মিগুয়েল ফিগুয়েরাকে লাল কার্ডলড়াই করে ড্র করেছে ইস্টবেঙ্গল। বেঙ্গালুরু এফসি-র বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবারের ম্যাচের মূল আলোচনা তবুও মিগুয়েল ফিগুয়েরার লাল কার্ড। বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে। কারণ, দোষ কার? রেফারির ভুলের খেসারত দিতে হল ইস্টবেঙ্গলকে, নাকি মিগুয়েলই ভুল করে বিপদে ফেলে দিলেন নিজের দলকে? তা নিয়ে জোর তরজা সোশ্যাল মিডিয়ায়। এ ব্যাপারে মুখ খুললেন আলভিটো ডি কুনহা ও সৈয়দ রহিম নবী।
bangla.aajtak.in-কে রহিম নবী জানান, দোষ পুরোপুরি রেফারির। যে ব্যাপারটা হলুদ কার্ড দিয়ে মিটিয়ে নেওয়া যেত, সেটা লাল কার্ড কেন? পাশাপাশি বাংলার দলের প্রতি বঞ্চনার অভিযোগও তুলেছেন তিন প্রধানে খেলা তারকা। নবী বলেন, 'পুরো দোষটাই রেফারির। যে ঘটনাটা ঘটেছে সেটা একটা হলুদ কার্ড দিয়েই ছেড়ে দেওয়া যেত। সেটা না করে সরাসরি লাল কার্ড। আসলে এই রেফারিরা চায় না বাংলার কোনও দল চ্যাম্পিয়ন হোক। সে কারণেই এই চক্রান্ত। এতা কিন্তু শুধু ইস্টবেঙ্গলের ক্ষেত্রে নয়, মোহনবাগানের সঙ্গেও হচ্ছে আর হবে।' রেফারিদের দিকে তোপ দেগে নবী আরও বলেন, 'এরা কীভাবে রেফারি হয়? কোন যোগ্যতায়? ভারতীয় ফুটবলের উন্নতি নিয়ে আমরা অনেক কথা বলি। কিন্তু রেফারির মান ভাল না হলে ভারতীয় ফুটবলের উন্নতি সম্ভব নয়। ও যখন শট করল তখন হলুদ কার্ড দিলেই মিটে যেত।'
বেঙ্গালুরু ম্যাচের আগে সুনীল ছেত্রীদের সতীর্থ স্যাঞ্চেজকে লাল কার্ড দেখানো হলেও, তা ফেডারেশনের সিদ্ধান্তে হলুদ কার্ড হয়ে যায়। এ নিয়েও মুখ খুলেছেন নবী। তিনি বলেন, 'এটা কেমন সিদ্ধান্ত রেফারির? এটা বলে দিচ্ছে কী অবস্থা।' পাশাপাশি মিগুয়েলকে গালাগাল করা হয়, বলে অভিযোগ। সেই অভিযোগের কথা শুনে আরও রেগে যান নবী। তিনি বলেন, 'একটা ফুটবলারের খেলার সময় মাথা ঠিক থাকে না। আর তা না হলে জিনেদিন জিদানের মতো ফুটবলার মাত্তেরাজ্জিকে বুকে মাথা দিয়ে আঘাত করতেন না। এ ব্যাপারটা রেফারিদের সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের সময় হলে না, রেফারি মাঠ থেকে বেরোতে পারত না।'
লাল-হলুদ যে বঞ্চনার শিকার তা ধরা পড়েছে দেবব্রত সরকারের কথাতেও। ম্যাচের শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, 'কেন বারবার ইস্টবেঙ্গলকেই এই রকম খারাপ রেফারিং নিয়ে ভুগতে হবে? মিগুয়েলের রেড কার্ড নিয়ে আমরা আবেদন করছি। কিন্তু আমার এই ম্যাচ কি আর ফিরিয়ে দিতে পারবে? দিনের পর দিনই এইরকম খারাপ রেফারিং হচ্ছে। আগে রিলায়েন্স দায়িত্বে ছিল তখনই এক, এখন এআইএফএফ লিগ চালাচ্ছে তখনও এক। রেফারির ভুলে বছরের পর বছর আমরাই কেন ভুগব?'
যদিও মিগুয়েলকে একেবারে নির্দোষ বলে মানতে নারাজ আরেক প্রাক্তন ফুটবলার আলভিটো ডি'কুনহা। যদিও তিনি মনে করেন, প্রাথমিক ভাবে দোষটা রেফারির। নবীর সুরে সুর মিলিয়েই তিনি বলেন, 'আমার মনে হয়, প্রথম ভুলটা চতুর্থ রেফারির। তিনি তো সবটা দেখেছেন। তাঁর উচিত ছিল গোটা ঘটনাটা বুঝে নিয়ে রেফারির সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া। তা হয়নি। সোজা লালকার্ড।' তবে ব্রাজিলিয়ান তারকার দোষ গোপন করছেন না ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন ক্যাপ্টেন। তিনি বলেন, 'ঘটনাটা প্রথমিকভাবে জকা ঘটেছে তাতে মিগুয়েল দোষী নয়। তবে মাথা গরম করে ও যেটা করেছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। ও মাঠে থাকলে ম্যাচটা জিতে যেতে পারত লাল-হলুদ।' এমনটাই মত গোয়ানিজ ফুটবলারের।
তিনি মনে করেন, 'মাথায় রাখতে হবে, ও দলের ট্রাম্প কার্ড। তাই এসব ভুল; কখনই করা উচিত নয়। মনে রাখতে হবে, ইস্টবেঙ্গল আবেদন করলে এই সাসপেনশন উঠেও যেতে পারত। কিন্তু এরপর মিগুয়েল যা করেছে, তাতে সেই সাসপেনশন আরও বাড়তে পারে। এটাই আমার আশঙ্কা। ইস্টবেন্মগলের কিন্তু ওকে দরকার সেটা মাথায় রাখা উচিত ছিল।'