'তেরঙার সম্মান রেখেছেন নানা পাটেকর। ছবির মাধ্যমে সমাজে থাকা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। দেশবিরোধীদের উপর নিয়ন্ত্রণ সমর্থন করতেন'। প্রতিক্রিয়া দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
নানা পাটেকরের আকস্মিক মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়লেন অভিনেতা অনুপম খের। শোকস্তব্ধ মিঠুন চক্রবর্তীও। মিঠুনের কথায়, 'বদআমার খুব ভাল বন্ধু ছিল। বহু মানুষের উপকার করেছে। অনেকে বলত, নানা পাটেকর খুব বদ রাগী। আরে ভাই, রাগ তখনই হয়, যখন আপনি আনঅর্গানাইজড না হোন। আমারও রাগ হয়।' নানার ব্যাপারে বলতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন অনুপম খের। তাঁর অভিমান, এত তাড়াতাড়ি চলে যাওয়া ঠিক নয়। ভারতের অন্যতম প্রতিভাবান অভিনেতা। তেমনই ভাল মানুষ।
ছোটবেলায় দারিদ্রতা দেখেছিলেন নানা। বাবার ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ার পর রাস্তায় জেব্রা ক্রসিং রং করতেন। পরে তিনিই হয়ে ওঠেন বাড়ি, ফার্মহাউস, কোটি টাকার মালিক। তবে ছিলেন কৃষকদের মাসিহা।
নানা পাটেকর বলেন, 'ছোটবেলায় আমি একজন অফ স্পিন বোলার ছিলাম। আমরা খুব গরিব ছিলাম। ক্রিকেট শেখার মতো টাকা ছিল না। তাই আমি শিবাজি পার্কে গিয়ে সেখানে যাঁরা নেটে ব্যাটিং করত, তাঁদের বল করতাম।' তিনি জানান, মাত্র ১০ দিন প্র্যাকটিস করার পরই বুঝতে পেরেছিলেন যে ভাল বোলিং করতে পারবেন।
'আ গয়ে মেরি মউত কা তামাশা দেখনে...'। 'ক্রান্তিবীর' সিনেমায় দাপুটে চরিত্রে নানা পাটেকরের এই সংলাপ চিরস্মরণীয়। 'প্রহার' থেকে 'অব তক ছপ্পন' কিংবা হালফিলের 'হাউসফুল' বা 'ওয়েলকাম', নানাবিধ চরিত্রে নানার অভিনয় দক্ষতা ছিল তারিফযোগ্য।
বলিউডের প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকর 'পরিন্দা', 'ক্রান্তিবীর', 'অগ্নিসাক্ষী' এবং 'ওয়েলকাম'-এর মতো বহু সিনেমায় শক্তিশালী অভিনয়ের জন্য দর্শকদের অতি প্রিয়। ক্যারেক্টার আর্টিস্ট যে একটি গোটা সিনেমাকে একার দক্ষতায় টানতে পারেন, তা দেখিয়েছেন নানা পাটেকর।
বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ার বাড়িতে নানা পাটেকরের তীব্র বুকে ব্যথা হয়। সেই খবর যায় হাসপাতালে। খবর পাওয়ার পরই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাঁর ফ্ল্যাটে পাঠানো হয় একটি মেডিক্যাল টিম। ফ্ল্যাটে পৌঁছে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।
আজ ভোরে গোয়ার বাড়িতে তাঁর তীব্র বুকে ব্যথা হয়েছিল। খবর পেয়ে একটি মেডিক্যাল টিমকে তাঁর ফ্ল্যাটে পাঠানো হয়। সেখানে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় বলে জানা যাচ্ছে। এরপর তাঁকে কার্ডিয়াক ম্যাসাজ দেওয়া হয়। এমনকী নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। কিন্তু হাসপাতালের চিকিৎসকরা সকাল ৫টা ২০ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন বলে খরর। যেহেতু এটি একটি মেডিকো-লিগ্যাল কেস, তাই আজই তাঁর ময়নাতদন্ত করা হবে বলে জানা যাচ্ছে।
দেনার কিছুটা শোধ করবেন অভিনেতা রাজপাল যাদব। ১.১৫ কোটি টাকার একটি ডিমান্ড ড্রাফট হাতে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে হাজির হন অভিনেতা। বাকি ৮৫ লক্ষ টাকা জমা দেওয়ার জন্য ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত সময় চান। বিচারপতির কাছে নিজের আর্থিক দুর্দশার কথা তুলে ধরেন রাজপাল। তাঁর স্বগতোক্তি, মানুষকে বিনোদন দিতে গিয়ে নিজেই একটি হাসির পাত্র হয়েছি।
এর পরেই আবেগতাড়িত দেখা গেল রাজপালকে। বললেন, 'প্রথমে ওরা আমাকে বলেছিল আমি নাকি ১০০ কোটি টাকার মালিক। তারপর আমাকে আদালতে টেনে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিল। আমি বছরের পর বছর ধরে মানুষকে বিনোদন দিয়ে এসেছি। এখন আমি নিজেই একটা নাটকে পরিণত হয়েছি। আমি ২০০টা ছবিতে কাজ করেছি, আর ওরা আমার জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছে। এখন আবার কাজ পাচ্ছি। আমি ওদের টাকা তুলে দেব।'
বুধবার সকালে ইনস্টাগ্রামে এক মিষ্টি পারিবারিক ফ্রেম ভাগ করে আবারও মা-বাবা হওয়ার খবর ভাগ করে নিয়েছেন বি-টাউনের এই তারকাদম্পতি। যেখানে দেখা যাচ্ছে সিদ্ধার্থ-কিয়ারার হাতের মাঝে রাখা তাঁদের কন্যাসন্তানের হাত।