বিহার মডেল বাংলায়? হুমায়ুন-ওয়েইসি জোটে বাড়ছে রাজনৈতিক জল্পনা 

তবে এই জোট ঘিরে প্রশ্নও কম নয়। কারণ, এর আগে এআইএমআইএম-এরই একাংশ নেতা হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। বিশেষ করে সাইদ আসিম ওয়াকার তাঁকে বিজেপি ঘনিষ্ঠ বলে কটাক্ষ করেছিলেন এবং শুভেন্দু অধিকারী ‘ঘনিষ্ঠ’ বলেও দাবি করেন। সেই প্রেক্ষাপটে হঠাৎ এই জোট অনেকের কাছেই বিস্ময়কর।

Advertisement
বিহার মডেল বাংলায়? হুমায়ুন-ওয়েইসি জোটে বাড়ছে রাজনৈতিক জল্পনা 
হাইলাইটস
  • পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
  • বাবরি মসজিদ পুনর্নির্মাণের ঘোষণা করে আলোচনায় আসা হুমায়ুন কবির এবার হাত মিলিয়েছেন আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল অল ইন্ডিয়া মজলিস এ ইত্তেহাদুল  মুসলিমীনের সঙ্গে।

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বাবরি মসজিদ পুনর্নির্মাণের ঘোষণা করে আলোচনায় আসা হুমায়ুন কবির এবার হাত মিলিয়েছেন আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল অল ইন্ডিয়া মজলিস এ ইত্তেহাদুল  মুসলিমীনের সঙ্গে। দুই দলের মধ্যে আসন সমঝোতাও চূড়ান্ত। হুমায়ুন কবিরের দল লড়বে ১৮২টি আসনে, আর এআইএমআইএম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ৮টি আসনে।

তবে এই জোট ঘিরে প্রশ্নও কম নয়। কারণ, এর আগে এআইএমআইএম-এরই একাংশ নেতা হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। বিশেষ করে সাইদ আসিম ওয়াকার তাঁকে বিজেপি ঘনিষ্ঠ বলে কটাক্ষ করেছিলেন এবং শুভেন্দু অধিকারী ‘ঘনিষ্ঠ’ বলেও দাবি করেন। সেই প্রেক্ষাপটে হঠাৎ এই জোট অনেকের কাছেই বিস্ময়কর।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে বাস্তব রাজনৈতিক সমীকরণ। বাংলায় এআইএমআইএম একা লড়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়নি। ফলে এবার শক্তিশালী কোনও স্থানীয় মুখের সঙ্গে জোট বাঁধা ছিল তাদের জন্য কৌশলগত প্রয়োজন। সেই জায়গায় হুমায়ুন কবিরকে ‘মুসলিম মুখ’ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন ওয়াইসি।

অন্যদিকে, হুমায়ুন কবিরও নিজের রাজনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে এবং বৃহত্তর ভোটব্যাঙ্কে পৌঁছতে এই জোটকে হাতিয়ার করেছেন। বিশেষ করে মালদা, মুর্শিদাবাদ ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মুসলিম ভোটারদের আকৃষ্ট করাই এই জোটের মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

বিহারের অভিজ্ঞতাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে এআইএমআইএম সীমাঞ্চল অঞ্চলে কয়েকটি আসন জিতে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছিল। সেই মডেলকেই বাংলায় প্রয়োগ করার চেষ্টা করছেন ওয়াইসি। তবে বাংলার রাজনৈতিক বাস্তবতা আলাদা, এখানে তৃণমূল কংগ্রেস ও অন্যান্য শক্তিশালী দলের উপস্থিতিতে নতুন জোট কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েই গেছে।

সব মিলিয়ে, এই জোট আদর্শগত মিলের চেয়ে বেশি রাজনৈতিক প্রয়োজনের ফল বলেই মনে করা হচ্ছে। একা লড়াইয়ে সীমিত সাফল্যের অভিজ্ঞতা থেকেই ওয়াইসি বুঝেছেন, জোটই তাঁর জন্য কার্যকর পথ। এখন দেখার, এই সমীকরণ বাংলার ভোটে কতটা ফলপ্রসূ হয়।

Advertisement

 

POST A COMMENT
Advertisement