
প্রায় ৩৬টি আসন ছিল, যেখানে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান ছিল ৫ হাজারেরও কম।West Bengal Assembly Election 2021 Close Seats List: সামনেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬। রাজ্যে শেষ বিধানসভা ভোট হয়েছিল ২০২১ সালে। সেবার পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু আসনে অতি সামান্য ভোটের ব্যবধানে ফল নির্ধারণ হয়েছে। প্রায় ৩৬টি আসন ছিল, যেখানে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান ছিল ৫ হাজারেরও কম। ২৯২টি মোট আসনের নিরিখে কিন্তু এটা মোটেও কম নয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আসনগুলি TMC-BJP উভয়ের পক্ষেই বেশ চিন্তার বিষয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই 'ক্লোজ কনটেস্ট' আসনগুলি আগামী নির্বাচনের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সামান্য ভোটের ওঠানামাই জয়-পরাজয়ের সমীকরণ পাল্টে দিতে পারে।
২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল
| দল | জেতা আসন |
|---|---|
| তৃণমূল কংগ্রেস | 213 |
| বিজেপি | 77 |
| অন্যান্য | 2 |
| মোট | 292 |

২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরলেও, বহু আসনে ব্যবধান ছিল খুবই কম।
৫ হাজারের কম ব্যবধান ছিল, এমন কিছু উল্লেখযোগ্য আসন
| আসন | জয়ী প্রার্থী | দল | ব্যবধান (ভোট) |
|---|---|---|---|
| দিনহাটা | নিশীথ প্রামাণিক | বিজেপি | 57(যদিও পরে উপনির্বাচনে হেরে যান নিশীথ) |
| জলপাইগুড়ি | প্রদীপ কুমার বর্মা | তৃণমূল | 941 |
| নন্দীগ্রাম | শুভেন্দু অধিকারী | বিজেপি | 1,956 |
| ফালাকাটা | দীপক বর্মন | বিজেপি | 3,990 |
| ধূপগুড়ি | বিষ্ণুপদ রায় | বিজেপি | 4,355 |
| কোচবিহার দক্ষিণ | নিখিল রঞ্জন দে | বিজেপি | 4,931 |
(সূত্র: নির্বাচন কমিশন ও সরকারি ফলাফলের তালিকা)
চার্ট: কম ব্যবধানের আসনের সংখ্যা

উপরের এই চার্ট থেকেই বোঝা যায়, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে লড়াই বেশ হাড্ডাহাড্ডিই ছিল।
আগামী নির্বাচনে এই আসনগুলি নিয়ে কী ভাবছে TMC, BJP?
এই বিষয়ে তৃণমূলের দেবাংশু ভট্টাচার্য bangla.aajtak.in কে জানালেন, '২০২১ সালে অ্যাভারেজ ভোট ব্যবধানের নিরিখে তৃণমূল যথেষ্ট এগিয়ে ছিল। গড় ব্যবধানই ছিল ৩০,০০০ ভোট। আর যদি ক্লোজ মার্জিনগুলি দেখা হয়, সেখানে বেশিরভাগই অল্প ভোটে বিজেপি এগিয়ে ছিল।'
বিজেপির এই অল্প ভোটে এগিয়ে থাকা আসনগুলিই 'বাগে আনতে' চাইছে TMC। এমনটাই জানালেন দেবাংশু। অন্যদিকে যেখানে TMC অল্প ব্যবধানে এগিয়ে ছিল? দেবাংশুর কথায়, 'আমাদের লক্ষ্য সব সিটেই ভোটের মার্জিন বাড়ানো। TMC যেখানে এগিয়ে, সেগুলিও তার মধ্যে পড়ছে। তাই যেখানে পিছিয়ে ছিল, সেখানেই বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।'
তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলছেন, 'সার্বিকভাবে সব আসনেই সমান জোর দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। তবে ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে তার আগের, ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনের একটা প্রভাব ছিল। সেবার বিজেপি লোকসভায় ২ থেকে ১৮ টি আসনে উঠে এসেছিল। ফলে ২০২১ এ বিধানসভায় বিজেপি আসবে, এমন একটা হাওয়া তৈরি হয়েছিল।'
তাঁর মতে, 'লোকসভায় যে ১৮টি সিটে বিজেপি জিতেছিল, সেই এলাকার বিধানসভাগুলি সব জিতলে ১৩৫-১৩৮ আসন পাওয়ার কথা। কিন্তু তার পরবর্তীতে ৭৭-এ আটকে গিয়েছিল। তারপর উপনির্বাচনে TMC অনেকটাই এগিয়ে যায়।'
তাহলে তো আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ২০২৪ এর লোকসভারও প্রভাব পড়ার কথা? জয়প্রকাশ বললেন, '২০২৪ এ সিট ১৮ থেকে কমে ১২ হয়েছে। সুতরাং এবার কম মার্জিনের জায়গাগুলি TMC র হাতেই আসবে। তবে সার্বিকভাবে দেখলে এবারের নির্বাচনে ফলাফল আগের থেকে আরও ভাল হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।'
অন্যদিকে এই বিষয়ে রাহুল সিনহা কী ভাবছেন? তাঁর বিশ্লেষণ, 'যে আসনগুলিতে বিজেপি জিততে পারেনি, বাড়তি জোর সেখানেই দেওয়া হবে। আর যেখানে তৃণমূল ২-৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে এগিয়েও গিয়েছে, সেখানেও SIR হয়েছে। তাতে কোথাও কোথাও ৪০ হাজার পর্যন্ত ভোট বাদ পড়ছে। তার ফলে অনেক ভুয়ো ভোট বাদ যাবে।' ফলে SIR এর প্রভাবেই সেই আসনগুলিতে সমীকরণ বদলে যাবে বলে মনে করছেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি।
ফলে এক কথায়, ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন বহু 'ক্লোজ ফাইট' এর সাক্ষী। ৫ হাজারের কম ব্যবধানের এই আসনগুলিই প্রমাণ করে যে, গণতন্ত্রে প্রতিটি ভোটের মূল্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আগামী নির্বাচনে এই আসনগুলিই ফের বাংলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। এমনটাই মত বিশ্লেষকদের। আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে বঙ্গবাসী।