SIR-এর নথি যাচাইSIR-এর ফাইনাল ভোটার লিস্ট প্রকাশিত হয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারি। তারপর দেখা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দুই জেলা মুর্শিদাবাদ ও মালদায় সবথেকে বেশি ভোটারের নথি যাচাই বা স্ক্রুটিনি বাকি রয়েছে।
কমিশনের পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৬০.০৬ লক্ষ ভোটারের নাম 'অ্যাডজুডিকেশনের' তালিকায় রয়েছে। অর্থাৎ এত সংখ্যক ভোটারের নথি এখনও যাচাই করা হয়নি। জুডিশিয়াল অফিসাররা এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের নথি যাচাই করবেন। আর এই ৬০ লক্ষাধিক মানুষের মধ্যে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ এবং মালদাতেই সবথেকে বেশি ভোটারের নথি যাচাই বাকি বলে কমিশনের তরফে জানান হয়েছে।
এক্ষেত্রে মুর্শিদাবাদে ১১.০১ লক্ষ ভোটারের নথি যাচাই বাকি। তারপরই রয়েছে মালদার স্থান। সেখানে ৮.২৮ লক্ষের ডকুমেন্টস স্ক্রুটিনি বাকি রয়েছে।
মাথায় রাখতে হবে যে এই দুই জেলাতেই রয়েছে বাংলাদেশ সীমান্ত। শুধু তাই নয়, এখানে মুসলিম জনসংখ্যাও খুব বেশি। মুর্শিদাবাদে ৬৬ শতাংশ মুসলিম জনসংখ্যা রয়েছে। আর মালদায় রয়েছে ৫১ শতাংশ। যদিও এই জনসংখ্যার তথ্যটি ২০১১ সালের। তারপর পেরিয়ে গিয়েছে ১৫ বছর। এই সময় জনসংখ্যা আরও বদলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে এই দুই জেলা ছাড়াও বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী আরও কিছু জেলার চিত্রও মোটের উপর একই। এই যেমন উত্তর ২৪ পরগনায় ৫.৯১ লক্ষ ভোটার রয়েছেন তথ্য যাচাইয়ের তালিকায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সংখ্যাটা ৫.২২ লক্ষ। আর উত্তর দিনাজপুরে সংখ্যাটা ৪.৮০ লক্ষ। এই সব জেলাতেও ভাল সংখ্যক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছেন।
এছাড়া পূর্ব বর্ধমানে ৩.৬৫ লক্ষ, হাওড়াতে ২.৮৯ লক্ষ, নদিয়াতে ২.৬৭ লক্ষ এবং বীরভূমে ২.০২ লক্ষ, কালিম্পঙে ৬,৭৯০ এবং ঝাড়গ্রামে ৬৬৮২ ভোটারকে 'অ্যাডজুডিকেশনের' অধীনে রাখা হয়েছে।
ইলেকশন কমিশনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ভোটার লিস্ট থেকে যাতে কোনও যোগ্য ভোটারের নাম না বাদ যায়, সেটা নিশ্চিত করতেই 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন' বিকল্পটি রাখা হয়েছে। এই সব ভোটারদের নথি যাচাই করবেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। তারপর প্রয়োজন মতো সাপ্লিমেন্টরি লিস্ট বের করা হবে।
এই প্রসঙ্গে কমিশনের এক আধিকারিক বলেন, 'কোনও নাম অন্তর্ভুক্ত বা মুছে দেওয়ার আগে যাচাই করা হবে।'
মাথায় রাখতে হবে যে, SIR-এর পর ফাইনাল ভোটার লিস্টে রাজ্যের ভোটার সংখ্যা ৮.৩০ শতাংশ কমে গিয়েছে। আগে যেখানে ভোটার ছিল ৭.৬৬ কোটি। সেটা এখন ৭.০৪ কোটিতে এসে দাঁড়িয়েছে।