বাংলায় লকডাউন হবে?'লকডাউন করবে কি না ভাবছে। জানি না। করলে করবে। লকডাউন করে মানুষকে ঘরবন্দি করে রাখবে... জেনে রাখুন, কোভিডের সময়ও লকডাউন ছিল। আমরা ২১ সালে যদি কোভিডের মধ্যে লড়াই করতে পারি, তাহলে যে কোনও পরিস্থিতির মধ্যে লড়াই করার জন্য রাজি রয়েছি।', আজ পাণ্ডবেশ্বরের লাউদোহা ফুটবল ময়দানের জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমনটাই বললেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আসলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশে তেল এবং গ্যাসের সঙ্কটের আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেকে লকডাউন হতে পারে বলে মনে করছেন। আর মমতার এই দাবির পরই আবার লকডাউন জল্পনা তুঙ্গে উঠল।
এ দিন বক্তব্যের শুরুতেই মমতা বলেন, 'লড়াইটা কৌরবদের সঙ্গে পাণ্ডবদের। আমরা পাণ্ডব। বিজেপি কৌরব।'
পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, পাণ্ডবেশ্বরে তৃণমূল সরকার অনেক কাজ করেছে। আসানসোলকে নতুন জেলা করা হয়েছে। আসানসোল মাল্টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল হয়েছে। আসানসোল নজরুল ইসলাম ইউনির্ভাসিটি করা হয়েছে। আসানসোল অন্ডাল এয়ারপোর্ট করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, 'খাদান থেকে এত কষ্ট করে কয়লা তোলেন। মুনাফা অন্য কেউ নিয়ে যায়। আমরা এই সমস্যা সমাধানের কাজ করছি।'
চোর প্রসঙ্গে কী দাবি?
এই প্রসঙ্গে মমতার বক্তব্য, 'আমি জীবনে এক পয়সা মাইনে নিইনি। আমাকেও চোর বলেও। এদের ভাষা নগ্ন ভাষা।'
নাম বাদ নিয়ে কী বললেন?
বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি জানান, মানুষের নাম বাদ দিচ্ছে। অধিকার বাদ দিচ্ছে। এর মধ্যে হিন্দু রয়েছে। মুসলিম আছে। নমশুদ্র রয়েছে।
মমতার কথায়, 'এর আগে বিজেপি বলেছিল ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ দেবে। ৫৮ লাখ প্রথম দফায় বাদ দিয়েছে। তারপর লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নাম করে ৬০ লক্ষের নাম ঝুলিয়ে দিয়েছে। এই হিসেব বিজেপির পার্টি অফিস থেকে তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।'
ভোটার লিস্ট টাঙাচ্ছে না কেন?
এ দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'শুনছি ৪০ শতাংশ বাদ দিয়েছি। ৬০ শতাংশ তুলে থাকলেও আমাদের ক্রেডিট। বাদবাকি লিস্ট চাইছি। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা যাতে ট্রাইবুনালে আপিল করতে পারে, সেটা দল দেখবে।'
পাশাপাশি তিনি জানান, যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের দরখাস্ত নেবে দলের প্রতিনিধিরা। আইনজ্ঞ দেওয়া হবে। বিনাপয়সায় ভোটারদের জন্য তাঁরা লড়বে।
পাশাপাশি তিনি বলেন, 'আমি ওদের মতো নগ্ন ভাষায় কথা বলি না। আমি কথা বলি মা মাটি মানুষের ভাষায়।'
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে যা জানালেন...
এ দিন মমতা বলেন, 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আজীবন চলবে। বিহারের মতো করব না।' পাশাপাশি তাঁর দাবি, যুবসাথী কিছু বাকি রয়েছে। হয়ে যাবে। দুয়ারে স্বাস্থ্য করে দেওয়া হবে। মানুষ বাড়ির সামনে পরিষেবা পাবে।
সেই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, 'তৃণমূল না থাকলে কিছুই পাবেন না।'
এনআরসি নিয়ে কী বললেন?
এ দিন এনআরসি নিয়েও সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, 'তৃণমূল থাকলে এনআরসি করতে দেব না। মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই, আমাদের লড়াই।'