মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে একটি ভোটে হলেও তিনিই জিতবেন বলে সাফ জানিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। তবে মঞ্চে বক্তব্য রাখতে উঠে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁর মন ভাল নেই।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন দোল উৎসবের অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে SIR প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সুর তোলেন। তাঁর কথায়, 'আমাদের বাংলার প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে চলেছেন। তাঁরা সব হারিয়ে বসে রয়েছেন। আমার মন ভাল নেই। গতকালও একজন ব্যক্তি বিচারাধীন তালিকায় ছিলেন, তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পাসপোর্ট, সার্টিফিকেট সহ সমস্ত নথি দেওয়ার পরও তাঁরা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।'
BJP-র তরফে বারবার মমতাকে নিশানা করা হচ্ছে বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে। তাদের অবৈধ ভাবে ভোটাধিকার পাইয়ে দিয়েছেন তিনি, এখন নাম কাটা যাওয়ার ভয়ে সুর চড়াচ্ছেন। এমনটাই অভিযোগ গেরুয়া শিবিরের। এ প্রসঙ্গে এদিন মমতা বলেন, 'আমি কোনও নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের জন্য বলছি না। সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছি। তবে এই কেন্দ্রীয় সরকার পক্ষপাতদুষ্ট, নির্বাচন কমিশনও পক্ষপাতদুষ্ট। ভ্যানিশ কুমার মানুষের ভোটাধিকার ভ্যানিশ করে দিতে চাইছেন। সংবিধান আজ তাই বিপন্ন। আমি এর তীব্র নিন্দা করছি। যে সকল মানুষ আজ হেনস্থার শিকার হচ্ছেন, তাঁদের তো কোনও দোষ নেই। সে কারণেই আমার হৃদয় ভারাক্রান্ত।'
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, 'এখানকার একজন ব্যক্তি সবচেয়ে বদমাইশ। BLO, AERO-রা চারমাস ধরে কাজ করেছেন, অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তাঁদেরও নাম বাদ দিয়ে দিয়েছে কমিশন। BJP এত লোকের নাম বাদ দিয়ে আজ রথযাত্রা করছে, এটাই শেষযাত্রা হবে ওদের।'
ভবানীপুর কেন্দ্রে ভোটারদের নাম বাদ প্রসঙ্গে মমতা বলেন, 'ছোট কেন্দ্র ভবানীপুর। ২ লক্ষ ৬০ হাজার ভোটার রয়েছে সেখানে। আগে ৪৪ হাজার ভোটারের নাম বাদ দিয়েছিল। এবার লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নাম করে আরও ১৪ হাজার বাদ দিয়েছে। ২ হাজারের নাম ডিলিটেড। আমি সুপ্রিম কোর্ট থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত চেষ্টা করেছি। আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে সহযোগিতা করেছি, সহ্য করেছি, ধৈর্য ধরেছি। কিন্তু নির্বাচনের আগেই ভোট করে দিতে চাইছে কমিশন। উপযুক্ত জবাব দেওয়ার জন্য বাংলার মানুষ তৈরি আছে।' তাঁর সংযোজন, 'আমি স্তম্ভিত। এটা ইচ্ছাকৃত। এটা অমানবিক। কাপুরুষরা কখনই গণতান্ত্রিক ভাবে লড়তে পারে না। জানি না ঈশ্বরের কৃপায় তাঁরা ভোট দিতে পারবেন কি না, তাই আমি আজ দুঃখিত।'
তৃণমূলের জেতা বিধানসভাগুলি থেকে ইচ্ছাকৃত ভাবে ১০ থেকে ৩০ হাজার ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। মমতা বলেন, '৬০ হাজার নাম বাদ দিয়েছে আমার বিধানসভা কেন্দ্র থেকে। তা সত্ত্বেও আম জিতব। ১ ভোটে হলেও ভবানীপুরে আমিই জিতব।'