শোভন চট্টোপাধ্যায়, পার্থ চট্টোপাধ্যায় একজন সদ্য জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন আর অপরজন দীর্ঘদিন বাদে দলে ফিরেছেন। দু'টি ঘটনাই ঘটেছে সাম্প্রতিক সময়ে। তা সত্ত্বেও ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট পেলেন না পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়।
শিক্ষক দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘদিন জেল খাটার পর ভোটের আগেই জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন পার্থ। দল থেকে সাসপেন্ড থাকা সত্ত্বও বিধানসভায় দাঁড়ানো নিয়ে আশাবাদী ছিলেন তিনি। এমনকী, নিজের এলাকা বেহালা পশ্চিমে জনসংযোগ করতেও বেরিয়ে পড়েছিলেন। তবে মঙ্গলবার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতে দেখা গেল, তৃণমূলের টিকিটে পার্থর কেন্দ্রে দলের বাজি রত্না চট্টোপাধ্যায়।
২০২২ সালের ২৩ জুলাই স্কুল সার্ভিস কমিশন-সংক্রান্ত দুর্নীতি তদন্তে তাঁকে গ্রেফতার করে ED। সে সময় তিনি রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী ও পরিষদীয় দফতর দায়িত্বে ছিলেন। গ্রেফতারের পর মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা হয় এবং তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে। পরে একই মামলায় CBI-এর হাতেও গ্রেফতার হন তিনি। একাধিক মামলায় জামিন পাওয়ার পর গতবছর ১১ নভেম্বর কারামুক্তি হয় তাঁর। পার্থ চট্টোপাধ্যায় জেল থেকে ফিরে বেহালা পশ্চিমের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, 'বেহালা পশ্চিমের মানুষের কাছে আমি দায়বদ্ধ ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।' ফলে ইঙ্গিত মিলছিল তাঁর ভোটে দাঁড়ানো নিয়ে। এবার শেষ পর্যন্ত তিনি নির্দল প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াবেন কি না, সেটাই এখন দেখার।
অন্যদিকে, শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় সাম্প্রতিক সময়ে কামব্যাক করেন তৃণমূলে। 'আমার ধমনী, শিরা হল তৃণমূল কংগ্রেস। ঘরের ছেলে হিসাবে পুনরায় এর সঙ্গে শামিল হলাম।' যোগদান করে এমনটাই জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো সৈনিক শোভন। তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে বলেছিলেন, 'তৃণমূলে আমার সামর্থ মতো মমতাদি, অভিষেক যা চাইবে, সেভাবে কাজ করব। দলকে শক্তিশালী করতে যা দায়িত্ব অর্পিত করা হবে তা পালন করার চেষ্টা করব করব। নিজের সিনসিয়ারিটি দিয়ে কাজ করব। কোথাও ত্রুটি রাখব না।' জল্পনা রটেছিল শোভন চট্টোপাধ্যায়কে তাঁর পুরনো কেন্দ্র বেহালা পূর্ব থেকে টিকিট দেওয়া হবে। কিন্তু প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতে দেখা গেল, বাস্তবে তেমনটা হল না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও শোভন ও বৈশাখীকে স্বাগত জানিয়ে বলেছিলেন, 'লের সৈনিক হিসাবে কাজ করবেন ওঁরা।' তবে টিকিট পেলেন না কানন।