পুলিশের নাকা চেকিং।-ফাইল ছবিনির্বাচনের আগে কলকাতায় নজরদারি আরও কড়া করতে বড় পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, শহরের প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় চেকপয়েন্ট বা নাকা পয়েন্টের সংখ্যা তিনগুণ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন থানার অধীনে অতিরিক্ত চেকপয়েন্ট বসানোর কাজ শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আগে যেখানে একটি বিধানসভা এলাকায় গড়ে তিনটি চেকপয়েন্ট থাকত, এখন সেখানে নির্দিষ্টভাবে ৯টি করে নাকা পয়েন্ট বসাতে হবে। উদ্দেশ্য একটাই, নির্বাচনের আগে আরও কড়া নজরদারি এবং অবৈধ কার্যকলাপ রুখে দেওয়া।
কলকাতা পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহযোগিতায় আরও নিবিড় টহলদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যানবাহন তল্লাশি আরও কঠোরভাবে করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি নাকা চেকপয়েন্ট ব্যস্ত রাস্তায় স্থাপন করতে হবে এবং সেখানে একটি অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করে স্পষ্টভাবে ‘নাকা চেকপয়েন্ট’ লেখা ব্যানার টাঙাতে হবে। এই সব পয়েন্ট সংশ্লিষ্ট থানার সিসিটিভি নজরদারির আওতায় থাকবে, যাতে রিয়েল-টাইমে সমস্ত কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করা যায়।
এই চেকপয়েন্টগুলির দায়িত্বে থাকবে ‘স্ট্যাটিক সারভেল্যান্স টিম’ (SST)। দলের নেতৃত্বে থাকবেন একজন ম্যাজিস্ট্রেট। তাঁর তত্ত্বাবধানে নির্বাচনী আইন ও আদর্শ আচরণবিধি মেনে তল্লাশি ও বাজেয়াপ্তকরণের কাজ চলবে। দলে থাকবেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর অন্তত চারজন সদস্য, কলকাতা পুলিশের এক এএসআই এবং দু’জন কনস্টেবল।
এছাড়া, তল্লাশি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি অভিযানের ভিডিও রেকর্ডিং করা হবে। বিশেষ নজর দেওয়া হবে বেআইনি নগদ অর্থ, আগ্নেয়াস্ত্র এবং মদের ওপর। প্রতিদিনের কার্যক্রমের রিপোর্ট জমা দিতে হবে রিটার্নিং অফিসার, জেলা নির্বাচন আধিকারিক এবং ব্যয় পর্যবেক্ষকের কাছে।
পুলিশের শীর্ষকর্তারা জানিয়েছেন, শহরের সব থানায় ইতিমধ্যেই এসএসটি দলগুলি পালাক্রমে দায়িত্ব পালন শুরু করেছে। ভবানীপুরে দায়িত্বে থাকা এক আধিকারিকের কথায়, কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিরিক্ত কোম্পানি পৌঁছনোর এক সপ্তাহের মধ্যেই ২৪ ঘণ্টা নজরদারি ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হয়ে যাবে।