সন্দীপন সাহা ও প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল।-ফাইল ছবিএন্টালি বিধানসভা কেন্দ্রে এবার এক অন্যরকম রাজনৈতিক সমীকরণ। তিনবারের বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার বদলে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করেছে তাঁর ছেলে সন্দীপন সাহাকে। বাবার তৈরি করা শক্ত জমিতেই এবার ভোটের লড়াইয়ে নামছেন ছেলে। স্বাভাবিকভাবেই এই কেন্দ্র ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে।
প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই সাহা পরিবারের বাড়িতে কর্মী-সমর্থকদের ভিড় লেগেই রয়েছে। বাড়ির দোতলার অফিসঘরে পাশাপাশি বসে বাবা-ছেলে দু’জনে মিলে প্রচারের প্রস্তুতি সামলাচ্ছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে স্বর্ণকমল যেমন পরামর্শ দিচ্ছেন, তেমনই ময়দানে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন সন্দীপন।
প্রায় এক দশক কাউন্সিলর হিসেবে কাজ করার সুবাদে এন্টালির পাঁচটি ওয়ার্ডেই পরিচিত মুখ সন্দীপন। বাবার সঙ্গে ঘুরে ঘুরে এলাকার সমস্যার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেছেন তিনি। ফলে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগও যথেষ্ট দৃঢ়। দলের দাবি, তৃণমূল স্তরে কাজ এবং মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কই তাঁকে প্রার্থী করার অন্যতম কারণ।
এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা কিছুটা কমেছে। তবুও সন্দীপনের কথায়, 'এতে লড়াই কঠিন হবে না। ২০২১ সালের ভোটে এই কেন্দ্র থেকে বড় ব্যবধানে জিতেছিলেন বাবা। তাই অঙ্কের হিসেবে এখনও এই আসনে তৃণমূলের অবস্থান মজবুত।'
নিজের কাজের খতিয়ান তুলে ধরে সন্দীপন বলেন, 'সারা বছর ধরেই আমরা মানুষের পাশে রয়েছি। ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্তের জোগান নিশ্চিত করা হয়েছে সারাবছর।' জানালেন, কলকাতা পুরসভায় কর দেওয়ার ডিজিটাল সুবিধা, বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তাঁর তত্ত্বাবধানে। ভবিষ্যতে যুব সমাজের উন্নয়ন ও শিক্ষার প্রসারই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল এই কেন্দ্রের উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, এন্টালিতে বাস্তব উন্নয়ন হয়নি, বরং পরিবারতন্ত্রই এখানে প্রধান। ৫৮ ওয়ার্ডের বেহাল দশা তুলে ধরেই একটি ভিডিওতে। বলেন, 'এই হল উন্নয়নের পাঁচালী। কার উন্নয়ন হয়েছে, বাপ-ব্যাটার।' এর জবাবে সন্দীপন বলেন, 'উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং সময়ের সঙ্গে তা আরও এগিয়ে যাবে।'
উল্লেখযোগ্যভাবে, সন্দীপনের পেশাগত জীবন শুরু হয়েছিল বিদেশে। লন্ডনে চাকরি করার পর দেশে ফিরে বেঙ্গালুরুতে কাজ করেছেন। সেখান থেকে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে এখন বিধানসভা নির্বাচনে লড়াইয়ের ময়দানে তিনি।
সব মিলিয়ে, এন্টালিতে এবার ‘বাবা-ছেলের’ রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বনাম বিরোধীদের চ্যালেঞ্জ, এই লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।