
আরজি কর ধর্ষণ-খুন মামলায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে কড়া আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার পানিহাটির জনসভায় উপস্থিত ছিলেন আরজি কর নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ। মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর পাশের আসনে বসে থাকতে দেখা যায় নির্যাতিতার তাঁকে। মঞ্চে দু'জনের কথোপকথন হয়। এরপর নির্যাতিতার মায়ের মাথায় হাত রাখেন প্রধানমন্ত্রী। কেঁদে ফেলতে দেখা যায় মা রত্নাকে।

মঞ্চে বক্তব্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "নির্যাতিতার মা মেয়েকে ডাক্তার বানানোর জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন। কিন্তু তৃণমূলের জঙ্গলরাজ তাঁর মেয়েকে ছিনিয়ে নিয়েছে। আমরা সেই মা-কেই প্রার্থী করেছি।" প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, তৃণমূল মহিলাদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। উল্টো তাদের ন্যায়বিচারের দাবিকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

কী কথা হয় প্রধানমন্ত্রী ও নির্যাতিতার মায়ের? তিনি বলেন, "আমি বলেছি মেয়ের নামপ্রকাশ করা হোক। মেয়ের ন্যায়বিচার চাই। উনি আমার মাথায় হাত রাখেন। সবাই আমার মেয়েকে নিয়ে কষ্ট পায়। সবাই প্রকাশ্যে এসে কষ্টটা দেখাতে পারেন না।" প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও বলেন, "যখন বাংলার মেয়েরা ন্যায়বিচার চায়, তখন তৃণমূল ধর্ষণের ভয়ে মেয়েদের ঘর থেকে বের হতে বারণ করে। তৃণমূল চায় না নারীরা স্বপ্ন দেখুক।"

২০২৪-লের ৯ অগাস্ট রাজ্য পরিচালিত আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সেমিনার হলের ভিতর থেকে ৩১ বছর বয়সী চিকিৎসক তরুণীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়। এই ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের মুখে কলকাতা পুলিশের সিভিক ভলেন্টিয়ার সঞ্জয় রাইকে গ্রেফতার করা হয়। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় তাকে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁকে ধর্ষণ, শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় হয়ে যায় গোটা দেশ।

অতীতের নির্বাচনগুলো দেখিয়েছে, নির্বাচনী ফলাফলে নারী ভোটাররা কীভাবে এক নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেছেন। বিজেপি খুব ভালো করেই জানে, অতীতের নির্বাচনগুলোতে মহিলা ভোটাররাই ছিলেন মমতার শক্তির স্তম্ভ। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী মোদী নারীর সুরক্ষার প্রশ্নে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

বাংলায় এই প্রতিবাদগুলো ক্রমশ বড় আকার ধারণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলানোর ব্যর্থতার নিয়ে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়। বাংলায় এই প্রতিবাদগুলো ক্রমশ বড় আকার ধারণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলানোর ব্যর্থতার নিয়ে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়। তৃণমূলকে আক্রমণ করার সময় প্রধানমন্ত্রী মোদীর সেই মনোভাবই যেন প্রকাশ পায়।
যেন প্রকাশ পায়।

প্রধানমন্ত্রী সন্দেশখালির কথাও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালে জমি দখল ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগের কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছিল। তিনি বলেন, বিজেপি সেখানকার ভুক্তভোগীদের নেতৃত্বের সুযোগ দিয়েছিল। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি সন্দেশখালির অন্যতম ভুক্তভোগী রেখা পাত্রকে বসিরহাট থেকে টিকিট দিয়েছিল। তবে তিনি নির্বাচনে হেরে যান।

পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, বিজেপি বাংলার মেয়েদের স্বপ্নকে কাউকে পদপিষ্ট করতে দেবে না। ৪ মে বিজেপি সরকার গঠনের পর মহিলাদের ওপর হওয়া সমস্ত অত্যাচারের ফাইল খোলা হবে। এটা মোদীর গ্যারান্টি।"