
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (IPL 2026) প্লেঅফে আরও একটি একতরফা ম্যাচ। রাজস্থান রয়্যালস বনাম সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ম্যাচটি আক্ষরিক অর্থেই একতরফা ম্যাচ হল।

কোয়ালিফায়ার ২-এ অনায়াসেই পৌঁছে গেল রাজস্থান। রাজস্থান রয়্যালস-এর এই জয় শুধুই একটি জয় নয়, গুজরাত টাইটান্সের (GT) বিপদ ঘণ্টাও।

কারণ, পরের ম্যাচটিও হবে একই মুল্লানপুরের মাঠে, যেখানে রাজস্থান এখন পুরোপুরি পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। শুক্রবার কোয়ালিফায়ার-২-এ রাজস্থান মুখোমুখি হবে গুজরাট টাইটান্সের। এই ম্যাচের বিজয়ী দল ফাইনালে খেলবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে।

এই ম্যাচে রাজস্থানের জয়ের সবচেয়ে বড় নায়ক ১৫ বছরের বিস্ময় বালক বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ২৯ বলে ৯৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে তিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন।

তাঁর ব্যাটিংয়ে ছিল আগ্রাসন, আত্মবিশ্বাস এবং পরিণত মানসিকতার ছাপ। ম্যাচ শেষে তাঁকেই ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত করা হয়। তবে এত বড় ইনিংস খেলেও বৈভবের নজর রেকর্ডে নয়, দলের সাফল্যে। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, শতরান বা ব্যক্তিগত রেকর্ড পরে হবে, এখন লক্ষ্য একটাই, IPL ট্রফি জেতা।

ম্যাচের পরে বৈভব বলেন, 'দল প্রতিটি ম্যাচ থেকে ইতিবাচক দিকগুলো নিয়েই এগোতে চাইছে। একই আত্মবিশ্বাস ও ছন্দ বজায় রেখে গুজরাতের বিরুদ্ধেও জিততে পারলে ফাইনালে ওঠা সম্ভব।'

নিজের মানসিকতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বৈভব জানান, তিনি অতিরিক্ত চিন্তা করেন না। পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলাই তাঁর মূল লক্ষ্য। কোথাও ভুল হলে তা শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

নিজের প্রস্তুতি নিয়েও মুখ খুলেছেন এই তরুণ ক্রিকেটার। বৈভব জানিয়েছেন, ম্যাচের আগে তিনি প্রতিপক্ষ বোলারদের নিয়ে খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করেন। উইকেট কেমন আচরণ করবে, মাঠের বাউন্ডারি কত বড়, সব কিছু মাথায় রেখেই পরিকল্পনা করেন।

তাঁর বিশ্বাস, ব্যাটার যদি ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে খেলতে নামে, তাহলে চাপটা বোলারের উপর চলে যায়। সেই কারণেই শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে ভালোবাসেন তিনি।

সবচেয়ে মজার বিষয়, IPL ইতিহাসের দ্রুততম শতরান হাতছাড়া করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বৈভব জানান, তিনি নাকি আউট হওয়ার আগে জানতেই পারেননি যে এমন একটি রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁর পুরো মনোযোগ ছিল দলের জন্য যত বেশি সম্ভব রান করা। এই উত্তরেই ধরা পড়েছে তাঁর পরিণত মানসিকতা।

রাজস্থান রয়্যালসের জন্য সবচেয়ে স্বস্তির বিষয়, দল এখন দুরন্ত ছন্দে রয়েছে। বৈভব সূর্যবংশীর পাশাপাশি ধ্রুব জুরেল ও যশস্বী জয়সওয়ালও দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন।

অন্যদিকে বোলিং বিভাগে জোফ্রা আর্চারের গতি প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

এখন সব নজর শুক্রবারের কোয়ালিফায়ার-২ ম্যাচে। গুজরাত টাইটান্সকে হারাতে পারলেই রাজস্থান রয়্যালস পৌঁছে যাবে IPL ২০২৬-এর ফাইনালে। বর্তমান ফর্ম দেখে অনেকেই মনে করছেন, এই রাজস্থান দলকে থামানো সহজ হবে না।