শতদ্রু দত্ত ও লিওনেল মেসি৩৭ দিন পর অবশেষে জামিন পেলেন শতদ্রু দত্ত। দুইবার জামিন খারিজ হয়ার পরে, অবশেষে কিছুটা স্বস্তি পেলেন লিওনেল মেসিকে ভারতে নিয়ে আসার কারিগর। কলকাতায় লিওনেল মেসির অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা হওয়ায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। প্রথম দফায় ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয় শতদ্রুকে। তারপর ২ দফায় বিচারবিভাগীয় হেফাজত দেওয়া হয়েছিল।
গত ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে প্রবল বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। সেদিনই মূল আয়োজক শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করা হয়। দেড় ঘণ্টার জন্য নির্ধারিত অনুষ্ঠান মাত্র কুড়ি মিনিটের মধ্যেই শেষ করে মাঠ ছাড়েন মেসি। তদন্তকারীদের কাছে শতদ্রু দত্ত জানান, মেসি মাঠে ঢোকার পর কতক্ষণ থাকবেন, তা নিয়ে যে ফ্লোচার্ট আগে থেকেই তৈরি করা হয়েছিল, মাঠে প্রবেশের পরই সেই পুরো পরিকল্পনা ভেঙে পড়ে। তিনি শুধু আয়োজন করেছিলেন, শনিবারের বিশৃঙ্খলার জন্য তিনি কোনওভাবেই দায়ী নয় বলে জানিয়েছিলেন ধৃত শতদ্রু দত্ত।
অভিযোগ মাঠে মেসি ঢোকার পরেই শুরু হয়ে যায় বিশৃঙ্খলা। দর্শকরা অভিযোগ করতে থাকেন, তাঁরা প্রচুর টাকার টিকিট কেটে মাঠে এলেও, দেখতে পাননি তাঁদের প্রিয় তারকাকে। মাঠের মধ্যে ঢুকে পড়ে ছবি তোলার হিড়িক বিরক্ত হচ্ছিলেন মেসি। এদের মধ্যে অনেকেই মেসির গায়ে হাত দিয়েও ছবি তুলছিলেন বলে অভিযোগ। এর পরেই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম তারকা যুবভারতী ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর পরেই ক্ষিপ্ত হ্যে ওঠে জনতা।
গোটা স্টেডিয়াম জুড়ে চলতে থাকে তান্ডব। চেয়ার ভেঙে ফেলা হয়, মাঠের মধ্যে ঢুকে সম্প্রচারকারী সংস্থার নানা যন্ত্রাংশ খুলে ফেলা হয়। চুরি করে নেওয়া হয় স্টেডিয়ামের বাইরে থাকা ফুলের টবও। পুলিশও সেভাবে কিছু করতে পারেনি। পরিস্থিতি অনেকটাই হাতের বাইরে চলে যেতে থাকে। পরে যদিও অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাফ এনে পরিস্থিতি সামাল দেয় প্রশাসন। সেই সময়ই হায়দরাবাদ যাওয়ার পথে এয়ারপোর্ট থেকে শতদ্রুকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার তাঁর জামিন মঞ্জুর হল। তবে তিনি কলকাতার বাইরে যেতে পারবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছে আদালত।