
ছবি: PTIনির্বাচন সিজনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন মঙ্গলবার। একই দিনে ৪ রাজ্য ও এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোট। তামিলনাড়ুতে ২৩৪ আসন, অসমে ৪০টি, পশ্চিমবঙ্গে ও পুদুচেরির ৩০টি করে আসনে ভোটগ্রহণ। বিধানসভা নির্বাচন ছাড়াও, দুটি লোকসভা আসন মলপ্পুরম ও কন্যাকুমারীতেও ভোটগ্রহণ।
পশ্চিমবঙ্গ (তৃতীয় দফা)
পশ্চিমবঙ্গে তৃতীয় দফার নির্বাচন। ভোট গ্রহণ কুলতলি, কুলপি, রায়দিঘি, মন্দিরবাজার, জয়নগর, বারুইপুর পূর্ব, বারুইপুর পশ্চিম, ক্যানিং পশ্চিম, ক্যানিং পূর্ব, মগরাহাট পূর্ব, মগরাহাট পশ্চিম, ডায়মন্ডহারবার, ফলতা, সাঁতরাগাছি, বিষ্ণুপুর, উলুবেড়িয়া উত্তর, উলুবেড়িয়া দক্ষিণ, শ্যামপুর, বাগনান, আমতা, উদয়নারায়ণপুর, জগৎবল্লভপুর, জঙ্গিপাড়া, হরিপাল, ধনেখালি, তারকেশ্বর, পুরশুরা, আরামবাগ, গোঘাট, খানাকুলে।
মোট ৭৮ লক্ষ ৫২ হাজার ৪২৫ ভোটার ২০৫ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করবেন। লকডাউনের সময় আমফান বিধ্বস্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ১৬টি আসনে ভোটগ্রহণ। এই জেলাটি তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তিশালী ঘাঁটি। বিশেষ করে ডায়মন্ড হারবার তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্র।

এছাড়াও নজরে থাকছে হুগলি জেলা। এই জেলার তারকেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী স্বপন দাশগুপ্ত। তাঁর বিরুদ্ধে লড়ছেন তৃণমূল প্রার্থী রামেন্দু সিনহা রায় ও সিপিআইএম প্রার্থী সুরজিত্ ঘোষ। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে তারকেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল বিজেপির চেয়ে ৪ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে ছিল।
অসম (তৃতীয় ও চূড়ান্ত দফা)
অসমে তৃতীয় দফায় লড়াই ৪০ আসনে। চূড়ান্ত দফায় ৩৩৭ জন প্রার্থী। থাকছেন অসমের মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা, ৫ জন ক্যাবিনেট মন্ত্রী ও বিজেপি রাজ্য সভাপতি রঞ্জিত কুমার দাস।

অসমে তৃতীয় দফায় ৭৯ লক্ষ ১৯ হাজার ৬৪১ জন ভোটার ভোট দেবেন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪০ লক্ষ ১১ হাজার ৫৩৯ জন। মহিলা ভোটার ৩৯ লক্ষ ৭ হাজার ৯৬৩ জন। অসমের মোট ১২টি জেলায় হবে এবারের ভোট। যার মধ্যে রয়েছে বরোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল রিজিওনের (বিটিআর) ৩টি জেলা। অসমে বিজেপি ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে মহাজোট গড়ে লড়াইয়ে নেমেছে কংগ্রেস। তাদের সঙ্গে জোটে রয়েছে বরোল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট, সিপিআই, সিপিএম। অন্যদিকে বিজেপির জোটসঙ্গী অসম গণ পরিষদ।
তামিলনাড়ু
প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রীর AIADMK হ্যাট-ট্রিক করবে নাকি, প্রায় বছর ১০ পর DMK ক্ষমতায় আসবে? বড় প্রশ্ন। রাজ্যের দুই প্রধান দলের ভবিষ্যত্ও ঠিক করে দেবে তামিলনাড়ুর এবারের ভোট। ২৩৪টি আসনে মোট ভোটার ৬.২৮ কোটি। মোট প্রার্থী সংখ্যা ৩ হাজার ৯৯৮।
নজরে থাকছেন মুখ্যমন্ত্রী কে পলানিস্বামী, উপমুখ্যমন্ত্রী ও পন্নিরসেলভম, ডিএমকে সুপ্রিমো এম কে স্ট্যালিন, এএমএমকে সুপ্রিমো টিটিভি ধিনাকরণ, অভিনেতা ও মক্কাল নিধি মায়াম দলের প্রধান কমল হাসান, নাম তামিঝাড় কাটচি নেতা সীমান, ও বিজেপি রাজ্যসভাপতি এল মুরুগান।
AIADMK লড়ছে NDA শরিক হিসেবে। DMK লড়ছে UPA জোটে। কিছু স্থানীয় দলের সঙ্গে জোট করে ভোটে লড়ছেন কমল হাসান ও ধিনাকরণ।
কেরল
সেই ১৯৮০ সাল থেকে CPI(M)-এর নেতৃত্বে LDF ও কংগ্রেসের নেতৃত্বে UDF পালা করে ক্ষমতায় আসছে কেরলে। কোনও দলই পরপর দুবার ক্ষমতায় আসেনি। কেরলের ২ কোটি ৭৪ লক্ষ ভোটার ভাগ্য নির্ধারণ করবেন দুই শিবিরের। ১৪০ আসনের কেরল বিধানসভায় মোট ৯৫৭ জন প্রার্থী।
নজরে থাকবে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে কে শৈলজা, কে কে সুরেন্দ্রণ, এমএম মণি, কে কে জালিল, বিরোধী নেতা রমেশ চেন্নাথালা, পিটি থমাস, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উমেন চান্ডির মতো প্রার্থীদের উপরে।
পুদুচেরি
ভোটের মুখে পুদুচেরিতে পতন হয়েছে কংগ্রেস সরকারের। রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই রাজনৈতিক ডামাডোল পুদুচেরিতে। ৩০টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে।
মান্নাদিপেট, তিরুবুভানাই, ওসুডু, মঙ্গলম, ভিলাইনুর, ওঝুকারাই, কেদারিকামাম, ইন্দিরানগর, থট্টাঞ্চবেদি, কামরাজ নগর, লস্পেট, কালাপেট, মুথাইলপেট, রাজভবন, ঔপালাম, ওর্লিম্পেথ, নিল্লিথোপ, মুদালিয়ারপেট, আরিয়ানকুপ্পাম, মানাভেলি, এমবলম, নেত্তাপক্কম, বাহুর, নেদুঙ্গাদু, তিরুনাল্লার, করাইকাল উত্তর, করাইকাল দক্ষিণ, নেরাভি টি আর পট্টিনাম, মাহে, ইয়ানামে ভোটগ্রহণ।