scorecardresearch
 

আলিপুরদুয়ারে পাঁচে পাঁচ বিজেপি, মুছে গেল তৃণমূল

আলিপুরদুয়ারে পাঁচ আসনের পাঁচটিতেই জিতলো বিজেপি। মুছে গেল তৃণমূল সহ অন্য বিরোধীরা। উন্নয়নের কাজ করেও হার স্বীকার মানতে পারছেন না বিদায়ী বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী। দলীয় কোন্দলের ইঙ্গিত তাঁর। হারের দায় মাথা পেতে নিলেন জেলা সভাপতি মৃদুল গোস্বামী।

আলিপুরদুয়ারের বিজয়ী প্রার্থীরা আলিপুরদুয়ারের বিজয়ী প্রার্থীরা
হাইলাইটস
  • পাঁচ পাঁচ বিজেপি, মুছে গেল তৃণমূল
  • লোকসভার ধারা বজায় থাকলো বিধানসভাতেও
  • মন খারাপ বিদায়ী বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তীর

আলিপুরদুয়ারে হোয়াইটওয়াশ তৃণমূল সহ সব বিরোধীরাই। ঘুরিয়ে বলা যায় জেলায় পাঁচে পাঁচ বিজেপির। একাধিক প্রভাবশালী নেতাদের হারিয়ে আলিপুরদুয়ারে জয় পেতে বিজেপিকে অবশ্য ভালই কাঠখড় পোড়াতে হয়।

লোকসভার ট্রেন্ড ধরে রাখলো বিজেপি

বহু জায়গায় লোকসভা ভোটের ধারা বিধানসভায় উল্টে গেলেও আলিপুরদুয়ারের সব কটি আসনে ২০১৯ লোকসভা ভোটের ট্রেন্ড বজায় রেখে জেলার পাঁচটি বিধান সভাতেই জয়ী হল বিজেপি। ফলে খুশির হাওয়া জেলা জুড়ে। যদিও রাজ্যে হেরে যাওয়ায় বাড়তি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে পারেনি বিজয়ী প্রার্থীরা। তবে তাঁদের জেতানোর জন্য জেলাবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাঁরা।

তৃণমূলের যন্ত্রণা বৃদ্ধি

আলিপুরদুয়ার জেলার আলিপুরদুয়ার, কুমারগ্রাম, মাদারিহাট-বীরপাড়া, কালচিনি ও ফালাকাটা আসনে যদিও ভোটের নিরিখে লোকসভা নির্বাচনের চেয়ে সামগ্রিক ভোটের পরিমাণ বাড়িয়েছে তৃণমূল। তবে কম ভোট পেলেও আসনভিত্তিক ভাবে বিজেপির জয়ে কোনও সমস্যা হয়নি। যা তৃণমূলের ভোট বাড়া সত্ত্বেও যন্ত্রণা আরও বাড়িয়েছে।

কত ভোটে বাড়ল ব্যবধান

জেলার কুমারগ্রাম বিধান সভায় বিজেপি ১১ হাজারের বেশি ভোটে জিতেছে। একই ভাবে ২৮ হাজারের বেশি ভোটে কালচিনি, ১৫ হাজারের বেশি ভোটে আলিপুরদুয়ার, ৪ হাজারের বেশি ভোটে ফালাকাটা এবং ২৮ হাজারের বেশি ভোটে মাদারিহাট বিধান সভায় জয়লাভ করে বিজেপি। ফলে কিছুটা ফালাকাটা ছাড়া কোথাও তেমন লড়াই দিতে পারেনি বিরোধীরা তা এখন দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। 

তলানিতে জোটের ভোট

অন্যদিকে বাম-কংগ্রেস জোটের সংযুক্ত মোর্চার ভোট জেলায় একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে।আলিপুরদুয়ার বিধান সভা কেন্দ্রের বাম কংগ্রেস সংযুক্ত মোর্চার হেভিওয়েট প্রার্থী বর্ষীয়াণ কংগ্রেস নেতা দেব প্রসাদ রায়(মিঠুদা) ১৫ হাজারের কাছাকাছি ভোট পেয়েছেন। অন্য জেলার অন্যান্য কেন্দ্রে বাম কংগ্রেস সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থীরা এর চেয়েও কম ভোট পেয়েছে। ফলে অনুমেয় তাঁদের তরফ থেকে যেমন বিরোধ আসেনি, তেমনি ভোট কাটাকাটির অঙ্কও এখানে তেমন খাটেনি। তৃণমূলের বিরুদ্ধে কেন মানুষ এভাবে ব্যাপকভাবে ভোট দিল তা আত্মবিশ্লেষণ করতে হবে দলের নেতাদের।

তৃণমূলের আত্মবিশ্লেষণ

আলিপুরদুয়ারে ভোটের ফলাফল নিয়ে আলিপুরদুয়ার জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মৃদুল গোস্বামী বলেন, “আমরা লোকসভা ভোটে আলিপুরদুয়ার জেলার পাঁচটি বিধান সভা কেন্দ্রের সব কেন্দ্রেই প্রচুর ভোটে পিছিয়ে ছিলাম। সব সিটেই ৩০ থেকে ৩৫ হাজারের বেশি ভোটে পিছিয়ে ছিলাম। সেটা পুরোটা মেরামত করা যায়নি। তবে জনগনের রায় আমরা মেনে নিচ্ছি।

মর্মাহত বিদায়ী বিধায়ক

বিষয়টি নিয়ে আলিপুরদুয়ার বিধান সভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, “ আমি নিজের বাড়ি ঘর সংসার সব ছেড়ে দলের জন্য কাজ করেছি। আলিপুরদুয়ারে বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। অনেক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু তবুও আলিপুরদুয়ারের মানুষ ভোট দেয়নি। এটা খুব দুঃখজনক। তিনি দলের মধ্যে অন্তর্কলহের অভিযোগ তোলেন। এছাড়া আমি প্রার্থী হওয়ার পর কারা বিক্ষোভ করেছিল, কারা চায় নি যে আমি জয়লাভ করি সবাই তা জানেন। এর আগেও একাধিকবার দলকে জানিয়েছি। দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সব জানিয়েছি। 

বিজয়ী প্রার্থীর কৃতজ্ঞতা 

তৃণমূলের প্রভাবশালী বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী সহ প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতা দেবপ্রসাদ রায়কে হারিয়ে আলিপুরদুয়ারে প্রথমবার দাঁড়িয়ে বিজয়ী হন প্রাক্তন সাংবাদিক সুমন কাঞ্জিলাল। বিজেপির আলিপুরদুয়ার বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী সুমন কাঞ্জিলাল বলেন, “জেলার মানুষ আমাদের আশির্বাদ করেছে। এই জন্য জেলার মানুষের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। তবে আমরা বলেছিলাম ৪৭ বছর পর রাজ্য ও কেন্দ্র এক সরকার আনার সুযোগ পেয়েছিলাম । কিন্তু বাংলার মানুষ অন্য রকম রায় দিয়েছেন। এর কারণ আমাদের অনুসন্ধান করতে হবে।”