scorecardresearch
 

৩ হাজার বছর পুরনো কঙ্কাল আবিষ্কারে, চিনের নৃশংসতার কাহিনি প্রকাশ্যে

৩ হাজার বছর পুরনো কঙ্কাল আবিষ্কারে, চিনের নৃশংসতার কাহিনি প্রকাশ্যে। কীভাবে অপরাধীদের মর্মান্তিক সাজা দেওয়া হত, তা জানা গিয়েছে।

উদ্ধার হওয়া কঙ্কাল উদ্ধার হওয়া কঙ্কাল
হাইলাইটস
  • ৩ হাজার বছর পুরনো কঙ্কাল আবিষ্কার
  • চিনের নৃশংসতার কাহিনি প্রকাশ্যে

বৈজ্ঞানিকরা একটা চাইনিজ মহিলার তিন হাজার বছর পুরোনো কঙ্কাল খুঁজে বের করেছেন। খননকারীরা জানতে পেরেছে যে প্রাচীনকালে চিনারা খুব ক্রুর ও নৃশংস সাজা দিতে তাদের অপরাধীদের। সম্প্রতি একটা এনথ্রপলজি জার্নালে প্রকাশিত বৈজ্ঞানিকদের এই বিষয়টি প্রকাশ্য়ে এসেছে। এই ঘটনা জানতে পেরেছে যে মহিলা পা কেটে দেওয়া হয়েছিল, শুধু তাই নয়, তার একাধিক সমস্যা ছিল। এমনকী এ কারণে তাকে সাজা দেওয়া হয়েছিল যেখানে, পুরাতত্ত্ববিদদের কাছে এই প্রমাণ এসেছে, যাতে চিনের প্রাচীন সাজা ইউ (YU)এর বিষয়ে জানা গিয়েছে।

সাজা হিসেবে কাটা হয়েছিল মহিলার পা

বৈজ্ঞানিকরা এই খোঁজে জানতে পেরেছেন যে, সাজার কারণেই পা কাটা হয়েছিল। মহিলাকে কোনও অপরাধমূলক কাজের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে সেই অনুযায়ী পা কাটা হয়েছিল। মহিলাদের হাড়ে কোনও রোগ দেখা যায়নি। যার কারণে তার পা কাটার প্রয়োজন ছিল। তাই বলে সে কারণেই তারা নিশ্চিত হয়েছেন, যার কারণে করা হয়েছিল। চিকিৎসা অস্ত্র দিয়ে কাটা হয়নি বরং অনুভবহীনভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়।

ছবি

চিনের পেকিং ইউনিভার্সিটির পুরাতত্ত্ববিদদের গবেষণা

চিনের পেকিং ইউনিভার্সিটির পুরাতত্ত্ববিদ এবং শোধন কর্তাদ লি লেন জানিয়েছেন। যে বৈজ্ঞানিক গবেষণা পাকাপাকি সম্ভাবনার ওপরে বিচার করা হয়েছে। যেমন দুর্ঘটনা বা যুদ্ধের অথবা শারীরিক অসুস্থতার কারণে। পচন ধরা কারণে পা কেটে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল কী না। কিন্তু খুব গভীরতা সঙ্গে যাচাই করার পর জানা গিয়েছে যে সাজাইয়া অনুযায়ী তার পা কাটা হয়েছিল।

প্রাচীন চিনের সাজা ১ হাজার সাল পর্যন্ত চলে

প্রাচীন সাজাগুলি ১ হাজার সাল পর্যন্ত চলে। এই অনুযায়ী প্রাচীন চিনে এক হাজারের বেশি সময় ধরে ইউ সাজা সাধারণ ছিল। অন্য শতাব্দীতে এমন খৃষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতক এর এই সাজা শেষ করে দেওয়া হয় লিনা নিয়েছেন যে, যে সময় মহিলা জীবিত ছিলেন তখন পাঁচশোর বেশি আলাদা আলাদাভাবে অপরাধের যেমন বিদ্রোহ, প্রতারণা, চুরির মতো সাজা দেওয়া হতো। যদিও জানা যায়নি যে এই মহিলা কোন অপরাধের জন্য সাজা প্রাপ্ত হয়েছিলেন।

৫ হৃদযন্ত্র কাঁপুনি ধরিয়ে দেওয়া সাজা

চিনের  সাজাগুলি হৃদযন্ত্রে কাঁপুনি ধরিয়ে দেবে। ইতিহাসবিদদের মতে, ২ হাজার খ্রিষ্টপূর্বে জিয়াং বংশের সম্রাট দারা গুলামোর লাগু করা সাজা। ৫ সাজার মধ্যে কিছু ছিল। প্রাচীন চিনের প্রথম রাজবংশ ছিল জিয়াং। ১৯৭৫ সালে জর্জিয়া জার্নাল অফ ইন্টারন্যাশনাল এন্ড কম্পারেটিভে প্রকাশিত একটি খোঁজ অনুযায়ী, ছোট অপরাধের জন্য সাজা মারপিট ছিল। কিন্তু গম্ভীর অপরাধ করলে তার সাজা ছিল পাঁচটি। তার মধ্যে একটো হল মো।যেখানে মাথায় ট্যাটু বানিয়ে দেওয়া হতো। আর একটি হল ইয়েই। যার মধ্যে অপরাধীদের নাক কেটে দেওয়া হতো। তিন নম্বরটি হল ইউ। যেখানে পা কেটে দেওয়া হতো। চতুর্থটি হল গং। যেখানে হাত-পা কেটে ফেলে অঙ্গহীন করা হতো। পঞ্চমটি হল দা পি। এটি একটি খুব যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু। কপাল ভালো থাকলে মাথা ধড় থেকে আলাদা হয়ে যেতো। কিন্তু যদি অপরাধী বেঁচে যেতেন তাহলে তাকে জীবন্ত সেদ্ধ করে দেওয়া হতো অথবা অথবা ঘোড়া দিয়ে শরীর চিড়ে দেওয়া হতো।

১৯৯৯ সালে মেলে মহিলার কঙ্কাল

তিন হাজার বছর পুরনো কঙ্কাল পাওয়া যায় ১৯৯৯ সালে। চিনের উত্তর-পশ্চিম সাইটে পাওয়া গিয়েছিল এটি। প্রথমে অনেককিছু এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে নতুন গবেষণায় দেখা যায় আরও অনেক কিছু জানা গিয়েছে। মহিলার বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত এবং তার স্বাস্থ্য ভাল ছিল মনে করা হচ্ছে। তার কোন রোগ ছিল না। জানা গিয়েছে যে মহিলা তারপর প্রায় পাঁচ বছর পর্যন্ত জীবিত ছিল। এরপরই তার মৃত্যু হয়।