scorecardresearch
 

ছয় মারলেই বিদেশে যাচ্ছে বল, হাড় হিম এই ক্রিকেট চলছে কোথায়!

চুটিয়ে ক্রিকেট খেলবেন, অথচ চার-ছয় মারবেন না তা কি হয়! ছোটবেলায় পাড়ার মাঠে গিয়ে ছয় মেরে প্রতিবেশীর জানলার কাচ ভাঙা তো প্রত্যেকের জীবনের এক দুষ্টু-মিষ্টি স্মৃতি। কিন্তু যে ক্রিকেট মাঠের কথা শোনাব, তা শুনলে মাথার চুল খাড়া হয়ে যেতে পারে। চার-ছয় কিছুই মারা বারণ।

প্রতীকী ছবি প্রতীকী ছবি
হাইলাইটস
  • বল মারলেই বিদেশে ছুটছে বল
  • বিএসএফ এর অনুমতি নিয়ে বল আনতে হয়
  • বিকল্প মাঠ নেই, তাই সীমান্তেই চলছে খেলা

চার কিংবা ছয়ে বারণ

চুটিয়ে ক্রিকেট খেলবেন, অথচ চার-ছয় মারবেন না তা কি হয়! ছোটবেলায় পাড়ার মাঠে গিয়ে ছয় মেরে প্রতিবেশীর জানলার কাচ ভাঙা তো প্রত্যেকের জীবনের এক দুষ্টু-মিষ্টি স্মৃতি। কিন্তু যে ক্রিকেট মাঠের কথা শোনাব, তা শুনলে মাথার চুল খাড়া হয়ে যেতে পারে। চার-ছয় কিছুই মারা বারণ।

বল মারলেই বিদেশে

খেলার নিয়মটা আগে বলি। এখানে চার মারুন কিংবা ছক্কা। ফল একই, সোজা আউট। ভাবছেন, এ আবার কী! এ কেমন নিয়ম? এমন হলে খেলার মজা কোথায়? কিন্তু কারণ শুনলে বিরক্তি নয়, হাড় হিম হয়ে যেতে পারে।কারণ এখানে চার কিংবা ছয় মারলে বল সোজা গিয়ে পড়ে অন্য দেশে। সীমান্ত পারের এমন খেলার কথা শুনে আঁতকে উঠতে বাধ্য।

ভয়ধরানো খেলা কোচবিহারে

ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে ক্রিকেট খেলা। কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ মহকুমা এলাকায় বাগডোগরা মোড়ের ফুলকাডাবরি এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ কাঁটাতারহীন সীমান্তে খুদেদের ক্রিকেট খেলা এমনই ভয় ধরানো। বাউন্ডারি মারলেই যদি বল বিদেশের রাস্তা ধরে, তাহলে এমন খেলা খেলতে চাইবেন!

দৌড়ে রান নিন

যত ইচ্ছে দৌড়ন। দৌড়ে রান নিন। খেলার সময় রান বিটুইন দ্য উইকেট হলে ঠিক। নইলে নট-আউট,  কিন্তু বাউন্ডারি অথবা ছক্কা মারলেই সোজা আউট। তাই নিজেরাই এই নিয়ম তৈরি করে ক্রিকেট খেলায় মত্ত এই যুবকবৃন্দের দল। 

স্কুল কলেজ নেই তাই চলছে খেলা

করোনাকালে স্কুল-কলেজ সব বন্ধ আর পড়াশোনা  অনলাইনে। মোবাইল নেটওয়ার্কের খুব  সমস্যা থাকায় অনলাইন পড়াশোনা শিকেয় উঠেছে। কিন্তু পড়াশোনা বাদ গেলেও স্বাস্থ্যশিক্ষা ঠিকই বজায় রেখেছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মেখলিগঞ্জ মহকুমা অন্তর্ভুক্তি বাগডোগরা ফুলকাডাবরি গ্রামের ছেলেরা।

সীমান্ত এখানে লাইন অব কন্ট্রোল

বাউন্ডারি মানে বাংলাদেশের মাটি। তবে কাঁটাতার না থাকলেও কিন্তু খোলা আকাশ, কৃষি মাঠের উপর বিএসএফের টহলদারি রয়েছে। তাই বাউন্ডারির ওপারে বল গেলেই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অনুমতি প্রয়োজন। তাতে খেলা থেমে যায়। সীমান্তে কাঁটাতার না থাকলেও বিএসএফ এর অনুমতি নিতে হয় । 

বিএসএফ এর বিরক্তি আছে, বাধা নেই

চাষের মাঠকে খেলার মাঠে পরিণত করে রীতিমতো ক্রিকেট খেলতে মত্ত ভারতীয় তরুণ কচিকাঁচারা। প্রতিমুহূর্তে সীমান্তরক্ষীরা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে টহলদারি চালিয়ে যায়। বল চলে যাওয়ার কারণে চাপ আরও বেশি রক্ষী বাহিনীর। সদা সতর্ক। তবে তা বলে খেলতে বাধা দেন না তাঁরা। সব মিলিয়ে এক নতুন খেলা-ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে।

অনুমতি নিয়ে বল আনতে যেতে হয় 

স্থানীয় দীপেন রায় বলেন যে উচ্চমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পরীক্ষা না হওয়ার ফলে ছেলেদের হাতে অফুরন্ত সময়।তাই কৃষি জমি খেলার মাঠে পরিণত করে, ছেলেরা ক্রিকেট খেলে আর নিজেরাই নিয়ম তৈরি করেছে, যে বাউন্ডারি অথবা ছক্কা মারলে সে খেলোয়াড় আউট। কারণ চার অথবা ছক্কা মারলে বলটি  গিয়ে পড়ে বাংলাদেশের মাটিতে তাই আবার বল ফেরৎ পেতে সীমান্তরক্ষীদের কাছে অনুমতি নিয়ে খেলা শুরু করতে অনেকটা দেরি হয়ে যায়।

বিকল্প মাঠ না থাকায় এই বন্দোবস্ত

তবে গোপাল সোনার নামে একজন জানায়, বাউন্ডারি অথবা ছক্কা মারবে তারা খেলার থেকে আউট হয়ে গেলেও ইচ্ছে করে তারা যে ওই মাঠে খেলেন, তা কিন্তু নয়। আসলে বিকল্প মাঠ না থাকায় এই অবস্থা।


 

 
; ; ;