scorecardresearch
 
বাংলাদেশ

হেফাজতে নেতার কীর্তি ফাঁস, রিসর্টে হাতেনাতে পাকড়াও মহিলার সঙ্গে

Hefazat e Islam
  • 1/9

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী  গত সপ্তাহে  দুই দিনের সফরে ২৬ মার্চ বাংলাদেশে গিয়েছিলেন। তার এই সফর ঘিরে  বাংলাদেশে প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল। পুলিশের সাথে  সংঘর্ষে প্রায় এক ডজন মানুষ প্রাণ হারান। বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশের পূর্ব প্রান্তের জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ট্রেন, সরকারি অফিস এবং কয়েকটি মন্দিরকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এই সহিংস প্রতিবাদের পিছনে ছিল উগ্র ইসলামী সংগঠন 'হেফাজতে ইসলাম' এর সমর্থকরা। প্রধানমন্ত্রী মোদীর বাংলাদেশ সফরকালে বেশ কয়েকদিন ধরে খবরে থাকা  হেফাজতে ইসলাম আবারও বাংলাদেশে খবরের শিরোণামে। ওই সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবার রিসর্টে ধরা পড়লেন এক মহিলার সঙ্গে। বিষয়টি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।   এ জাতীয় লোক ইসলামের নামে কলঙ্ক বলেছেন, হাসিনা।
 

Hefazat e Islam
  • 2/9

মৌলবাদী সংগঠন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হক রিসর্টে এক মহিলার সাথে হাতে নাতে ধরা পড়েন। এর পরেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংগঠনটিকে ইসলামের নামে কলঙ্ক বলে অভিহিত করেন। যে মহিলার সাথে মামুনুল হক ধরা পড়েন, তিনি  তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেছেন হেফাজতে নেতা।

Hefazat e Islam
  • 3/9

ঢাকা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক গত শনিবার (৩ মার্চ) এক নারীকে নিয়ে সোনারগাঁওয়ের রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষে ওঠেন। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর উত্তেজিত জনতা রিসোর্টে ঢুকে ওই নারী সঙ্গীসহ তাকে অবরুদ্ধ করে। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে মামুনুল হককে উদ্ধার করে। মামুনুল রিসর্টে প্রবেশের সময় বিউটি পার্লারে কর্মরত মহিলাকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী হিসাবে পরিচয় করিয়ে দেন।

Hefazat e Islam
  • 4/9

 এই ঘটনাটি সামনে আসার পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন যে হেফাজতে ইসলাম ইসলামকে কলঙ্কিত  করেছে। রবিবার সংসদের দ্বাদশ অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। দেশজুড়ে সহিংসতা প্রদর্শনকারী হেফাজতে ইসলামের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, 'আমি তার (হেফাজত সাধারণ সম্পাদক) চরিত্র সম্পর্কে কথা বলতে চাই না। তবে আপনারা সকলেই চোখের সামনে দেখেছেন যে শনিবার তিনি অসদ আচরণ করতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন, যখন তিনি সর্বদা কর্ম ও ধর্ম নিয়ে কথা বলেন।'
 

Hefazat e Islam
  • 5/9

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, 'সারাদেশে সহিংস বিক্ষোভ প্রদর্শনের পরে মামুনুল মজা করতে এক সুন্দরী মহিলাকে নিয়ে রিসর্টে গিয়েছিলেন। এরা ইসলামের নামে কলঙ্ক, ইসলামকে লজ্জা দিচ্ছে। '
 

Hefazat e Islam
  • 6/9

প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করেন যে ইসলামে বিশ্বাসী ব্যক্তি কীভাবে মিথ্যা বলতে পারেন? এই জাতীয় লোকেরা কী ধর্ম পালন করবে এবং মানুষকে কী শিক্ষা দেবে? শেখ হাসিনা বলেন, এ জাতীয় কিছু লোকের অপকর্মের কারণে চরমপন্থী, সন্ত্রাসী ও চরিত্রহীন মানুষের নাম এখন ইসলামের সাথে যুক্ত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন,  তারা কেবল শান্তির ধর্ম ইসলামকে দূষিত করছে।  হেফাজতে নেতৃত্বকে  বিষয়টি নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করার কথা বলেন হাসিনা।
 

Hefazat e Islam
  • 7/9

হেফাজতে ইসলাম বিগত কয়েক বছর ধরে শক্তি বাড়াচ্ছে। এই সংগঠনের  রাজনৈতিক আধিপত্যও বাংলাদেশে বেড়েছে। সংগঠনটি ধর্মনিরপেক্ষতার বিপক্ষে।  বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামি লিগের কাজে বাধা হয়ে উঠেছে। মহিলাদের অধিকার সম্পর্কিত বিল হোক বা বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতা পুনরুদ্ধারের বিষয়ে সংবিধান সংশোধন করার বিষয়টিই হোক না কেন, প্রতিটি বিষয়ে এই সংগঠনটি শেখ হাসিনার সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে। এখন তাই হেফাজে নেতা  মহিলার সাথে ধরা পড়ার পড় বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন  প্রধানমন্ত্রী হাসিনা। 
 

Hefazat e Islam
  • 8/9

হেফাজতে ইসলাম নিজেদেরকে ইসলামের রক্ষাকারী হিসাবে দাবি করে। ২০১০ সালে সংগঠনটির জন্ম। ২০০৮ সালে, বাংলাদেশ সরকার জাতীয় সম্পদ, উত্তরাধিকার, ঋণ, জমির ভাগ ইত্যাদিতে সমান অংশীদারির জন্য জাতীয় মহিলা উন্নয়ন নীতি বিল খসড়া করে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনার দল আওয়ামি লিগ নির্বাচনে জয়লাভ করে। শেখ হাসিনার সরকার গঠনের পরে ধর্মনিরপেক্ষ জনগণ সাংবিধানিকভাবে সামরিক শাসনের সময় কার্যকর হওয়া ধর্মনিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনার জন্য পঞ্চাশতম সংশোধনী বাতিলের দাবি করেছিল। 
 

Hefazat e Islam
  • 9/9

কিন্তু বাংলাদেশে এই পরিবর্তনগুলি বিবেচনা করে ইসলামী মৌলবাদীরা মনে করেছিলেন যে তাদের রাজনৈতিক বৃত্তটি সঙ্কুচিত হচ্ছে। এতে অসন্তুষ্ট হয়ে বাংলাদেশের একাধিক ইসলামী দল হিফাজতে ইসলাম নামে একটি সংগঠন গঠন করে। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংগঠনটি চট্টগ্রামে মহিলা বিলের বিরুদ্ধে  বিক্ষোভ দেখিয়েছিল এবং সংবিধানের পঞ্চাশতম সংশোধনীর পক্ষে ছিল। সেই থেকে এই সংগঠনটি তাদের বক্তব্য তুলে ধরতে প্রায়শই বিক্ষোভের পথে হেঁটে থাকে।