scorecardresearch
 

গরু-বাছুর-জমি দান করে হওয়া যেত ইঞ্জিনিয়ার, বিহারের সেই কলেজ ব্যাঙ্কের কোপে

কলেজের ফি টাকা পয়সা না হলেও চলতো। গরু-বাছুর দিলেও কলেজে ভর্তি হওয়া যেত। এমনই অভিনব কলেজ রয়েছে আমাদের দেশেই। কিন্তু শেষমেশ এমন রামরাজ্যের সুখ সইল না ইন্জিনিয়ারিং পড়ুয়াদের কপালে। কলেজের গেটে তালা লাগিয়ে দিল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

ব্যাংকের খপ্পরে হবু ইঞ্জিনিয়ারদের ভবিষ্যৎ ব্যাংকের খপ্পরে হবু ইঞ্জিনিয়ারদের ভবিষ্যৎ
হাইলাইটস
  • গরু-বাছুরই ভর্তির ফি ছিল কলেজে
  • গরিবদের জন্য স্বর্গদ্বার ছিল এই কলেজ
  • বন্ধের মুখে কলেজ, হতাশ পড়ুয়ারা

কলেজের ফি টাকা পয়সা না হলেও চলতো। গরু-বাছুর দিলেও কলেজে ভর্তি হওয়া যেত। এমনই অভিনব কলেজ রয়েছে আমাদের দেশেই। কিন্তু শেষমেশ এমন রামরাজ্যের সুখ সইল না ইন্জিনিয়ারিং পড়ুয়াদের কপালে। কলেজের গেটে তালা লাগিয়ে দিল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

ঋণ দিচ্ছে না ব্যাংক

বিহারের বক্সার জেলার ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ কর্তৃপক্ষ ব্যাংক ঋণ দেয়নি। সে কারণেই কলেজে তালা লাগিয়ে দিয়েছে ব্যাংক। প্রিন্সিপাল জানিয়েছেন, যে গরিব বাচ্চাদের জন্য এই শিক্ষা কেন্দ্র খোলা হয়েছিল। এটি বিশ্বের এক আলাদা কায়দার কলেজ ছিল, যেখানে কৃষকেরা নিজের জমি দান করে এবং কিংবা নিজের গরু এবং বাছুর কলেজে দান করে ইঞ্জিনিয়ারিং এর কোর্স পুরো করতে পারে। 

কীভাবে এই ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ তৈরি হল ?

এক ব্যক্তির বৈজ্ঞানিক চিন্তা ভাবনা নিয়ে গ্রামের গরীব ছাত্রদের জন্য তৈরি করার চিন্তাভাবনা করেন। বিহারের বক্সারের আরিয়াও গ্রামে যখন ২০১০ সালে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সূচনা করা হয়, তখন কেউ ভাবতে পারিনি যে তার নিজের কলেজের ফি এর প্রকারভেদ নিয়ে খুব দ্রুতই তারা শিরোনামে আসতে চলেছে। হয়েছেও তেমনই। টাকার বদলে একটা গরু অথবা বাছুর দিয়ে যে কোনও কিষাণের ছেলেরা এই কলেজে ভর্তি হতে পারে। বা কারও ক্ষেতের ধান অথবা পড়ে থাকা জমি দান করলেও ছেলেমেয়েদের দিব্যি কলেজে ভর্তি করিয়ে ইঞ্জিনিয়ার করে বের করতে পারেন বাবা-মা।

গরিবদের উচ্চ শিক্ষা প্রদান করার জন্য কলেজের স্থাপনা করা হয়েছিল

এই কারণে চার কোটি টাকা লোন নেওয়া হয়। কলেজের ফাউন্ডার একে সিং জানিয়েছেন যে ব্যাংকে ২০১৩ পর্যন্ত সবই কিস্তি ঠিকঠাক শোধ করা হচ্ছিল। এর মধ্যে ১৫ কোটি টাকার দ্বিতীয় কিস্তি শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু ব্যাংক লোন দেওয়ার কারণ দেখিয়ে টাকা দিতে অস্বীকার করে। একে সিং জানিয়েছেন যে, যেহেতু লোন অ্যামাউন্ট বেশি, এ কারণে ব্যাংক জানিয়েছে যে আমাদের কাছে কেবল ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত লোন দেওয়ার ক্ষমতা আছে। ফলে আমরা পাঁচ কোটি টাকার বেশি ঋণ দিতে পারব না। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, যে কলেজে টাকা না দিলে ডেভলপমেন্ট বন্ধ হয়ে যাবে এবং কলেজ বন্ধ করতে হবে ২০১০ এর শুরু হওয়া এই কলেজের কেমিস্ট্রির প্রফেসর এবং তার কলেজের বই-খাতার দায়িত্বপ্রাপ্ত রাহুল রাজ ২০১৭ সালের কলেজ বন্ধ হওয়ার পর থেকে নিজের জিনিসপত্র দেখভালের কাজ করে যাচ্ছেন।

কলেজ এখন মোষের গোশালা এ পরিণত হয়েছে

রাহুলের সঙ্গে আজতক টিম কথা বলতে সেখানে যখন পৌঁছয়, সেখানে দেখা যায়, গেটের সামনে বড় করে লেখা রয়েছে যে ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া এই সম্পত্তি বন্ধক রেখেছে। এখন এটি ব্যাংকের সম্পত্তি। যেটিকে শুধুমাত্র ব্যাংক বিক্রি করতে পারে। ১৬ একর জমির ওপর তৈরি কলেজ আলাদা আলাদা বিভাগের বিল্ডিং তৈরি করা হয়েছে। যেখানে মুখ্য বিল্ডিং এর গেটের তালা লাগানো। অন্যদিকে গেট ভেঙে পড়েছে। এই অবস্থায় কলেজ এখন মোষের আস্তাবলে পরিণত হয়েছে। দুটি সিকিউরিটি গার্ড রয়েছে যারা শুধুমাত্র মোষ তাড়ানোর কাজ করেন।

কলেজ খোলার আশায়া পড়ুয়ারা

অভিনব ভাবনায় এই কলেজ বিখ্যাত হয়েছিল সেখানে গরিব পরিবারের ছেলেমেয়েরা অত্যন্ত লাভবান হয়েছিল এবং দান করে ইঞ্জিনিয়ার এই পদ্ধতি আচমকা ব্যাংকের সহযোগিতায় থমকে গিয়েছে এখন চাইছেন যে দ্রুত কলেজ চালু হোক পঠন-পাঠন শুরু হোক যাতে তাদের অধরা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের স্বপ্ন পূরণ হতে পারে