মমতার অভিযোগ, সবচেয়ে বেশি নাম বাদ গিয়েছে মুর্শিদাবাদ, মালদা এবং উত্তর দিনাজপুর জেলা থেকে।Mamata Banerjee SIR list: '১০ লক্ষ বাদ দেওয়া হয়েছে; আপনারা ক্রস চেক করবেন,'' বললেন মমতা। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক SIR সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট নিয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। এদিন TMC-র নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করা হয়। তারপরই SIR তালিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা ও বিলম্বের অভিযোগ তোলেন মমতা। বলেন, 'SIR-এর যে লিস্ট আজ বের হওয়ার কথা ছিল, সেটা আজও বের হয়নি। এই করে করে দিনগুলো নষ্ট হচ্ছে।' তাঁর দাবি, তালিকা তৈরির প্রক্রিয়ায় সংখ্যাগত অসঙ্গতি রয়েছে। 'আমি যতদূর শুনেছি, ২২ লক্ষ থেকে ৬০ লক্ষের মধ্যে করা হয়েছে। তার মধ্যে ১০ লক্ষ বাদ দেওয়া হয়েছে। আপনারা ক্রস চেক করবেন,' বলেন তিনি।
মমতার অভিযোগ, সবচেয়ে বেশি নাম বাদ গিয়েছে মুর্শিদাবাদ, মালদা এবং উত্তর দিনাজপুর জেলা থেকে। তাঁর কথায়, নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করেই এই বাছাই করা হয়েছে। 'হিন্দুদেরও অনেকের নাম বাদ, রাজবংশীদেরও নাম বাদ, মতুয়াদেরও অনেকের নাম বাদ,' বলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রসঙ্গে তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, 'এরা বক ধার্মিক। ধর্মের নামে বাতুলতা করে।'
গণতান্ত্রিক অধিকার প্রসঙ্গেও সরব হন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, 'ভোটাধিকার মানুষকে দেওয়াটা গণতন্ত্রে সবচেয়ে বড় সাংবিধানিক অধিকার।' নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে বিচারব্যবস্থা; সব জায়গাতেই আবেদন জানানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। 'কলকাতা থেকে দিল্লি; সব জায়গায় আমরা দরজায় কড়া নেড়েছি,' যোগ করেন মমতা।
এখানেই শেষ নয়। SIR তালিকার সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, 'লজিকাল ডিসক্রিপেনসি বলে কোনও কথা কোনও নিয়মে ছিল না। আগে ৫৮ লক্ষ বাদ দিয়েছে প্রথমেই আপনারা বুঝুন। শুধু ৬০ লক্ষ নয়। আর বিজেপির স্টেটমেন্টও আপনারা দেখে মিলিয়ে নিন। পার্টি অফিস থেকে ঠিক করেছিল ১ কোটি ২০ লক্ষ লোকের নাম বাদ দেবে। সংখ্যাটা এবার আমি আপনাদের বলে দিই। প্রথম পাতায় ৫৮ লক্ষকে প্রথম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। তার মধ্যে কিন্তু অনেক ম্যাপিংও আছে। মহিলারা আছেন, যাঁরা বাড়ি শিফট করেছেন। সেই চ্যাপ্টারটা ওপেন করা হয়নি। প্লাস ৬০ লক্ষ। তার মানে তো ১ কোটি ২০ লক্ষের কাছাকাছি হল।'
তিনি বলেন, '২২ লক্ষ করতে যদি ১৫-২০ দিন সময় লাগে, তাহলে ভোট আসা পর্যন্ত প্রসেস শেষ হবে তো?'
নির্বাচন কমিশনকেও এদিন ফের কাঠগড়ায় তোলেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, 'বিচার দেওয়ার নামে অবিচার চলছে। তারাই পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে।' পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন।
তাঁর দাবি, বাইরে থেকে লোক এনে রাজ্যের পরিস্থিতি প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। '২০ লক্ষ জওয়ান পাঠানোর কথা বলা হচ্ছে, তারা নাকি ভোটের ভিতরে গিয়ে ছাপ্পা দেবে,' বলেন তিনি। ইভিএম থেকে শুরু করে ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও তোলেন।