scorecardresearch
 

Kanan Devi: পরিচারিকা থেকে দেশের প্রথম সুপারস্টার, কানন দেবীর জীবন এক চিত্রনাট্য

শুধুমাত্র অভিনয় নয়, তার সঙ্গে অমন মধুর গানের গলা! বাংলা হিন্দি মিলিয়ে অসংখ্য চিরস্মরণীয় গানের ঢালি তৈরি করে গিয়েছেন কানন দেবী। তাঁর এক ঝলক দেখার জন্য সে যুগের প্রায় সকল যুবকের হৃদয় উথালপাথাল করে উঠেছে। সেই কানন দেবীর শুরু হয়েছিল পরিচারিকার কাজ দিয়ে।

কানন দেবী কানন দেবী
হাইলাইটস
  • বাংলা হিন্দি মিলিয়ে অসংখ্য চিরস্মরণীয় গানের ঢালি তৈরি করে গিয়েছেন কানন দেবী।
  • অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর ছিল অমর মধুর গানের গলা।
  • রুপোলি পর্দায় তিনি লক্ষ দিলের মলিকা হয়েও ব্যক্তি জীবনে চিরকাল সুখের থেকে দুঃখই বেশি পেয়েছেন।

নিদারুণ দারিদ্রের মধ্যে বেড়ে ওঠা। এতটাই কঠিন পরিস্থিতি ছিল যে দিনে দুবেলা খেতে পর্যন্ত পেতেন না। তখন বয়স কত, ৪-৫ হবে। সেই তখন থেকেই নিজের রাস্তা নিজে তৈরি করতে শেখা কানন বালার। পরবর্তী কালে যিনি ভারতীয় সিনেমার প্রথম সুপারস্টার হয়ে উঠেছিলেন। শুধুমাত্র অভিনয় নয়, তার সঙ্গে অমন মধুর গানের গলা! বাংলা হিন্দি মিলিয়ে অসংখ্য চিরস্মরণীয় গানের ডালি তৈরি করে গিয়েছেন কানন দেবী (Kanan Devi)। তাঁর এক ঝলক দেখার জন্য সে যুগের প্রায় সকল যুবকের হৃদয় উথালপাথাল করে উঠেছে। সেই কানন দেবীর জীবন শুরু হয়েছিল পরিচারিকার কাজ দিয়ে।

এক অদ্ভূত করুণ রাগে বাঁধা ছিল কানন দেবীর গোটা জীবন। রুপোলি পর্দায় তিনি লক্ষ দিলের মলিকা হয়েও ব্যক্তি জীবনে চিরকাল সুখের থেকে দুঃখই বেশি পেয়েছেন। এখানে উল্লেখ করা ভালো, তাঁর জন্মের সাল এবং তারিখ নিয়ে কোনও প্রামাণ্য নথি নেই। কেউ বলেন তাঁর জন্ম ১৯১৪ সালে। কারও মতে ১৯১৬ সালে। তারিখটা ঠিক হয়েছে ২২ এপ্রিল। আরও আশ্চর্যের বিষয় নিজের পিতৃপরিচয়ও জানতেন না কানন দেবী। তাঁর আত্মজীবনী 'সবারে আমি নমি' এবং মেখলা সেনগুপ্ত-র লেখা ‘কানন দেবী: দ্য ফার্স্ট সুপারস্টার অফ ইন্ডিয়ান সিনেমা’বইয়ে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী রতনচন্দ্র দাস এবং রাজবালা দেবীকেই নিজের মা-বাবা বলে পরিচয় দিতেন কানন। ছোট্ট কাননকে এঁরাই মানুষ করার দায়িত্ব দেন। কাননের খুব অল্প বয়সেই রতনচন্দ্র মারা যান। মদ্যপান, জুয়া এবং রেসের নেশা তাঁকে বহুদিক থেকে সর্বস্বান্ত করেছিল। তবে বাবা-মায়ের পরিচয় নিয়ে সর্বসমক্ষে ভাবতেন না কানন। তিনি বহুবারই বলেছেন, 'কে বাবা, কে মা, এই ভেবে বুকের ব্যথা বাড়িয়ে কাজ কী? আমি কানন, এই পরিচয়টুকুই তো যথেষ্ট।' সত্যিই নিজের পরিচয়েই তিনি ভাস্বর ছিলেন।

Kanan Devi

ছোট বয়স থেকেই পেট চালানোর জন্য বিভিন্ন বাড়িতে রাজবালার সঙ্গে পরিচারিকার কাজ করতেন কানন। ঠিকমতো খাওয়াও জুটত না। পরে নিজে পুত্রবধূ রুবিকে বলেছিলেন যে সারাক্ষণ পেটে খিদে চড়ে থাকত। কষ্ট সহ্য করতে না পেরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে ঠাঁই নিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানেও চরম লাঞ্ছনা আর অত্যাচার সহ্য করতে হয়। শেষমেশ সেখান থেকেও চলে যেতে হয় তাঁদের। হাওড়ার অখ্যাত ঘোলাডাঙা পল্লিতে জায়গা খুঁজে নেন রাজবালা আর কানন। খুব অল্প কিছু দিন রতনচন্দ্রের সান্নিধ্য পেলেও ওই ছোট বয়সে নানা ধরনের বই পড়া এবং গান শোনার অভ্যেসটি তৈরি হয়ে গিয়েছিল কাননের। গান শুনে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মুখে পাউডার লাগিয়ে নাচতেন ছোট্ট কানন।

আরও পড়ুন: Kanan Devi: অনুমতি ছাড়া নায়কের চুম্বন! কানন দেবীর আপত্তিতে বাদ গিয়েছিল দৃশ্য

পল্লি অখ্যাত হলেও কাননের সামনে সঙ্গীতের এক বিরাট জানালা খুলে দিয়েছিলেন ভোলাদা। আত্মজীবনীতে কানন জানিয়েছেন, অতুলপ্রসাদী থেকে মীরার ভজন গেয়ে শোনাতেন ভোলাদা। কখনও লালনের গান শোভা পেত তাঁর গলায়। বালিকা কানন গানের মানে বোঝার জন্য পীড়াপীড়িও করতেনয যত্ন নিয়ে মানে বুঝিয়ে দিতেন ভোলা। হঠাৎ একদিন উধাও হয়ে গেলেন ভোলা। সে সময় কাননের মস্ত বড় এক ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছিলেন আশ্চর্যময়ী দেবী। নিজেও যেমন অপূর্ব কণ্ঠের অধিকারী ছিলেন। তেমন বুঝেছিলেন কাননেরও কণ্ঠ একেবারে গানের জন্য তৈরি। তার উপর ছোট বয়সেই রূপের ছটা আকৃষ্ট করতে শুরু করেছিল অনেককে।

Kanan Devi

পাড়ারই এক কাকার হাত ধরে ১৯২৬ সালে ম্যাডান থিয়েটার্সের জয়দেব ছবিতে প্রথম অভিনয়ের সুযোগ আসে। সেই ছবি ছিল নির্বাক। সেই থেকে শুরু। ধীরে ধীরে সবাক ছবি ও গানের জগতে অশ্চর্য মায়াজাল গড়ে তুললেন কানন। ভোলাদার হাতে সঙ্গীতের হাতেখড়ি হয়েছিল। পরবর্তী কালে ওস্তাদ আলারাখা, পঙ্কজ মল্লিক, ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়, আখতারী বাই, ধীরেন্দ্রচন্দ্র মিত্র, দিলীপ রায়, নজরুল ইসলামের মতো এক এক জন মহান শিল্পীর কাছে গান শিখেছেন। আরও পরিণত হয়েছে তাঁর কণ্ঠ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে শান্তিনিকেতনে গিয়ে গান শোনানোর অনুরোধ করেন। কিন্তু সে অনুরোধ না রাখতে পারার আক্ষেপ চিরকাল রয়ে গিয়েছিল কাননের।

(চলবে...)

আরও পড়ুন: গুন্ডাদের হামলায় পথেই মৃত্যু নেমে আসে পথ নাটকের অন্যতম পথিকৃতের