নিজস্ব গ্রাফিক্সএবারের বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে কঠিন লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে বিজেপি। সেই লড়াইয়ে ‘পরীক্ষিত মুখ’ হিসেবে এগিয়ে আনা হয়েছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। সূত্রের খবর, দায়িত্ব পাওয়ার আগেই প্রায় এক বছর আগে থেকে ভবানীপুরে প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন তিনি। বুথভিত্তিক বাস্তব চিত্র বুঝতে করিয়েছেন বিস্তারিত সমীক্ষা, যার প্রাথমিক রিপোর্ট হাতে পেয়েই লড়াইয়ে নামতে রাজি হন তিনি।
‘মিনি ভারতবর্ষ’ ভবানীপুরে ভোটের অঙ্কে কায়স্থ এগিয়ে
বহু ভাষা ও সম্প্রদায়ের সহাবস্থানে ভবানীপুরকে ‘মিনি ভারতবর্ষ’ বলা হয়। এখানে বাঙালি, পঞ্জাবি, সিন্ধি, গুজরাতি, মারোয়াড়ি, ওড়িয়া ও মুসলিম ভোটারদের বড় অংশ রয়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, কায়স্থ ভোটারই সবচেয়ে বড় শক্তি, প্রায় ২৬.২ শতাংশ। তার পরেই মুসলিম ভোটার ২৪.৫ শতাংশ। এছাড়া পূর্বাঞ্চলীয় ১৪.৯ শতাংশ, মারোয়াড়ি ১০.৪ শতাংশ এবং ব্রাহ্মণ প্রায় ৭.৬ শতাংশ।
সামাজিক সমীকরণেই কৌশল, কেন্দ্রীয় নেতাদের সক্রিয়তা
বিজেপি সূত্রের দাবি, এই সূক্ষ্ম সামাজিক তথ্যের ভিত্তিতেই তৈরি হচ্ছে নির্বাচনী রণকৌশল। কোন এলাকায় কোন সম্প্রদায়ের প্রভাব বেশি, তা বুঝে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ওড়িয়া ও গুজরাতি ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে বিভিন্ন রাজ্যের নেতাদের ভবানীপুরে আনা হয়েছে।
ফলাফলের অঙ্কে এগিয়ে তৃণমূল, তবু আশাবাদী বিজেপি
অতীতের ফলাফল বলছে, ভবানীপুরে এখনও এগিয়ে তৃণমূল। ২০২১ সালের নির্বাচনে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিজেপির রুদ্রনীল ঘোষকে বড় ব্যবধানে হারান। উপনির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী নিজেও সব ওয়ার্ডে জয় পান। তবে ২০১৪ ও ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে বিজেপির ভালো ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গেরুয়া শিবির।
‘আউটসাইডার’ নিয়ে সরব মমতা, পাল্টা আত্মবিশ্বাস বিজেপির
ভবানীপুরের জনবিন্যাস বদল নিয়ে আগেও সরব হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত বিজয়া সন্মেলনীর সময় তাঁর অভিযোগ ছিল, পরিকল্পিতভাবে আউটসাইডার বা বহিরাগত এনে এলাকার ভারসাম্য নষ্ট করা হচ্ছে।
বিষয়টিতে, বিজেপির প্রবীণ নেতা তথাগত রায় বললেন, 'ভবানীপুরে শুভেন্দুই জিতবে। আমি ১০০ শতাংশ নিশ্চিত। ভবানীপুরের সব ভুয়ো ভোটার বাদ গেছে। মমতা বাংলাদেশের অনুপ্রবেশকারী ঢোকাতে পারেননি। ভবানীপুরে মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্তদের কাছে আবেদন করতে হবে, তার যেন অন্তত ভোটটা দিতে আসেন। ঠিকঠাক ভোট হলে বিজেপিই জিতবে, যা মমতার পক্ষে সুখকর হবে না। তাঁকে ফের অন্য আসনে দাঁড়িয়ে জিতে আসতে হবে।'
সব মিলিয়ে, ভবানীপুরে এবার লড়াই শুধুমাত্র দল বনাম দল নয়, বরং সামাজিক সমীকরণ, জনবিন্যাস এবং কৌশলগত প্রচারের এক জটিল সমীকরণ। ‘বড় বোন’ ভবানীপুর কি আবারও মমতার পাশেই থাকবে, নাকি শুভেন্দুর কৌশল বদলে দেবে ফলাফল, এখন সেই দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।