scorecardresearch
 

Viral : করোনায় মৃত স্ত্রী, মন্দির বানিয়ে মূর্তি প্রতিষ্ঠা স্বামীর

করোনায় মারা গিয়েছেন স্ত্রী। শোকে মূহ্যমান স্বামী ও পুত্র স্ত্রী ও মাকে ছাড়তে রাজি নন। তাহলে উপায়? স্ত্রীর মন্দির বানিয়ে মূর্তি প্রতিষ্ঠা করলেন বাবা-ছেলে। অবাক গোটা দেশ।

বাড়ির সামনে স্ত্রীর মূর্তি বাড়ির সামনে স্ত্রীর মূর্তি
হাইলাইটস
  • স্ত্রীর মত্যুতে শোক ভুলতে মন্দির তৈরি
  • মন্দিরে মূর্তি প্রতিষ্ঠা ও প্রাণ পত্তন
  • বাড়ির সামনেই মন্দির, সঙ্গে থাকবেন স্ত্রী

সম্রাট শাহজাহান স্ত্রীর স্মৃতিতে কাতর হয়ে তাকে চির স্মরণীয় করে রাখতে তাজমহল বানিয়েছিলেন। এ যুগেও যে শাহজাহানদের অভাব নেই তার জলজ্যান্ত প্রমাণ মিলল আর কোথাও নয়, এই ভারতেই।

বাড়ির সামনেই স্ত্রী মন্দির ও মূর্তি

মানুষ দেবদেবী-মহাপুরুষের মন্দির বানান। কিন্তু মধ্যপ্রদেশের সাজাপুর জেলায় করোনায় মৃত স্ত্রীর শোকে কাতর হয়ে তাকে ভুলতে না পেরে তাকে রোজ দুবেলা যাতে দেখতে পান। তাই ঘরের সামনেই স্ত্রীর মন্দির বানিয়ে ফেললেন স্বামী। এমনভাবে মন্দির তৈরি হলো যাতে বাড়ি থেকে বেরোতে এবং ঢুকতে যেন স্ত্রীর দর্শন হয়। স্ত্রী নেই। তাই স্ত্রীর মন্দিরে মূর্তির পরামর্শ নিয়ে বাকি জীবন কাটিয়ে দেবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

গীতাবাঈ

করোনায় মৃত্য়ু মানতে পারেননি

স্বামী তিন ফিট উঁচু স্ত্রীর প্রতিমা স্থাপন করেছেন। মূর্তির সিঁথিতে সিঁদুর। ঘোমটা দিয়ে গৃহবধূ বসে রয়েছেন। শান্ত-সৌম্যভাবে। ঠিক যেন বাড়িতেই বসে রয়েছেন। মায়ের মূর্তি সামনে দেখে ছেলেমেয়েরাও খুশি। সৎখিরা গ্রামের বানজারা সমাজের নারায়ন সিং রাঠোর নিজের স্ত্রী এবং পুত্র নিয়ে সুখের সংসার করছিলেন। টানাপোড়েনের সংসারে বাহুল্য তেমন ছিল না। তবু সুখশান্তি ছিল বলে দাবি করেছেন নারায়ন সিংহ। এরই মধ্যে করোনার ঝটকায় মৃত্যু হয় স্ত্রী গীতাবাঈয়ের। গীতাদেবী বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এবং রীতিনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন এবং সেখানে যুক্ত থাকতেন। ভজন-কীর্তনে প্রতিদিন যেতেন।

স্ত্রীর পরামর্শ নিয়ে চলতেন, মৃত্যুতে অভাব বোধ করেছেন

এরই মধ্যে করোনার দ্বিতীয় ওয়েভে আক্রান্ত হন গীতাবাঈ। তার শরীর অসুস্থ হতে থাকে। তাকে চিকিৎসাকরেও বাঁচানো যায়নি। গীতাদেবীর ছেলে সঞ্জয় ওরফে লাক্কি জানিয়েছেন, চিকিৎসকেরা মায়ের চিকিৎসার জন্য অনেক চেষ্টা করেন তবুও তার শরীর ভালো হয়নি। লক্ষাধিক টাকা খরচ করেও মাকে বাঁচিয়ে তোলা যায়নি। গত ২৭ এপ্রিল মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। সব সময় মায়ের পরামর্শ নিয়ে চলতেন লাকি। নারায়ণও স্ত্রী বলতে ছিলেন অজ্ঞান। 

মন্দির

স্ত্রীকে সঙ্গে রাখতে মন্দির স্থাপন

তাই দুজনে পরামর্শ করে গীতাবাঈয়ের মূর্তি স্থাপন করে মন্দির তৈরি করে ফেলেন তাঁরা। লাক্কি জানিয়েছেন, মায়ের চলে যাওয়ার পর গোটা পরিবার ভেঙে পড়েছে। এর মধ্যে আমরা সবাই আলোচনা করি ঠিক করি মন্দির বানিয়ে মায়ের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করব। বাবার উৎসাহে মায়ের মৃত্যুর পর তার তিন দিনের কাজের দিন ২৯ এপ্রিল তার প্রতিমা বানানোর অর্ডার দেওয়া হয়। জেলা সদরে প্রতিমা বিক্রয় কেন্দ্রের শিল্পীর সঙ্গে মিলে আলোচনা করে রাজস্থানের শিল্পী দিয়ে প্রতিমা তৈরি করতে বরাত দেওয়া হয়।

রাজস্থানের শিল্পী দিয়ে প্রতিমা তৈরি

দেড় মাস পর প্রতিমা তৈরি হয় এবং তা বাড়িতে নিয়ে আসেন তাঁরা। নারায়ণ সিংয়ের দাবি, প্রতিমা সামনে রয়েছে। তা কথা বলে না ঠিকই, কিন্তু সবসময় আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। একারণে ঘরের ঠিক বাইরেই মন্দির স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাতে সব সময় চোখের সামনেই থাকেন তিনি। নিয়ম এবং বিধি মেনে প্রতিমার প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। লাক্কি জানিয়েছেন, এখন প্রতিদিন প্রতিদিন সকালে উঠে মায়ের মূর্তিতে প্রণাম করে কাজকর্ম শুরু করেন। তাদের এই মন্দিরের এবং প্রতি মায়ের মূর্তি স্থাপন করার কীর্তি লোকমুখে মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। তাই অনেকেই এখন মন্দির দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন।

 

 
; ; ;