মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 'অ্যান্টি ইন্ড্রাস্ট্রি' বা 'অ্যান্টি টাটা' নন। তিনি কৃষকদের পক্ষে। মুখ্যমন্ত্রীর সিঙ্গুরের সভার আগে বিরোধীদের কটাক্ষের জবাবে এভাবেই সুর চড়ালেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ।
আসলে কিছু দিন আগেই সিঙ্গুরে সভা করে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এরপর ২৮ জানুয়ারি সেখানে সভা করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই নিয়েই বিজেপি, বাম, কংগ্রেস একযোগে তৃণমূলকে আক্রমণ করছে। এই সব বিরোধী দলের মতে, টাটাকে বাংলা ছাড়া করার পিছনে রয়েছে তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত। যার ফলে বাংলা আজ শিল্পশূন্য বলে দাবি করছেন তারা। আর বিরোধীদের এই সব কটাক্ষেরই উত্তর দিয়েছেন কুণাল।
তিনি বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বহুবার সিঙ্গুর গিয়েছেন। তিনি সাধারণ কৃষকদের পাশে থেকে জমি আন্দোলন করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেস কেউই অ্যান্টি ইন্ড্রাস্ট্রি বা অ্যান্টি টাটা নয়। সিঙ্গুর আন্দোলনের মূল বার্তা ছিল, শিল্প সবসময় শিল্পের সহায়ক জমিতে হওয়া উচিত... তাই কৃষকদের জন্য লড়াই হয়েছে। তাঁদের অধিকারের জন্য লড়াই করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আবার সেখানে যাবেন...'
কী নিয়ে বিতর্ক?
আসলে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উত্থানের পিছনে সিঙ্গুর আন্দোলনে বিরাট ভূমিকা রয়েছে। তাঁর নেতৃত্বেই জমি দিতে অনিচ্ছুক কৃষকরা আন্দোলনে নামেন। সেই আন্দোলন থামাতে ব্যর্থ হয় তৎকালীন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন বাম সরকার। যেই কারণে রাজ্য থেকে বিদায় নেয় টাটা। তারা গুজরাতে পাড়ি দেয়।
সেই সময় গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি সাদরে টাটাকে গ্রহণ করেন। আর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মোদীই এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনিই কিছুদিন আগে সভা করেছেন সিঙ্গুরে। তিনি সেখানে স্পষ্টই বার্তা দিয়েছেন যে পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা না বদলালে কোনও শিল্প হবে না।
আর প্রধানমন্ত্রীর সভা শেষের পরই সেখানে সভার দিন ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, সেখানে উপস্থিত হয়ে আদতে সিঙ্গুরের মানুষকে আরও একবার কাছে টেনে নেওয়ার বার্তা দেবেন মমতা। পাশাপাশি ঘোষণা করতে পারেন একাধিক প্রকল্পের।
যদিও বিরোধীদের বড় অংশই মমতার এই সিঙ্গুরের সভাকে কটাক্ষ করছে। তাদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই টাটারা বাংলা ছেড়ে গিয়েছে। তারপর থেকে কোনও সংস্থাই আসতে চাইছে না বাংলায়। কার্যত শিল্পবন্ধ্যা রাজ্যে পরিণত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ।
যদিও বিরোধীদের সেই কটাক্ষের জবাব দিলেন কুণাল ঘোষ। তিনি স্পষ্টতই জানিয়ে দিলেন তৃণমূল বা মমতা কেউই শিল্পের বিরুদ্ধে নন।