scorecardresearch
 

জেতা আসনে টিকিট পাননি স্ত্রী, গৌতম দেব বলছেন "সময় নেই" ওঁর

জেতা আসনেই টিকিট পেলেন না খোদ প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিধায়ক গৌতম দেবের স্ত্রী। স্বামী গৌতমকে বিধায়ক পদ হারিয়ে ফের কাউন্সিলর হওয়ার লড়াইয়ে লড়তে হচ্ছে। সেখানে স্ত্রী জেতা আসনে টিকিট না পাওয়ায় কিছুটা ধাক্কা খেতে হচ্ছে। মুখে যদিও সময় নেই তাই টিকিট নেননি বলে জানিয়েছেন তিনি।

Advertisement
গৌতম দেব-শুক্লা দেব গৌতম দেব-শুক্লা দেব
হাইলাইটস
  • জেতা আসনে টিকিট পেলেন না শুক্লা দেব
  • প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম দেবের ক্ষমতা হারানোই কারণ!
  • গৌতমবাবু বলছেন সময় দিতে পারবেন না স্ত্রী

জেতা আসনে এবার টিকিট পেলেন না গৌতম দেবের স্ত্রী শুক্লা দেব। গতবারের কাউন্সিলার হয়েও তাঁকে এলাকায় প্রথম কমাস পর থেকে আর দেখা যায়নি। যেখানে তিনি তৎকালীন মন্ত্রীর স্ত্রী, তাঁর কাছ থেকে আরও পরিষেবা আশা করেছিল এলাকাবাসী। যদিও এলাকার তৃণমূল কর্মীদের একাংশের দাবি, শুক্লাদেবী না থাকলেও এলাকায় পরিষেবায় কোনও সমস্যা হয়নি। বকলমে তাঁর হয়ে কাজ চালিয়েছেন ওয়ার্ডের স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের একাংশ। যদিও গৌতম দেব বিষয়টিতে সংসারের চাপেই স্ত্রীকে টিকিট দেওয়া হ য়নি বলে জানিয়েছেন।

বরাবর ডানপন্থী ওয়ার্ড

শিলিগুড়ি পুরনিগমের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বরাবর ডানপন্থী ওয়ার্ড হিসেবেই পরিচিত। এই ওয়ার্ডে বামফ্রন্ট তাঁদের সেরা সময়েও কোনও দিন জিততে পারেনি। আগে কংগ্রেস এবং পরে তৃণমূলই এখান থেকে জিতে এসেছে।এক সময় গৌতম দেব এখান থেকে কাউন্সিলর হয়ে এসেছেন। পরবর্তীতে সংরক্ষণের কারণে তাঁর বৌদি এই ওয়ার্ডে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের টিকিটে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন। গতবার মহিলা সংরক্ষিত ওয়ার্ড হওয়ায় এবং ওয়ার্ডে পরিবারের মধ্যেই কাউন্সিলর যাতে থাকে, সে উদ্দেশ্যে গৌতমবাবুর স্ত্রী শুক্লা দেবকে প্রার্থী করা হয়।
 

জেতা আসনে টিকিট পেলেন না প্রাক্তন মন্ত্রীর স্ত্রী

সংরক্ষণ উঠে যাওয়ার পর সেই আসনেই গৌতম দেব ফিরে এসেছিলেন। গতবার আবার আসনটি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত হয়ে যাওয়ায় গৌতম দেব তার স্ত্রীকে ছেড়ে দিয়েছিলেন। ফলে ওই ওয়ার্ড থেকে জয়ী হয়ে কাউন্সিলর হন শুক্লা দেব। তবে তখন তিনি তৃণমূলের জেলা সভাপতি ছিলেন। এবার তৃণমূলের জেলা সভাপতি দায়িত্বে তিনি নেই। রাজ্যের মন্ত্রী কিংবা বিধায়ক হতে পারেননি তিনি। তাই এবার ওই ওয়ার্ডটি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও গৌতমবাবু স্ত্রীর জন্য ওই ওয়ার্ডে টিকিট আদায় করতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের দলীয় নেতৃবৃন্দ দলের সিদ্ধান্তের কথা বললেও এখন বিভিন্ন মহলে এটাই চর্চা হচ্ছে তাহলে গৌতম বাবু কী দলে ক্ষমতা অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছেন? যদিও সে কথা মানতে নারাজ তৃণমূলের নেতৃত্বরা।

Advertisement

টিকিট পাননি রঞ্জনের স্ত্রীও

প্রসঙ্গত এবারের নির্বাচনে কুড়ি নম্বর ওয়ার্ড থেকে রঞ্জন সরকার তার স্ত্রীকে প্রার্থী করতে চেয়েছিলেন। আসনটি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত হওয়ার পরেও সেখানে রঞ্জনবাবুর স্ত্রী প্রার্থী হতে পারেননি। সূত্রের খবর, করোনাকালে রঞ্জনবাবু স্ত্রীকে প্রার্থী করার জন্য অনেকদিন আগে থেকেই এলাকার মানুষদের সেবায় কাজে লাগিয়েছিলেন। যদিও শেষমেষ ওই ওয়ার্ডে প্রার্থী হতে পারেননি রঞ্জনবাবুর স্ত্রী। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার শিলিগুড়িতে প্রার্থী করা ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত হয়েছিল এক পরিবারে একজনকে টিকিট দেওয়া হবে। স্ত্রী না হলে স্বামী। তাই সে কারণেই নাকি রঞ্জনবাবু প্রার্থী হলেও তাঁর স্ত্রী প্রার্থী হতে পারেন নি। তাহলে সে ক্ষেত্রে কিী গৌতম দেবের স্ত্রী সেই নিয়মের জন্য তার জেতা আসন হলেও তিনি প্রার্থী হতে পারলেন না।

সময় দিতে পারবেন স্ত্রী, জানালেন স্বামী

এই প্রসঙ্গে গৌতম দেব বলেন, দলের সবাই আমার স্ত্রীকে প্রার্থী হতে বলেছিল। কিন্তু উনি ছেলেকে নিয়ে এবং সংসারের নানা কাজে ব্যস্ত থাকেন। ফলে তাঁর পক্ষে প্রার্থী হওয়া সম্ভব ছিল না। গত পাঁচ বছরে ওই ওয়ার্ড থেকে মানুষের ভোটে জয়ী হয়ে কাউন্সিলর হলেও মানুষের কাজে ঠিকমতো সময় দিতে পারেননি তিনি। তাই আমি মনে করেছি তার এবার প্রার্থী হওয়া সম্ভব নয়।

বর্তমান প্রার্থীর মুখে গৌতমের নাম

অন্যদিকে ওই ওয়ার্ডের এবারের তৃণমূল প্রার্থী মিলি সিনহা বলেন, এই ওয়ার্ডে ভোট হয় উন্নয়ন এবং গৌতম দেবকে দেখে। ফলে প্রার্থী যেই হোক, এখানকার মানুষ তৃণমূলের সাথেই রয়েছে। ফলে ওই ওয়ার্ড থেকে আমি বিপুল ভোটে জয়ী হব।

কড়া জবাব জেলা সভানেত্রীর

এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের জেলা সভাপতি পাপিয়া ঘোষ বলেন,  উনি নিজেই প্রার্থী হতে চাননি। তাছাড়াও ৪৭ টি ওয়ার্ড-এ প্রার্থী হতে চেয়ে অনেকেই আবেদন করেছিলেন। তাই সমবন্টনের জন্য প্রত্যেক কমিউনিটি থেকে বিবেচনা করে দল প্রার্থী ঠিক করেছে।

 

Advertisement