
শীতের কামড় একেবারে হাড়েহাড়ে অনুভব করছে পশ্চিমবঙ্গ সহ ভারতের একটি বড় অংশ। বর্ষশেষে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ১০ ডিগ্রির নীচেই নেমেছে তাপমাত্রা।

কলকাতায় ১১ ডিগ্রির ঘরেও চলে গিয়েছে। যদিও এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে, তখন তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে।

তবে হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস, এই বৃদ্ধি কিছু দিনের জন্য রেহাই। তারপর ফের মারকাটারি ঠান্ডা পড়বে। এর মধ্যেই শীত নিয়ে বড় পূর্বাভাস দিয়ে দিল দিল্লির মৌসমভবন IMD।

IMD জানাচ্ছে, জানুয়ারি মাসে গোটা দেশেই হাড়কাঁপানো ঠান্ডা পড়বে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে নীচে থাকবে।

তার ফলে শীতের ফসল, বিশেষ করে গম, রাইসর্ষে ও কাবুলি ছোলার ফলন বাড়তে পারে।

IMD-র ডিরেক্টর জেনারেল মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানাচ্ছেন, মধ্য ও পূর্ব ভারতে শৈত্যপ্রবাহ বইতে পারে জানুয়ারিতে।

তাঁর কথায়, 'বিদর্ভ ও মারাঠাওড়ার কিছু অংশ, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে তিন দিন কড়া শৈত্যপ্রবাহ বইতে পারে জানুয়ারিতেই।'

তবে এই কড়া শীতে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। কেন্দ্রের কৃষি মন্ত্রকের ডেটা বলছে, গতবারের চেয়ে এবারে শীতকালীন ফসল রোপন ১.১ শতাংশ বেড়েছে।

বিশেষ করে রাইসর্ষে, ছোলা, গমের মতো ফসলের বীজ, যেগুলি অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে রোপন করা হয়, সেই সব ফসলের বৃদ্ধি ও ভাল ফলন আশা করা যায়। পঞ্জাব, মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশে গম উত্পাদন বেশি হয়।

মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানাচ্ছেন, উত্তরপশ্চিম ও উত্তরপূর্বের কিছু অঞ্চল ছাড়া, এই বছর গোটা দেশেই মোটামুটি গড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে নীচে থাকবে।

গত কয়েকটি সিজনে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল। ২০২৫ সালে ভারতে বেশির অংশই চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়া দেখেছে। তীব্র গরম, অতিবৃষ্টি। শীতের ক্ষেত্রেও সেই রকমই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।