scorecardresearch
 
 

ডিজিটালেই ভবিষ্যত্‍! চলছে My Shorts চলচ্চিত্র উৎসব

অতিমারীর জেরে ছন্দপতন ঘটেছে বিনোদন জগতেও। প্রায় দীর্ঘ ৭ মাস বন্ধ ছিল টলি পাড়া। অগত্যা ডিজিটাল সিনেমার দিকে ঝুঁকছেন সকলে। মন খারাপ সিনেমাপ্রেমীদের বিনোদনের জন্যে ভার্চুয়াল সিনেমা প্রদর্শনী প্ল্যাটফর্ম 'মাই সিনেমা হল' (My Cinema Hall) -র উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্যের একটি বাংলা চলচ্চিত্র উৎসব 'মাই শটস' (My Shorts)। বলা চলে, স্বল্প দৈর্ঘের এই রকম চলচ্চিত্র উৎসবের যুগান্তরকারী প্রয়াস খুব একটা দেখা যায়নি‌।

ডিজিটালেই ভবিষ্যত্‍! চলছে My Shorts চলচ্চিত্র উৎসব ডিজিটালেই ভবিষ্যত্‍! চলছে My Shorts চলচ্চিত্র উৎসব
হাইলাইটস
  • অতিমারীর জেরে ছন্দপতন ঘটেছে বিনোদন জগতেও।
  • সিনেমাপ্রেমীদের বিনোদনের জন্যে আয়োজিত হয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্যের বাংলা চলচ্চিত্র উৎসব 'মাই শটস'।
  • বিচারক আসনে রয়েছেন অপর্ণা সেন,অর্ঘকমল মিত্র,অনিক দত্ত,সোহাগ সেন।

অতিমারীর জেরে ছন্দপতন ঘটেছে বিনোদন জগতেও। প্রায় দীর্ঘ ৭ মাস বন্ধ ছিল টলি পাড়া। অগত্যা ডিজিটাল সিনেমার দিকে ঝুঁকছেন সকলে। কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের তারিখ নভেম্বর থেকে পিছিয়ে হয়েছে আগামী বছরের জানুয়ারিতে। মন খারাপ সিনেমাপ্রেমীদের বিনোদনের জন্যে ভার্চুয়াল সিনেমা প্রদর্শনী প্ল্যাটফর্ম 'মাই সিনেমা হল' (My Cinema Hall) -র উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্যের একটি বাংলা চলচ্চিত্র উৎসব 'মাই শটস' (My Shorts)। বলা চলে, স্বল্প দৈর্ঘের এই রকম চলচ্চিত্র উৎসবের যুগান্তরকারী প্রয়াস খুব একটা দেখা যায়নি‌। একইসঙ্গে ছবির প্রদর্শনী এবং অর্থ উপার্জনের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছেন ছবির নির্মাতারা। 

গত ১৮ অক্টোবর থেকে আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই চলচ্চিত্র উৎসব। 'মাই শটস'- র বিচারক আসনে রয়েছে অভিনেত্রী - পরিচালক অপর্ণা সেন (Aparna Sen), পুরস্কার প্রাপ্ত সম্পাদক অর্ঘকমল মিত্র (Arghyakamal Mitra), পরিচালক অনিক দত্ত (Anik Dutta) ও নাট্য ব্যক্তিত্ব সোহাগ সেন (Sohag Sen)।

৩০০-র উপর ছবি জমা পড়েছে, যার মধ্যে অনেক ছবি আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রাপ্ত এবং অনেক ছবি বিভিন্ন নুতন উদিয়মান নির্দেশকের তৈরি। প্রাথমিক স্ক্রীনিং এর পর সর্বোচ ৬৯ টি ছবি বেছে নেওয়া হয়েছে | সামাজিক পরিস্থিতি, বর্তমান, সম্পর্কের গল্প, সাইন্স ফিকশনের মতো কিছু বিষয় তুলে ধরা হয়েছে নির্বাচিত ছবিগুলিতে।

 চলছে My Shorts চলচ্চিত্র উৎসব

অপর্ণা সেন আজতক বাংলা-কে জানালেন, "এখন শর্ট ফিল্মের একটা হাওয়া এসেছে। মানুষের মনযোগের সময়সীমা খুব কমে গেছে, যেহেতু ওটিটি প্ল্যাটফর্মে এত চয়েজ রয়েছে আমাদের সামনে। অন্ধকার প্রেক্ষাগৃহে আমরা যতটা মন স্থির করে ছবি দেখতে পারি, সেই জিনিসটা ডিজিটালে কম হচ্ছে। তবে অতিমারীর সময়ে যেমন ছবি নির্মাণের ক্ষেত্রে অনেক সীমাবদ্ধতা  এসেছে, তেমন নানা রকম ক্রিয়েটিভ অপশন উঠে আসছে। 'মাই শর্টস'- এ অনেকগুলো ভালো ছবি দেখলাম আমরা। চলচ্চিত্র নির্মাতাদের অর্থ উপার্জনের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে এখানে। সেটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তার সঙ্গে জুরি প্যানেলে গুরুত্বপূর্ণ কেউ থাকলে তাঁদের পরবর্তীকালে প্রযোজকদের কাছে ছবিটা নিয়ে এগোতে সুবিধা হয়।"

চলচ্চিত্র উৎসবের ক্ষেত্রেও ডিজিটাল মাধ্যমকে বেছে নেওয়া হচ্ছে। তাহলে কি 'ডিজিটাল'- টাই ভবিষ্যৎ? এই প্রশ্নের উত্তরে পরিচালক অনিক দত্ত আজতক বাংলা-কে বললেন, "সিনেমা হলে বসে ছবি দেখার সঙ্গে ডিজিটাল মাধ্যমে দেখার কোনো তুলনাই হয়না। তবে, 'নেসেসিটি ইজ দ্য মাদার অফ ইনভেনশন' - কোনো কিছু নিয়ে সমস্যা হলে সেটাকে ভেঙে নতুন কিছু করার প্রবণতা মানুষের মধ্যে বরাবরই রয়েছে। প্রয়োজনের স্বার্থে নিত্য নতুন ভাবে বদলাচ্ছে সব কিছু। ওই ভাবে কোনো কিছুর ভবিষ্যতই বলা সম্ভব না। কলকাতায় সাহস নিয়ে পুনরায় সিনেমা হল খোলা হলেও দর্শক সেভাবে হলমুখী হননি। কিন্তু সেই ছবিটা যখন ডিজিটাল মাধ্যমে আসছে, তখন মানুষ দেখছে।

'মাই শর্টস'-এ প্রচুর ছবি দেখানো হয়েছে। তার মানে এরকম একটা জিনিসের বেশ ডিম্যান্ড আছে, মানুষ পছন্দ করছে। এই চলচ্চিত্র উৎসবের একটা মজার জিনিস আছে। এখানে দর্শকেরা তাঁদের টিকেট মূল্য নিজেরা নির্বাচন করতে পারবেন। চলচ্চিত্র নির্মাতাদের ক্ষেত্রে সুবিধা এইটাই যে ,এখানে  কিউরেটররা একসঙ্গে অনেকগুলি ছবি পাবেন। যার ফলে তাঁরা এই ছবিগুলি অন্যান্য বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে পাঠাতে পারবেন।"

'মাই সিনেমাহল'-র প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে একজন, যাত্রিক চক্রবর্তীর কথায়, "আমাদের একটি বড় উদ্দেশ্য ছিল - একজন শর্ট ফিল্মমেকার যাতে টিকিটের বিনিময়ে তাঁর তৈরি ছবি দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। সেই উদ্দেশ্যে আমরা অনেকটাই সফল হতে পেরেছি বলে আমরা মনে করি। প্রচুর দর্শক টিকিট কেটে শর্ট ফিল্মস দেখতে আগ্রহী হচ্ছেন।"

'মাই শর্টস' চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিগুলি দেখতে ''মাই সিনেমাহল'-র ওয়বসাইটে লগ ইন করতে হবে - ক্লিক করুন

এই চলচ্চিত্র উৎসবের চূড়ান্ত ফলাফল আগামী ১৫ নভেম্বর ঘোষণা করা হবে।