বিজেপির ভোট শেয়ার কমল২০১৯ সালে হু হু দৌড়েছিল BJP-এর বিজয় রথ। BJP-এর ইতিহাসে পশ্চিমবঙ্গে সবথেকে বেশি ভোট পেয়েছিল। তাদের ঝুলিতে গিয়েছিল প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট। জিতেছিল ১৮টি আসন। তারপরই অনেকে ভাবতে শুরু করেছিলেন যে এবার বোধহয় পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি চলে এল ক্ষমতায়। সেই মতো রাজনৈতিক প্রচারও চলছিল। যদিও বিজেপি-এর পরিকল্পনা মাফিক এগয়নি ২০২১ সালের বিধানসভা ভোট। সেই ভোটে তাদের ভোটের শতাংশ প্রায় ৩৮ শতাংশে নেমে আসে। উল্টে বেড়ে যায় তৃণমূলের ভোট। যার ফলে মাত্র ৭৭-এ আটকে যায় বিজেপি।
এখন প্রশ্ন হল, যেই গতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল বিজেপির গাড়ি, তাতে হঠাৎ ব্রেক লাগল কেন? আর ২০২৬ ভোটের আগে সেই উত্তরটাই খোঁজার চেষ্টা করল bangla.aajtak.in।
১. লোকসভা ও বিধানসভা ভোটের চরিত্র আলাদা
বিশেষজ্ঞদের মতে, সব ভোটের নিজস্ব চরিত্র রয়েছে। লোকসভা ভোটে মানুষ যেই সব বিষয়গুলি মাথায় রেখে ভোট দেয়, সেই ইস্যুগুলি বিধানসভা ভোটের সময় ততটা জোরাল নাও হতে পারে। তখন মানুষ আরও বেশি স্থানীয় ইস্যুর উপর জোর দেয়। যার ফলে রাজনীতির পাশা বদলে যায়।
মাথায় রাখতে হবে, ২০১৯ সালের ভোটের বিজেপির মুখ ছিলেন নরেন্দ্র মোদী। তাঁর প্রতিচ্ছবির উপর দাঁড়িয়ে অনেকটাই ভোট পেয়েছে বিজেপি। অপর দিকে যখন ২১-এর বিধানসভা ভোট এসেছে, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখই সামনে থেকেছে। কারণ, মমতা বাংলার মেয়ে। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে। সেটা বাংলা বিজেপির কোনও নেতারই ছিল না। যার ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট টেনেছেন। কমেছে বিজেপি।
২. মহিলা ভোট
মাথায় রাখতে হবে তৃণমূল কংগ্রেস মহিলাদের জন্য একাধিক স্কিম চালায়। এগুলির মধ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও কন্যাশ্রী রয়েছে। আর সেই সব স্কিমের ফসল তুলেছেন মমতা। তিনি মহিলাদের কাছ থেকে ভাল সংখ্যায় ভোট ঘরে তুলেছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। অন্য দিকে ভোট কমেছে বিজেপির। গেরুয়া বাহিনীকে মহিলা বিরোধী সাজাতে কিছুটা হলেও সাফল্য পেয়েছিল তৃণমূল।
৩. তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের উপর বাড়তি ভরসা
২০১৯ সালে বিপুল ভোট পাওয়ার পর তৃণমূল থেকে এক ঝাঁক নেতাকে নিয়ে নেয় বিজেপি। সেই তালিকায় সব্যসাচী দত্ত থেকে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে একাধিক হেভিওয়েট নাম রয়েছে। আর অনেক ক্ষেত্রেই এই সব নেতাদের মেনে নিতে পারেনি বিজেপির সাধারণ কর্মী সমথর্করা। এমনকী কর্মীদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন এই সব তৃণমূল থেকে আসা নেতারাও। যার ফলে দলের মধ্যেই একটা ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ভোটের রেজাল্টে।
৪. সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্ক
একটা সময় রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্ক তৃণমূল ও বাম-কংগ্রেসের মধ্যে ভাগ হতো। তবে ২০১৯ সালে বিজেপির উত্থানের পর বাংলার মুসলমান সমাজের একটা বড় অংশের কাছে প্রধান শত্রু হয়ে দাঁড়ায় বিজেপি। আর ত্রাতা হিসেবে দেখা দেয় তৃণমূল। যার ফলে তৃণমূল ভোট যুদ্ধে অনেকটাই এগিয়ে যায়।
৫. বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়
২০২১ সালের ভোটের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বাংলার মেয়ে, সেটা ভাল ভাবে প্রচার করে তৃণমূল। অন্য দিকে বিজেপিকে উত্তর ভারতের পার্টি বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়। আর জাতিসত্তার এই লড়াইতেও কিছু ভোট বিপক্ষে যায় বিজেপির। অ্যাডভান্টেজ পায় তৃণমূল।