আজ বিশ্ব দুগ্ধ দিবস (World Milk Day)। ২০০১ সালের আজকের দিনেই বিশ্ব খাদ্য হিসাবে দুধের গুরুত্বকে বোঝাতে রাষ্ট্রসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (Food and Agriculture Organisation /FAO) বিশ্ব দুগ্ধ দিবসের সূচনা করেন।
দুধের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে নতুন করে কাউকে কিছু বোঝানোর নেই। দুধ প্রতিটি ব্যক্তির জন্য স্বাস্থ্যকর, সুষম ডায়েটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এবং বিশ্ব দুগ্ধ দিবস এই বার্তাটি ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য উপযুক্ত দিন।
বিশ্ব দুগ্ধ দিবসে (World Milk Day) পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি অন্যতম শিশু-স্বাস্থ্য প্রকল্পের উল্লেখ না করলেই নয়। প্রকল্পটির নাম ‘মধুর স্নেহ’। এটি একটি মানব দুধের আধুনিক ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা (Human Milk Bank) বা সংরক্ষণ প্রকল্প।
বছর দুয়েক আগে ইউনিসেফের রিপোর্টে দাবি করা হয়, ভারতে প্রতি বছর অপুষ্টির কারণে অন্তত ৬৯ শতাংশ শিশুর (যাঁদের বয়স ৫ বছরেরও কম) মৃত্যু হয়। করোনা অতিমারীর জেরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলেই অনুমান বিশেষজ্ঞদের।
এ রাজ্যেও প্রতি বছর হাজার হাজার শিশু অপুষ্টি জনিত নানা সমস্যায় ভোগে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের অপুষ্টি জনিত শারীরিক সমস্যা দূর করতে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়াতে তাদের প্রয়োজন হলুদ দুধের (Human Milk)।
শিশুর জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে মায়ের স্তন থেকে যে হলদেটে রঙের দুধ নির্গত হয়, সেই দুধই সর্বাধিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা। রাজ্যের অপুষ্টি জনিত নানা সমস্যায় ভোগা শিশুদের বাঁচাতেই ‘মধুর স্নেহ’ নামের প্রকল্পটি রাজ্য সরকারের উদ্যোগে চালু করা হয়।
আগস্ট, ২০১৩ সালে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে এই ‘মধুর স্নেহ’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে। এই প্রকল্পের হাত ধরে রাজ্যের একাধিক জেলায় গড়ে উঠেছে মানব দুধের আধুনিক ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা (Human Milk Bank) বা সংরক্ষণ প্রকল্প।