
ব্রাজিলের বিদায়ের পরের দিনই পর্তুগালেরও বিদায়। FIFA বিশ্বকাপ ২০২৬ জমে উঠেছে। ব্রাজিল হারার পরেই অবসর ঘোষণা করেছেন নেইমার। পর্তুগালের বিদায়ে কি অবসরের পথে ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোও?

স্পেনের বিরুদ্ধে ১-০ গোলে হেরে এ বারের মতো বিশ্বকাপের অভিযান শেষ হয়ে গেল পর্তুগালের। মাঠে দেখা গেল কাঁদছেন CR7। শুধু পর্তুগাল নয়, তিনি বিশ্বফুটবলের অন্যতম আইকন। বিশ্বকাপের আগে রোনাল্ডোর বয়স নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে।

এই বয়সে রোনাল্ডো সেরা পারফর্ম্যান্স দিতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন ঝেলতে হয়েছে পর্তুগালের কোচকেও। কিন্তু ৪১ বছর বয়সি তারকা প্রমাণ করে দিয়েছেন, তাঁর ফিটনেস আন্তর্জাতিক মানেরই রয়েছে।

এদিন ম্যাচ শেষে রোনাল্ডো স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এটাই তাঁর কেরিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। আর বিশ্বকাপে দেখা যাবে না তাঁকে। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত তিনি নেননি।

রোনাল্ডোর কথায়, 'বিশ্বকাপ থেকে এই ভাবে ছিটকে যাওয়া দুঃখের। আমি আমার সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি। আমার তরফে চেষ্টার কোনও ত্রুটি ছিল না। হ্যাঁ, এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। এরপরের পদক্ষেপ ঠিক করার জন্য ভাবনাচিন্তা ও পরিবারের সঙ্গে আলোচনার অবকাশ রয়েছে। আমি তাড়াহুড়ো করে কোনও সিদ্ধান্ত নিই না।'

স্পেনের বিরুদ্ধে হারের পরে প্রশ্ন উঠছিল, পর্তুগালের হয়েও এটাই কি তাঁর শেষ ম্যাচ? রোনাল্ডোর বক্তব্য, তিনি হেরে হতাশ। কিন্তু হতাশায় তিনি কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না। একই সঙ্গে তিনি মনে করালেন পর্তুগালের ইউরো কাপ জয়কেও। বললেন, 'আমি পর্তুগালের হয়ে তিনটে ট্রফি জিতেছি। আমি আসার আগে পর্তুগাল একটা ট্রফিও জিততে পারেনি। এটাই বাস্তব।'

রোনাল্ডোর সময়েই পর্তুগাল ২০১৬ সালের ইউরো কাপ এবং ২০১৯ ও ২০২৫ সালের নেশনস লিগ জিতেছে। ইউরো কাপকে বিশ্বকাপের সঙ্গে তুলনা করেন রোনাল্ডো। তিনি বলেন, 'পর্তুগাল এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ট্রফি জিতেছে ২০১৬ সালে। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ। ইউরো কাপ জয় আমার কাছে বিশ্বকাপ জেতারই সমান।'

ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো বলেন, 'আমি আবেগের বশে কোনও সিদ্ধান্ত নিই না। তাঁর মতে, স্পেনের বিরুদ্ধে পর্তুগাল কঠিন লড়াই উপহার দিয়েছিল এবং ম্যাচটি যে কোনও দলের পক্ষেই যেতে পারত। তিনি বলেন, 'স্পেন কিছুটা ভাগ্যবান ছিল। এটা এমন একটি ম্যাচ ছিল, যেটা যে কোনও দল জিততে পারত।'

নিজের কেরিয়ারে রেকর্ড ছুঁয়ে ষষ্ঠবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নেন রোনাল্ডো। টুর্নামেন্টে তিনি তিনটি গোলও করেন। তবে তাঁর পারফরম্যান্স সত্ত্বেও পর্তুগালকে শিরোপা জেতাতে পারেননি।

দুই দশকের বর্ণময় বিশ্বকাপ কেরিয়ারে রোনাল্ডো কখনও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে পারেননি। তবুও এই হতাশার মধ্যেও জাতীয় দলের হয়ে নিজের অবদান নিয়ে তিনি গর্বিত। রোনাল্ডো মনে করিয়ে দেন, তাঁর সময়েই পর্তুগাল ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলো অর্জন করেছে।

এবারের বিশ্বকাপের উজবেকিস্তান ম্যাচ পর্যন্ত ধরলে বিশ্বকাপে মোট ১০টি গোল করেছেন রোনাল্ডো। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে ইরানের বিরুদ্ধে নিজের প্রথম গোল করেন তিনি। এরপর ২০১০ সালের বিশ্বকাপে তিনি উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে একটি গোল করেন। সেই ম্যাচে ৭-০ জিতেছিল পর্তুগাল। এরপর ২০১৪ বিশ্বকাপে ঘানার বিরুদ্ধে একমাত্র গোলটি করেন রোনাল্ডো। ২০১৮ বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করেন তিনি স্পেনের বিরুদ্ধে।

একটি গোল করেন মরোক্কোর বিরুদ্ধেও। সব মিলিয়ে ওই বছর বিশ্বকাপে মোট ৪টি গোল করেন তিনি। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে তাঁর একমাত্র গোলটি আসে ঘানার বিরুদ্ধেই। আর তারপর চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচে জোড়া গোল করে ৬ বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ড গড়েন তিনি। আর রোনাল্ডোর এই রেকর্ড নিয়ে পোস্টও করেছে 'গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস'।