মুখ্যসচিব-ডিজি অপসারণ নিয়ে তোপ মমতারভোট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক স্তরে বদল এনেছে নির্বাচন কমিশন। মুখ্যসচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় নন্দিনী চক্রবর্তীকে। দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকেও। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভোট শেষ না-হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজ করতে পারবেন না তাঁরা। রাজ্যের ডিজিপি পীযূষ পাণ্ডে এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকেও পদ থেকে সরিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই নিয়ে মুখ খুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজ্য বিধানসভা ভোটের আবহে এদিন ফের রাজপথে নামেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশ তথা বাংলাজুড়ে গ্যাস সঙ্কট এবং গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সোমবার মিছিল করেন তিনি। মিছিল শেষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের শীর্ষ আমলাদের বদলির বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘গত রাতে কী করলেন? মধ্যরাতে মেসেজ পেলাম, কাউকে কাজে লাগিয়ে ছুপারুস্তমের মতো গুপ্ততাণ্ডব করছে। বাঙালি মহিলা চিফ সেক্রেটারি, ওঁকে বদলে দিয়েছেন। ওঁরা অ্যান্টি উইম্যান... এ যেন মগের মুলুক। আগে নিয়ম ছিল রাজ্য সরকারের কাছে লিস্ট চাইতেন। আমরা তিনটে করে নাম পাঠাতাম। ওরা সিলেক্ট করত। এ তো মগেরমুলুক। জমিদার, জোরদার এরা। এক জন মহিলাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বার করে দিলেন। এক বার রাজ্যকে জিজ্ঞাসাও করলেন না! ডিজি কে ছিলেন পীযূষ পাণ্ডে। তাঁকেও এক কথায় বাদ। আপনারা শুধু বাঙালি নয়, অবাঙালিদেরও বাদ দিচ্ছেন। আসলে আপনারা বেছে বেছে দেখছেন কারা বিজেপির হয়ে কাজ করবে। যাঁকেই পাঠান, তাঁরা আমাদের হয়ে কাজ করবেন। মানুষের হয়ে কাজ করবেন।’
মমতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মিটিংয়ে বলছেন, চুন চুনকে মারেঙ্গে। আমি ওনাকে বলি দেশকে কী ভাবে রক্ষা করবেন? আপনার মুখে এটা শোভা পায় না।’ তৃণমূল নেত্রীর আরও বক্তব্য, ‘এত পাবলিসিটি না করে গ্যাসের দামটা ঠিক করতে পারতেন। উনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেন, এখানে কাজ নেই। তাই বাইরে যাচ্ছে বাঙালি। আমি বলি, উত্তরপ্রদেশ, বিহারের কত মানুষ কাজ করেন? তোমাদের রাজ্যে মেধা নেই বলে বাঙালিদের নিয়ে যাও।’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, শুধু বাঙালি নয়, অবাঙালিদেরও বাদ দিচ্ছেন। আসলে আপনারা বেছে বেছে দেখছেন কারা বিজেপির হয়ে কাজ করবে। তাঁদেরকেই এখানে পাঠাচ্ছেন। কিন্তু লাভ হবে না। যতই লোক পাঠাক, বাংলার সরকার বদল করতে পারবে না।