শুভেন্দু অধিকারীর মানহানির নোটিসকয়লা কেলেঙ্কারি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মন্তব্যের জন্য তাঁর মানহানি হয়েছে। তাই মুখ্যমন্ত্রীকে মানহানির আইনি নোটিস পাঠালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিজের বক্তব্যের স্বপক্ষে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রমাণ দিতে হবে। নইলে মানহানির মামলা করা হবে বলে শুভেন্দুর আইনজীবী সূর্যনীল দাস একটি নোটিস পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীকে। আর নিজের এক্স হ্যান্ডেলে এই নোটিস সম্পর্কে বিশদে জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা।
কী বলা হয়েছে এই আইনি নোটিসে?
এই নোটিসে দাবি করা হয়েছে যে ৮ এবং ৯ জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন যার কোনও ভিত্তি নেই। এই সব মন্তব্য অসত্য এবং মানহানির কারণ। তাই এই নোটিস পাঠানো হয়েছে।
এই নোটিসে আরও দাবি করা হয়েছে যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কয়লা কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নামও তোলেন। এমনকী এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর নামও জড়িয়ে দেন। তিনি দাবি করেন, কয়লা পাচারের টাকা শুভেন্দুর মাধ্যমে অমিত শাহের কাছে যায়। কিন্তু তিনি যে এ সব অভিযোগ করেছেন, তার স্বপক্ষে কোনও তথ্য বা প্রমাণ সামনে আনা হয়নি। তাই মানহানির নোটিস দেওয়া হয়েছে।
৭২ ঘণ্টা সময়....
এই নোটিসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজের মন্তব্যের স্বপক্ষে প্রমাণ দেওয়ার জন্য ৭২ ঘণ্টা দিয়েছেন শুভেন্দুর আইনজীবী। নইলে দেওয়ানির পাশাপাশি ফৌজদারি মানহানির মামলাও করা হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে এই চিঠিতে।
অশালীন ইঙ্গিতও রয়েছে
এই নোটিসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের কড়া নিন্দা করা হয়। আইনজীবীর পক্ষ থেকে জানান হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ধরনের বক্তব্য শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে করেছেন, সেগুলি অত্যন্ত অশালীন এবং অসম্মানজনক। শুভেন্দু অধিকারীকে যে 'দত্তক সন্তান' বলা হয়েছে, এই মন্তব্যেরও কড়া নিন্দা করা হয় এই নোটিসে। এই মন্তব্যের জন্য শুভেন্দুর সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে বলে করা হয় দাবি। পাশাপাশি পারিবারিক সম্মানও কমেছে বলে জানান তাঁর আইনজীবী।
নজর ঘোরানোর একটা চেষ্টা
আসলে কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্তে আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের অফিস এবং সল্টলেকের অফিসে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি বা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। আর সেই রেড নিয়ে যত বিতর্কের সূত্রপাত। এই তল্লাশির মাধ্যমে তৃণমূলের ভোট তথ্য চুরি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী কয়লা কেলেঙ্কারির সঙ্গে শাহ এবং শুভেন্দুর নাম জড়িয়ে দেন। আর তদন্তের থেকে চোখ ঘুরিয়ে দিতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই কাজটা করেছেন বলে এই নোটিসে দাবি করেছেন শুভেন্দুর আইনজীবী।