scorecardresearch
 

মন্দিরের আনন্দময়ী মাকে মাছের আঁশ হলেও দিতে হয় ভোগে

পশ্চিমবঙ্গের নদীয়াতে একাধিক উল্লেখযোগ্য মন্দির রয়েছে কিন্তু তার মধ্যে মা আনন্দময়ী কালী মন্দির বিশেষ উল্লেখযোগ্য। কৃষ্ণনগর রাজবাড়ি এই কালীমন্দির আনন্দময়ী মায়ের রয়েছে কিছু বিশেষত্ব। 

Advertisement
মা আনন্দময়ী মা আনন্দময়ী
হাইলাইটস
  • কৃষ্ণনগর রাজবাড়ি এই কালীমন্দির আনন্দময়ী মায়ের রয়েছে কিছু বিশেষত্ব। 
  • মন্দিরের আনন্দময়ী মাকে মাছের আঁশ হলেও দিতে হয় ভোগে।
  • মা আনন্দময়ীর কাছে কোনও ভক্ত মন দিয়ে ডাকলে তাঁর মনোবাঞ্ছা পূরণ হয়ই।

পশ্চিমবঙ্গের নদীয়াতে একাধিক উল্লেখযোগ্য মন্দির রয়েছে কিন্তু তার মধ্যে মা আনন্দময়ী কালী মন্দির বিশেষ উল্লেখযোগ্য। কৃষ্ণনগর রাজবাড়ি এই কালীমন্দিরের আনন্দময়ী মায়ের রয়েছে কিছু বিশেষত্ব। 

কৃষ্ণনগর স্টেশন থেকে রিক্সায় আনন্দময়ী রোড ধরে প্রায় মিনিট কুড়ি গেলেই পাওয়া যাবে এই কালী মন্দির। কৃষ্ণনগর রাজবাড়ীর খুব কাছে অবস্থিত এটি। মন্দির সংলগ্ন অঞ্চলটি আনন্দময়ীতলা নামে পরিচিত। সাকো পঞ্জিকা অনুসারে মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের প্রপৌত্র মহারাজা গিরিশচন্দ্র, ১৮০৪ সালে মা আনন্দময়ীর মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শোনা যায় গিরিশ চন্দ্র রায় তন্ত্রসাধক ছিলেন এছাড়াও মন্দিরের সেবায়েত হিসেবে নাম উল্লেখ আছে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের বর্তমান বংশধর শ্রী সৌমিশচন্দ্র রায়ের। 

মা আনন্দময়ী মন্দির

দক্ষিণমুখী এই মন্দিরে গর্ভগৃহে হাঁটু মুড়ে যোগাসনের শুয়ে আছেন মহাদেব। মহাদেবের বুকের উপর পদ্মাসনে বসে আছেন মা আনন্দময়ী। মহাদেবের বিগ্রহটি শ্বেত পাথরে নির্মিত এবং দেবী আনন্দময়ীর বিগ্রহটি কষ্টিপাথরে নির্মিত। প্রায় সাড়ে তিন ফুটের কাছাকাছি উঁচু এই দেবীর মূর্তি চতুর্ভূজা। এছাড়াও মন্দিরে রয়েছে ছোট কালী মূর্তি দেবী শীতলা ও অন্যান্য দেবদেবী বিগ্রহ। 

 আনন্দময়ী মন্দির

লোকমুখে শোনা যায় আনন্দময়ীর এইরকম রূপের স্বপ্ন দেখেছিলেন রাজা গিরিশচন্দ্র রায়। বর্তমানে যেখানে দেবী মূর্তি প্রতিষ্ঠা হয়েছে, সেখানে আগে ছিল প্রকাণ্ড একটি কষ্টিপাথর এবং সেই পাথরের নির্মিত হয়েছে মহারাজের স্বপ্নে দেখা বিগ্রহটি। শিলাখন্ড থেকে মূর্তি নির্মাণ করা হয় দুটি। একটি আনন্দময়ী কালী এবং একটি ভবতারিণী কালী।  

কৃষ্ণনগরের এই মন্দিরের দেবী আনন্দময়ীর রয়েছে একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য, যা অন্যান্য অনেক কালী মন্দিরের থেকে আলাদা। মা আনন্দময়ীকে ভোগে রোজ মাছ দেওয়া আবশ্যক। যদি এইরূপ পরিস্থিতি হয় যে বাজারে মাছ পাওয়া যাচ্ছে না তাহলে কোন মাছের আঁশ হলেও  মাকে অর্পণ করতে হবে। আরও শোনা যায় প্রথমে আনন্দময়ীর গায়ে কোনও বস্ত্র ছিলনা। পরবর্তীকালে ভক্তদের অনুরোধে মাকে বস্ত্র পরানো হয়।

Advertisement

যদিও অনেকে মনে করেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তবে স্বপ্নাদেশেই এই মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়েছে, সেই নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তারপর থেকে নিত্য পূজা হয়ে আসছে এখানে। শোনা যায় খুব জাগ্রত এই মন্দিরে মা আনন্দময়ীর কাছে কোনও ভক্ত মন দিয়ে ডাকলে তাঁর মনোবাঞ্ছা পূরণ হয়ই। তাই ভক্তেরা দূর থেকে মা আনন্দময়ী পুজো দিতে দূর থেকে আসএন। কালী পুজোর সময় ভক্তসমাগম বেশি হয়।  

আনন্দময়ী দেবীর মন্দিরের প্রাঙ্গণে এছাড়াও রয়েছেন বাবা আনন্দময় অর্থাৎ শিব।

বাবা আনন্দময় 


এই মন্দিরটি সমতল-ছাদযুক্ত এবং উচ্চতলা বিশিষ্ট। মূল ছাদযুক্ত মন্দিরটি প্রায় ৪০ ফুট উঁচু। এটি ইট দিয়ে তৈরি।  মা আনন্দময়ীর অন্যান্য দেবদেবীর সাথে পূজা করা হয়। 

Advertisement