SIR Final List-এ ভোটার ৭,০৪,৫৯,২৮৪, 'ভুলভ্রান্তি হতেই পারে', বললেন সিইও

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ করে প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যেই কমিশনের ওয়েবসাইটে তালিকাটি আপলোড করা হয়েছে। ভোটাররা নিজেদের এপিক নম্বর (ভোটার আইডি নম্বর) দিয়ে অনলাইনে নাম আছে কি না তা যাচাই করতে পারবেন।

Advertisement
SIR Final List-এ ভোটার ৭,০৪,৫৯,২৮৪,  'ভুলভ্রান্তি হতেই পারে', বললেন সিইওসাংবাদিক বৈঠকে সিইও।-ফাইল ছবি
হাইলাইটস
  • পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ করে প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন।
  •  ইতিমধ্যেই কমিশনের ওয়েবসাইটে তালিকাটি আপলোড করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ করে প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যেই কমিশনের ওয়েবসাইটে তালিকাটি আপলোড করা হয়েছে। ভোটাররা নিজেদের এপিক নম্বর (ভোটার আইডি নম্বর) দিয়ে অনলাইনে নাম আছে কি না তা যাচাই করতে পারবেন।

চূড়ান্ত ভোটার সংখ্যা কত?
এসআইআর প্রক্রিয়া শেষে রাজ্যে মোট চূড়ান্ত ভোটার দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪ জন। এর পাশাপাশি ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম বিচারাধীন রয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই তাঁদের তথ্য তালিকায় আপডেট করা হবে।

মহিলা ও পুরুষ ভোটারের অনুপাত রয়েছে ৯৫৬:১০০০, যা আগের মতোই অপরিবর্তিত।

‘ভুলভ্রান্তি হতেই পারে’- সিইও
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল স্বীকার করেছেন, এত বড় প্রক্রিয়ায় কিছু ছোটখাটো ভুলভ্রান্তি থাকা অস্বাভাবিক নয়। তাঁর দাবি, বেশিরভাগ ভুলই সামান্য। তবে কিছু ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত ত্রুটির অভিযোগও উঠেছে।

তিনি ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া তালিকাকে ‘বড় সাফল্য’ বলে উল্লেখ করেন। প্রামাণ্য নথি হিসেবে ১৩ ধরনের নথি গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান। এমনকি চা-বাগানের কর্মীদের পরিচয়পত্রও গ্রহণ করা হয়েছে।

বিশাল কর্মযজ্ঞ
পুরো প্রক্রিয়ায় ৫ লক্ষেরও বেশি সরকারি কর্মী যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি আটটি স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের তরফে ২ লক্ষ ১০ হাজারেরও বেশি বিএলও (বুথ লেভেল অফিসার) নিয়োগ করা হয়েছিল।

শুনানি ও বিতর্ক
গত বছর ২৭ অক্টোবর বিশেষ সংশোধনের ঘোষণা করা হয়। তখন রাজ্যে মোট ভোটার ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯। ১৬ ডিসেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশের সময় প্রায় ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়ে এবং তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয় ৭ কোটিরও বেশি ভোটার। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৫২ লক্ষ ভোটারকে শুনানির জন্য চিহ্নিত করা হয়।

‘নো-ম্যাপিং’ ভোটার: ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪২৬
তথ্যগত অসঙ্গতি (লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি): প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৪২ লক্ষ ভোটারের শুনানি হয়। এর মধ্যে ৮২ লক্ষ ভোটারের ক্ষেত্রে ইআরও ও এইআরও-দের সিদ্ধান্তে কমিশন সহমত হয়। শুনানিতে অনুপস্থিত ও অযোগ্য মিলিয়ে প্রায় ৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

বাকি ৬০ লক্ষ ভোটারকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায় এবং আদালত বিচারকদের মাধ্যমে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়। আগামী বিধানসভা ভোটের মনোনয়নের শেষ দিন পর্যন্ত ধাপে ধাপে এই নামগুলির নিষ্পত্তি হবে।

তালিকায় কীভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে?
চূড়ান্ত তালিকায় ভোটারদের তিনটি বিভাগে ভাগ করা হয়েছে
‘Approved’: যোগ্য ও অনুমোদিত ভোটার
‘Deleted’: বাদ পড়া নাম
‘Under Consideration’ (বিচারাধীন): যাঁদের নথি যাচাই প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ হয়নি

নতুন ভোটারও যুক্ত
ফর্ম-৬ পূরণ করে প্রায় ৯ লক্ষ নতুন আবেদন জমা পড়েছে। কমিশনের দাবি, এঁদের অধিকাংশই নতুন ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে আগ্রহী।

সব মিলিয়ে, এই বিশাল সংশোধন প্রক্রিয়া এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। বিচারাধীন নামগুলির নিষ্পত্তি হলে ভবিষ্যতে তালিকায় আরও পরিবর্তন আসতে পারে।

 

POST A COMMENT
Advertisement