এর আগেও বাংলা রাজনীতিতে বারবার ‘পিতা-পুত্র’ সমীকরণ দেখা গিয়েছে।বাংলার রাজনীতিতে ‘বংশবাদে’র চর্চা। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে শ্রীরামপুরের দাপুটে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) এবং তাঁর পুত্র। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে জোড়াফুল শিবিরের হয়ে টিকিট পেয়েছেন কল্যাণ-পুত্র শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এই প্রথম নয়। এর আগেও বাংলা রাজনীতিতে বারবার ‘পিতা-পুত্র’ সমীকরণ দেখা গিয়েছে।
ঐতিহ্যের ব্যাটন না কি রাজনৈতিক উত্তরাধিকার?
বাংলার রাজনীতিতে পরিবারের হাতে ক্ষমতার ব্যাটন তুলে দেওয়া নতুন কিছু নয়। উত্তর থেকে দক্ষিণ সর্বত্রই ছড়িয়ে এমন সব উদাহরণ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে জনভিত্তি ধরে রাখতেই দলগুলি প্রভাবশালী নেতাদের পরিবারের সদস্যদের ওপর ভরসা করে। তবে ২০২৬-এর নির্বাচনে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর পুত্রের প্রার্থীপদ ঘিরে যে আলোড়ন তৈরি হয়েছে, তা শাসক শিবিরের অন্দরে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
পাঁজা থেকে অধিকারী
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে ‘পিতা-পুত্র’ বা ‘দুই প্রজন্মের’ দাপট লক্ষ্য করলে কয়েকটি নাম সবার আগে উঠে আসে:
১. পাঁজা পরিবার: উত্তর কলকাতার রাজনীতিতে অজিত পাঁজা এক অবিসংবাদী নাম। তাঁর পর সেই ব্যাটন সযত্নে বহন করেছেন কন্যা শশী পাঁজা।
২. অধিকারী পরিবার: শিশির অধিকারী এবং শুভেন্দু অধিকারীর প্রভাব মেদিনীপুরের রাজনীতিতে কারও অজানা নয়। দল আলাদা হলেও, বাবা-ছেলের রাজনৈতিক প্রভাব অস্বীকার করার জায়গা নেই।
৩. সিং পরিবার (ভাটপাড়া): অর্জুন সিং এবং তাঁর পুত্র পবন সিং-এর দাপট শিল্পাঞ্চলে রীতিমতো চর্চার বিষয়। বারংবার দলবদল সত্ত্বেও এই পরিবার নিজেদের রাজনৈতিক জমি ধরে রেখেছে।
৪. মতুয়া ঠাকুরবাড়ি: বড়মা বীণাপাণি দেবীর উত্তরসূরি হিসেবে শান্তনু ঠাকুর, মমতাবালা ঠাকুর এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে বনগাঁ ও সংলগ্ন এলাকায় রাজনীতির চালিকাশক্তি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন শাসক দলের কাছে যেমন বড় চ্যালেঞ্জ, তেমনই বিরোধীদের কাছেও বড় চ্যালেঞ্জ। কল্যাণের মতো হেভিওয়েট নেতার পাশে তাঁর ছেলেকে প্রার্থী করে নতুন প্রজন্মকে তুলে ধরার কৌশল কি কাজ করবে? না কি এতে দলের অন্দরেই অন্য কোনও বিরোধ দানা বাঁধবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলা তথা গোটা দেশেই বংশানুক্রমিক রাজনীতির প্রভাব অনস্বীকার্য। ভোটাররা অনেক সময় পরিচিত মুখ বা প্রভাবশালী পরিবারের নামেই ভরসা করেন। তবে বর্তমান সময়ে ভোটারদের একাংশ 'বংশবাদ' নিয়ে যথেষ্ট সচেতন। শেষ পর্যন্ত ভোটবাক্সে এর কী প্রভাব পড়ে, তার উত্তর সময়ই দেবে।