scorecardresearch
 

পাঁচ বছর আগে নদী ভাঙনে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল, আজ পর্যন্ত বিদ্যুৎ ফেরেনি

বিদ্যুৎ সেখানে স্বপ্ন। পাঁচ বছর আগে বিদ্যুৎ ছিল। কিন্তু নদী ভাঙনে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পাঁচ বছরেই সংযোগ আর ফেরেনি। কবে ফিরবে বিদ্যুৎ, আদৌ ফিরবে কি না, কেউ জানে না। টিভি, মোবাইল, অনলাইন ক্লাস গ্রামের মানুষের কাছে অন্য় গ্রহের গল্প।

প্রতীকী ছবি প্রতীকী ছবি
হাইলাইটস
  • পাঁচ বছর থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন
  • আবেদন-নিবেদনেও কাজ হচ্ছে না
  • বিদ্যুৎ এখন গ্রামবাসীর কাছে স্বপ্ন

,বিদ্যুৎ যেখানে পয়লা নম্বর স্বপ্ন

বিদ্য়ুৎ সংযোগ ছিল এক সময়। তারপর একবার নদীতে জল বেড়ে গেল। তাতে নদী ভাঙনে বিদ্যুতের খুঁটিও ভেসে যায়। ব্যস, ওই যে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হল, তারপর থেকে আর আজ পর্যন্ত বিদ্যুৎ ফেরেনি গ্রামে। ফলে পাঁচ বছর ধরেই আঁধারে ডুবে গোটা গ্রাম। কবে ফিরবে বিদ্যুৎ, আদৌ ফিরবে কি না, কেউ জানে না। টিভি, মোবাইল, অনলাইন ক্লাস গ্রামের মানুষের কাছে অন্য় গ্রহের গল্প।

উত্তরবঙ্গের সেই গ্রামে সব আছে শুধু বিদ্যুৎ নেই

আফ্রিকার কোনও প্রত্য়ন্ত জনপদ কিংবা পাণ্ডববর্জিত কোনও এলাকা নয়, এ রাজ্যেরই উত্তরবঙ্গের একটি গ্রাম। যেখানে মানুষ আছে। স্কুল আছে, অফিস আছে, পোস্ট অফিসও রয়েছে। নির্বাচন আছে, নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতিও আছে। তবু তারপরও প্রতিশ্রুতি রক্ষার তাগিদ তেমন নেই।

পাঁচ বছর থেকে বিদ্যুৎ নেই

পাঁচ বছর থেকে অন্ধকারে ডুবে কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জের ফলিমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ ফলিমারির আস্ত একটা গ্রাম। আবেদন নিবেদন করেও ফল হয়নি। হবে সে আশাও এখন ধীরে ধীরে ফিকে হচ্ছে। নিজেরাই বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন বিদ্যুৎ বোধহয় আর আসবে না। 

রায়ডাক ও সংকোশের মাঝখানে গ্রাম

স্থানীয় গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ফলিমারি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাটির অবস্থান একটু ইউনিক। দুটি নদীর মাঝখানে। একদিকে রায়ডাক অন্যদিকে সংকোশ। মাঝখানে গ্রামটি। তুফানগঞ্জ সদর থেকে ফলিমারি গ্রাম পঞ্চায়েতে যেতে হলে রায়ডাক নদী পার করেই যেতে হয়। দক্ষিণ ফলিমারি, সংকোশ নদী সংলগ্ন এলাকায় একটি জনবসতি রয়েছে।

নদী ভাঙনে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল, আর ফেরেনি

পাঁচ বছর আগে সেখানে বিদ্যুতের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু নদীতে জল বেড়ে যাওয়ায় ভাঙনের কবলে পড়ে নদীটি। ফলে এলাকায় জল ঢুকে যায়। বেশ কিছু খুঁটি জলে ভেসে যায়। সে সময় এলাকা যাতে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট না হয়ে যায়, তার জন্যই বাকি খুঁটি খুলে দেওয়া হয়। তাছাড়া নদীর বাঁধ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। সাময়িকভাবে তা করার কথা থাকলেও তারপর আর বিদ্যুৎ ফেরানো হয়নি।

পাঁচ বছর ধরে আবেদনেও ফল হয়নি

এলাকা থেকে এই অবস্থায় আর নতুন করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি ওই এলাকায়। রাস্তার ধারে পড়ে আছে বিদ্যুতের খুঁটি। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় সমস্যায় সম্মুখীন হতে হচ্ছে ওই এলাকার মানুষদের। মোমের আলোতেই পড়াশোনা করতে হচ্ছে ছোট ছোট শিশুদের। নতুন করে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য একাধিকবার বিদ্যুৎ দপ্তর  ও স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতে বিষয়টি জানিয়েও কাজের কাজ কিছু হয়নি বলে দাবি এলাকাবাসীদের।

বিদ্যুৎ বন্টন কোম্পানি উদাসীন, অভিযোগ প্রধানের

দক্ষিণ ফলিমারির গ্রামবাসীদের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে বলে স্বীকার করে নিয়েছেন ফলিমারি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান। তিনি জানিয়েছেন, ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য একাধিকবার বক্সিরহাট বিদ্যুৎ বন্টন কোম্পানির কার্যালয়ে আবেদন জানানো হয়েছে। তারা কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন না। এছাড়াও তিনি বলেন, গোটা ফলিমারি গ্রাম পঞ্চায়েতে, হালকা বৃষ্টি শুরু হতেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গ্রাম পঞ্চায়েত এর পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ বন্টন কোম্পানির অফিসে একাধিকবার বলা হয়েছে। অজ্ঞাত কারণে তারা গা করছে না। এবার বিষয়টি নিয়ে রাজ্য স্তরে জানাতে হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।