সাপ্লিমেন্টারি লিস্টরাজ্যে বিবেচনাধীন ভোটারদের নিয়ে প্রথম সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশিত হতে পারে সোমবার। এমনটাই জানা যাচ্ছে কমিশন সূত্রে।
আসলে বাংলায় SIR প্রক্রিয়ায় ফাইনাল ভোটার লিস্ট বেরিয়ে গিয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি সামনে আসে সেই লিস্ট। যদিও সেই তালিকাকে পূর্ণাঙ্গ বলে চলে না। কারণ, ওই লিস্টে প্রায় ৬০ লক্ষের বেশি ভোটার বিবেচনাধীন বা অ্যাডজুডিকেশন অবস্থায় ছিলেন। তাঁদেরই নথি যাচাই করছেন বিচারবিভাগীয় অফিসাররা। আর সেই নথি যাচাই করার পর প্রথম সাপ্লিমেন্টরি লিস্ট সোমবার বেরতে পারে বলে খবর।
এই প্রসঙ্গে বলি, অনেক দিন ধরেই কথা চলছে এই লিস্ট বেরনোর। প্রথমে বৃহস্পতিবার এবং পরে শুক্রবার এই তালিকা প্রকাশিত হতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়। যদিও এই দুই দিনই লিস্ট প্রকাশিত হয়নি। তারপর শোনা যাচ্ছে আগামী সোমবার, অর্থাৎ ২৩ মার্চ প্রথম সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ পেতে পারে।
রাজ্যে বিবেচনাধন ভোটার কত?
২৮ মার্চ ফাইনাল ভোটার লিস্ট বের করে কমিশন। সেখানে ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম ছিল। এই সব ভোটারদের নামের নিষ্পত্তি করতে হাই কোর্টের তরফ থেকে জুডিশিয়াল অফিসারদে নিয়োগ করা হয়।
আর এখন রাজ্যে প্রায় ৭০০-এর বেশি জুডিশিয়াল অফিসার রয়েছেন। তাঁরাই এত ভোটারের তথ্য নিষ্পত্তি করছেন। কমিশন সূত্রে খবর, প্রতিদিন প্রায় ২ লক্ষ ভোটারের নথির নিষ্পত্তি হচ্ছে। যার ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই কাজটা শেষ হয়ে যাবে বলে দাবি করছেন তারা।
আরও জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যেই ৬০ লক্ষের মধ্যে ২৭ লক্ষ তথ্যের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। তাই খুব দ্রুতই সামনে আনা হবে সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট।
সেকেন্ড লিস্টও ওই সপ্তাহেই
কমিশন সূত্রে খবর, সোমবার প্রথম সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট বেরিয়ে যেতে পারে। আর ওই সপ্তাহে শনিবারই দ্বিতীয় লিস্টও বেরিয়ে যাবে।
ইতিমধ্যেই গঠন হয়েছে ট্রাইবুনাল
সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে অনেকেরই নাম বাদ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই সব মানুষেরা যাতে এই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে আবেদন জানাতে পারেন, সেটা নিশ্চিত করতেই রাজ্যে গঠন করা হয়েছে ট্রাইবুনাল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ১৯টি ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছে। এই সব ট্রাইবুনালেই কোনও সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা যাবে। ট্রাইবুনাল আবেদনের নিষ্পত্তি করবে।
কলকাতা হাইকোর্ট-এর প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের সুপারিশ মেনে ১৯টি ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ভোটার অন্তর্ভুক্ত করা বা বাদ দেওয়ার কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিযোগ থাকলে ট্রাইবুনালে আপিল করা যাবে। এখানেই হবে শুনানি।