প্রেসিডেন্ট পদে হুমায়ুন কবীরবিজেপি (BJP) রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ময়দানে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পদ আগলে থাকা নিয়ে সরব হয়েছে। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে নানা সময় বিভিন্ন নেতারা ময়দানকে রাজনীতি মুক্ত করার চেষ্টা চালানো হবে বলে জানিয়েছেন। আর এর মধ্যেই শনিবার মহমেডান স্পোর্টিং (Mohammedan Sporting) ক্লাবের প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ শুরু করেন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। শাসক দলের মন্তব্যকে গুরুত্বই দিতে চাইছেন না নওদার বিধায়ক।
রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ময়দানে আনাগোনা একেবারেই নতুন নয়। শুধু বাংলা নয়, গোটা দেশে তার নজির রয়েছে। সে কথাই মনে করিয়ে দিলেন হুমায়ুন। বিসিসিআই-এর প্রাক্তন সচিব জয় শাহ এখন আইসিসি-র দায়িত্বে। তাঁর কথা মনে করিয়ে দিয়েই নিজের মত জানালেন হুমায়ুন। বলেন, ময়দান পুরোপুরি রাজনীতিমুক্ত হতে পারে না। তাঁর দাবি, এতদিন ময়দানে তৃণমূলের প্রভাব বেশি ছিল, সেই ভারসাম্য ফেরানোর চেষ্টা করা হবে। তবে রাজনীতি ও ময়দানকে সম্পূর্ণ আলাদা করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। উদাহরণ হিসেবে কল্যান চৌবের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং অমিত শাহর পুত্র জয় শাহর কথাও বলেছেন।
বর্তমানে ক্লাবের মোট দেনা প্রায় ১৩ কোটি ৯৭ লক্ষ টাকা। এক মাসের মধ্যে পুরো ঋণ শোধ করা সম্ভব না হলেও আগামী এক-দু’সপ্তাহের মধ্যে অন্তত অর্ধেক দেনা মেটানোর চেষ্টা করা হবে। শীঘ্রই বৈঠক ডেকে ক্লাবের নতুন প্রশাসনিক কাঠামো ও বিভিন্ন পদে কারা থাকবেন, তা ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন নতুন সভাপতি। বলছেন ক্লাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেই এগোবেন। একসময় তাঁকে ‘সংখ্যালঘুদের মুখ্যমন্ত্রী নন” বলাতেন। সাম্প্রতিক সময়ে সেই মন্তব্য আর শোনা যায় না বলেও জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক সমীকরণ প্রসঙ্গে হুমায়ুন বলেন, প্রয়োজন হলে তিনি আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির সঙ্গেও কাজ করতে প্রস্তুত। এতে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। প্রসঙ্গত নৌশাদ সিদ্দিকি মহমেডান স্পোর্টিংয়ের সংকটে পাশে দাঁড়ানোর কথা বলেছিলেন। নতুন সভাপতি হুমায়ুন কবীর দায়িত্ব নিয়েই আর্থিক সংকট দূর করার আশ্বাস দিয়েছেন। বলেছেন, “দু’-চার জন মিলে ক্লাব চালানো সম্ভব নয়। সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ব্যক্তিগত আক্রমণ না করে ক্লাবের স্বার্থে মতামত জানাতে হবে।'