভয়ঙ্কর সময় আসছে। আগামিদিন কী করবে ভগবানই জানেন।'
উল্লেখ্য, এদিন ধর্না কর্মসূচি শেষেরও ঘোষণা করেন মমতা। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ তাঁদের পিটিশনের ভিত্তিতেই এসেছে। তাঁর দাবি, এটি বাংলার জয়।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, যেসব মামলা এখনও বিচারাধীন, সেগুলি বিজেপির বক্তব্যের ভিত্তিতেই হয়েছে। তাঁর কথায়, বিচারকদের ভুল বোঝানো হয়েছিল এবং সেই কারণে আইনজীবীদেরও ভর্ৎসনা করা হয়েছে।
যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের আইনি দিকগুলি খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি ব্লক লেভেল অফিসারদেরও দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এবং SIR এর ইস্যু আগামী নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে বাংলায় রান্নার গ্যাস ও পেট্রোলের দাম বাড়লে ভোটের বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে বলে আন্দাজ বিশ্লেষকদের।