যুবসাথী প্রকল্পের টাকা ঢুকবে? ভোটের বাজারে সাড়া ফেলে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুবসাথী প্রকল্প। মাধ্যমিক পাশ বেকার যুবক-যুবতীদের মাসে দেড় হাজার টাকার এই প্রকল্প এখন 'ট্রেন্ডিং'। ইতিমধ্যেই শহরজুড়ে ক্যাম্প বসেছিল এই প্রকল্পে আবেদন গ্রহণের জন্য। অনলাইন এবং অফলাইন, দু'ভাবেই ফর্ম ফিলআপ করার সুযোগ পেয়েছেন আবেদনকারীরা। জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ৮৪ লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে যুবসাথী প্রকল্পে। কিন্তু, সকলের মনেই প্রশ্ন, ভোট ঘোষণা হয়ে গেলে কিংবা বিধানসভা নির্বাচন শুরু হলে কি যুবসাথীর টাকা পাওয়া যাবে?
কত আবেদন জমা পড়েছে?
১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শিবির করে যুবসাথী প্রকল্পের ফর্ম বিলি ও জমা নেওয়ার কাজ শুরু হয়। বৃহস্পতিবার রাত ১২টা পর্যন্ত অনলাইনে ফর্ম জমা নেওয়ার পরিষেবা চালু ছিল। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, অফলাইন শিবিরে প্রায় ৬৫ লক্ষের বেশি ফর্ম জমা পড়েছে। অনলাইনে ফর্ম ফিলআপ করেছেন প্রায় ১৯ লক্ষের বেশি।
ভোটের আগে যুবসাথীর টাকা মিলবে?
অন্তর্বর্তিকালীন বাজেটে যুবসাথী প্রকল্প চালুর ঘোষণা করেছিলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তখন বলা হয়েছিল, ১৫ অগাস্ট থেকে প্রকল্পটি চালু হবে। পরবর্তী সময়ে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১ এপ্রিল থেকে প্রকল্প চালুর কথা ঘোষণা করেন। এই প্রকল্প ঘোষণার পর থেকে যুবসমাজের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। সেই আগ্রহ দেখেই ব্লকভিত্তিক শিবির ও অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে দ্রুত আবেদন সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,মার্চ মাসে যে কোনও দিন বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হবে। আর একবার ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পর আদর্শ আচরণবিধি লাগু হয়ে যাবে। সেই সময় নতুন কোনও প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা চালু করা যায় না। ফলে ভোটের আগে মিলবে না যুবসাথীর টাকা।
আবার একাংশের মতে, এ পর্যন্ত যে সমস্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়ে গিয়েছে, সেগুলিতে অ্যাপ্রুভাল চলে এলে ভোট ঘোষণা হলেও ১ এপ্রিল থেকে টাকা মিলবে কারণ সেটি ইতিমধ্যে ঘোষিত প্রকল্পের সুবিধা, নতুন আবেদন নয়। তবে আবেদনকারীদের ফর্ম স্ক্রুটিনি করার পর কোনও অসঙ্গতি থাকলে তা পুনরায় জমা করার জন্য সময় দেওয়া যাবে না আদর্শ আচরণবিধি লাগু থাকলে। সেক্ষেত্রে ফর্ম ফিলআপ করলেও প্রকল্পের সুবিধা ভোটের মধ্যে আর পাবেন না তাঁরা। অর্থাৎ ১ এপ্রিল থেকে আদৌ প্রকল্পের টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, বাস্তবে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া সম্ভব না-ও হতে পারে।