scorecardresearch
 
 

লকেটকে নিয়ে জোর জল্পনা, দলবদলের হাওয়ায় কিন্তু ভাসছে গেরুয়া শিবিরের এই নামগুলিও

রাজনৈতিক সন্ন্যাসের কথা বলেও শিবির বদল করে ঝটকা দিয়েছেন আসানসোলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। সেই ক্ষত এখনও তাজা পদ্ম শিবিরে, তারমধ্যেই লকেট চট্টোপাধ্যায়ের দলবদল নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। তবে রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে এখন ঢু মারলেই শোনা যাচ্ছে একাধিক হেভিওয়েট নাম, যারা অদূর ভবিষ্যতে তৃণমূলের চমক হয়ে উঠতে পারেন।

লকেট কি ফের শিবির বদল করছেন? লকেট কি ফের শিবির বদল করছেন?
হাইলাইটস
  • লকেট কি ফের শিবির বদল করছেন?
  • রাজ্য রাজনীতিতে এখন এই নিয়েই চর্চা চলছে
  • গুঞ্জন বাড়াচ্ছে কিন্তু গেরুয়া শিবিরের এই নামগুলিও

রাজনৈতিক সন্ন্যাসের কথা বলেও শিবির বদল করে ঝটকা দিয়েছেন আসানসোলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। সেই ক্ষত এখনও তাজা পদ্ম শিবিরে, তারমধ্যেই লকেট চট্টোপাধ্যায়ের দলবদল নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। প্রশ্ন উঠছে এবার কি তাহলে বাবুলের পথেই হাঁটবেন হুগলির বিজেপি সাংসদ। সোমবারের পর থেকে সেই জল্পনা এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। আর তার পেছনে অবশ্যই রয়েছেন তৃণমূলের রাজ্য় সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তবে  রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে এখন ঢু মারলেই শোনা যাচ্ছে একাধিক হেভিওয়েট নাম, যারা অদূর ভবিষ্যতে তৃণমূলের চমক হয়ে উঠতে পারেন।

 

একুশের বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকেই বঙ্গ বিজেপিতে ধস নেমেছে। ইতিমধ্যে এক সাংসদ ও চার বিধায়ক তৃণমূলে নাম লিখিয়েছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের সর্বভারতীয় নেতৃত্বের তরফে বারবার বলা হচ্ছে, বিজেপির অনেকেই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। আর যদি তৃণমূলের দরজা খুলে দেওয়া হয়, তাহলে বিজেপিকে শেষ করতে বেশি সময় লাগবে না। তৃণমূল শিবিরের স্পষ্ট দাবি, একাধিক বিজেপি সাংসদ-বিধায়ক এখন দল বদলাতে চাইছেন। ভবানীপুরে ভোটপ্রচারে বেরিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম দাবি করেছেন আগামী দিনে বাবুল সুপ্রিয়র থেকেও বড় নেতা শিবির বদল করতে পারেন। তৃণমূল বলছে, বিষয়টি নিয়ে ভীত বিজেপি। এই অবস্থায় কেউ কিছু না বললেও কানাঘুষো শুরু হয়েছে গেরুয়া শিবিরের কয়েকটি নামকে নিয়ে। যাদের বর্তমানে দলীয় কর্মসূচিতে তেমন ভাবে পাওয়া যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন: ঘনিষ্ঠ লোকই বঙ্গ BJP-র মসনদে, আদৌ কি দিলীপ জমানার অবসান রাজ্যে?

দেশের অন্যতম সেরা অর্থনতিবিদ অশোক লাহিড়ী। এবার বালুরঘাট আসন থেকে বিধানসভা ভোটে বিজেপির হয়ে জিতেছেন তিনি। ভোটের আগে শোনা গিয়েছিল, বিজেপি ক্ষমতায় এলে তাকেই দেওয়া হবে রাজ্যের অর্থদফতরের দায়িত্ব। বর্তমানে অশোকবাবুকে আর তেমন ভাবে রাজনীতির আঙ্গিনায় দেখা যাচ্ছে না। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গের বিধায়কদের বৈঠকেও গড়হাজির ছিলেন তিনি। আর এদিকে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র অসুস্থ। ভোটেও দাঁড়াতে চান না আর। তাই অনেকেই দুয়ে দুয়ে চার করার চেষ্টা করছেন। যদিও এই বিষয়ে এতদিন  কুলুপ দিয়েছিলেন অশোকবাবু। তবে মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছেন, "আমি ঝরা মুকুল নই, তৃণমূলে যাব না, বিজেপিতেই থাকব।" তবুও তাঁকে নিয়ে যে জল্পনা এত সহজে থামবে না, তা বলাই বাহুল্য। 

 

 

দিল্লিতে ইডির দফতর থেকে বেরিয়ে অভিষেক দাবি করেছিলেন, বিজেপির ২৫ বিধায়ক দলবদলের লাইনে আছেন। মুকুল রায় আবার বলছেন, গেরুয়া শিবিরের ২৪ জন বিধায়ক নাকি নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের আবার দাবি, এক বছরের মধ্যেই প্রধান বিরোধী দলের সম্মান হারাবে বিজেপি। তৃণমূল নেতৃত্বের এই হুঙ্কারের মাঝেই সম্প্রতি অশোক দিন্দাকে নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন সদস্য গত বিধানসভা ভোটের আগে শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন। পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না থেকে ভোটে দাঁড়িয়ে বিধায়কও হন তিনি। তবে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক দিন্দাকে দেওয়া কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে, তাতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে দলবদলের লাইনে কি রয়েছেন তিনিও?

আরও পড়ুন: তৃণমূলে ফিরছেন লকেট? ইঙ্গিতপূর্ণ ট্যুইট কুণালের

বিজেপিতে সদ্য প্রাক্তন হওয়া রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে অনেকেরই অসন্তোষ ছিল। এর মাঝেই দিলীপ ঘোষ  ও হিরণ চট্টোপাধ‍্যায়ের দ্বৈরথ গেরুয়া শিবিরের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। খড়গপুরের সাংসদ দিলীপবাবু। আর অন্যদিকে খড়গপুরর বিধানসভা থেকেই গেরুয়া শিবিরের হয়ে লড়ে বিধায়ক হয়েছেন অভিনেতা হিরণ। একুশের ভোটের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে নাম লেখান হিরণ।  সম্প্রতি নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে ভারতীয় রেলের কিছু বিষয় নিয়ে সরব হয়েছিলেন হিরণ। এমন পরিস্থিতিতে দিলীপ ঘোষের মন্তব‍্যের বিরোধিতা করায় স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল হিরণের অবস্থান নিয়ে। যদিও ট্যুইটারে এই নিয়ে পোস্ট করে সব ধোঁয়াশা মেটাতে চেয়েছেন হিরো হিরণ। তবুও অদূর ভবিষ্যতে তাঁকে নিয়ে দলবদলের জল্পনা দানা বাঁধতে শুরু করেছে।

 

 

বিধায়কদের এই ভারী-ভারী নাম ছাড়াও ভোটে হেরে যাওয়া প্রবীর ঘোষাল, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, সব্যসাচী দত্তরাও তৃণমূলে ফিরতে পা বাড়িয়ে রয়েছেন বলেই খবর। যার নবতম সংযোজন  বৈশালী ডালমিয়া। শোনা যাচ্ছে, পুরনো দলে ফিরতে তিনিও আগ্রহী। যদিও বিজেপিতে গিয়ে হেরে যাওয়া নেতা-নেত্রীদের দলে ফেরাতে তৃণমূল নেতৃত্বের আপত্তি রয়েছে বলেই খবর। ফলত এই নেতা-নেত্রীদের জন্য জোড়াফুল শিবিরের দরজা কবে খুলবে তা এখনই বলা মুস্কিল। এদিকে এবার রাজ্য বিজেপির সাংস্কৃতিক আহ্বায়কের পদ ছাড়লেন  অভিনেতা সুমন বন্দ্যোপাধ্যায়।  এরপরেই তাঁর তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। সম্প্রতি বেসুরো গেয়েছিলেন অভিনেত্রী রিমঝিম মিত্রও।

বিজেপি ছেড়ে আর কারা তৃণমূলে নাম লেখাবেন তার উত্তর সময়ই দেবে তবে বর্তমানে সবচেয়ে জল্পনা যাকে নিয়ে তিনি লকেট চট্টোপাধ্যায়। একদা তৃণমূল শিবিরে থাকা লকেট ২০১৫ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। ২০১৯ সালে গেরুয়া শিবিরের টিকিটে ভোটে দাঁড়িয়ে হুগলি থেকে সাংসদও হন তিনি। সম্প্রতি লকেটকে বিজেপির পক্ষ থেকে উত্তরাখণ্ডের বিধানসভা নির্বাচনে সহ–পর্যবেক্ষক করা হয়েছে। কিন্তু সূত্রের খবর, এবার হুগলির সাংসদ নাকি দলবদল করতে চাইছেন। ইতিমধ্যে তিনি নাকি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। যদিও বিষয়টি ভুয়ো বলে উড়িয়েছেন লকেট। তবে হুগলির সাংসদকে আটকাতেই কি তাঁকে নিয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা সম্প্রতি দীর্ঘ বৈঠক করেছেন? সেই প্রশ্ন উঠছে। তবে এটাও ঠিক, এর আগে বিজেপি কর্মসূচিতে ঝাপিয়ে পড়তে দেখা যেত লকেটকে। তবে ভবানীপুর উপনির্বাচনে তাঁকে একবারও দেখা যায়নি। আর সেই কারণেই তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের ধন্যবাদ জানিয়ে ট্যুইট নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে পাল্টা ট্যুইটে সেই চর্চায় জল ঢালার চেষ্টা করেছেন হুগলির সাংসদ। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এতে সংশয়ের ইতি একেবারেই হয়নি, উল্টে দলের তারকা প্রচারকের তালিকায় ঠাঁই পেয়েও কেন ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রচারে দেখা গেল না লকেটকে- এই জল্পনা আরও গভীর হচ্ছে। প্রসঙ্গত একুশের ভোটে বিজেপির পরাজয়ের পরই রাজনীতির ময়দানে লকেট চট্টোপাধ্যায়কে কম দেখা গিয়েছে। এমনকী উপনির্বাচন বা জঙ্গিপুর, সামশেরগঞ্জে ভোটেও তাঁকে সক্রিয় হতে দেখা যায়নি।